অধিকার ও সত্যের পক্ষে

শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে পাঠদান ব্যাহত

 মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এভিজেএম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিউলী আক্তারের সঙ্গে কয়েকজন সহকারী শিক্ষকের দ্বন্দ্বে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সৃষ্ট বিরোধের কারণে গত মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিউলী আক্তারকে অন্যত্র বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিউলী আক্তারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে জেলা প্রশাসন ও জেলা গোয়েন্দা সংস্থা। একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জয়নাল আবেদীনের দাখিল করা অভিযোগ পাওয়ার পরই এ তদন্ত শুরু হয়। অন্যদিকে দুই সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়ের করা জিডির তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গতকাল বুধবার সহকারী শিক্ষক জয়নাল আবেদীনকে সদর থানায় ডেকে নিয়েছে পুলিশ।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিউলী আক্তারের ফেসবুক আইডি জব্দ করে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে গতকাল বিকেলে নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিএসবি) পরিদর্শক নজরুল ইসলাম। জামায়াতের সঙ্গে শিউলী আক্তারের সম্পৃক্ততার যে অভিযোগ দুই শিক্ষক এনেছেন তার সত্যতা জানতে চাইলে সদর থানার ওসি (তদন্ত) গাজী সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।

পুলিশ ও বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর সহকারী শিক্ষক নিত্যরঞ্জন দেবনাথকে ১৫ দিনের মধ্যে বদলির সিদ্ধান্ত হয়; কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিউলী আক্তার তাকে বদলির পরিবর্তে তার পক্ষে অবস্থান নেন। এ ছাড়া আরও নানা বিষয়ে সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে শিউলী আক্তারের বিরোধ হয়। গত ২২ জুলাই অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে সভা করে দুই সহকারী শিক্ষককে সতর্ক করে দেন। গত ৩১ জুলাই সহকারী শিক্ষক জয়নাল আবেদীন রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে শিউলী আক্তারের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন। ওই ঘটনায় শিউলী আক্তারও গত ২ আগস্ট সদর থানায় সহকারী শিক্ষক জয়নাল আবেদীন ও সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে জিডি করেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিউলী আক্তার বলেন, আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। বানানো হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী। ছাত্রীদের শেল্টার দিতে গিয়ে দুই শিক্ষকের রোষানলে পড়েছি। দুই শিক্ষকের কর্মকাণ্ডের বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানোর আগেই তারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছেন।

সহকারী শিক্ষক জয়নাল আবেদীন ও সাইদুল ইসলাম বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের নানা প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।সুত্র সমকাল

একই ধরনের আরও সংবাদ