অধিকার ও সত্যের পক্ষে

বীরগঞ্জে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষক-কর্মচারী বেতন বোনাসে অনিশ্চয়তা

 নিজস্ব প্রতিনিধি।।
বীরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের পদটি দীর্ঘ প্রায় এক মাস যাবত শুন্য অবস্থায় পড়ে আছে। এতে চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে শিক্ষা অফিসের যাবতীয় কার্যক্রম। বেতন-বোনাস নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সদ্য দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষা অফিসার মোঃ এরশাদুল হক দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তাঁর উপর অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ১৯৮৫ এর বিধি ৪ (৩) (এ) বর্তমানে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ৪ (৩) (ক) মোতাবেক আদেশ জারির তারিখ হতে “নিম্নপদে অবনমিত করণ” অর্থাৎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার (বেতন স্কেল ২২০০০-৫৩০৬০/-টাকা) পদ হতে নিম্নপদে সহকারী উপজেলা/সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (বেতন স্কেল (১৬০০০-৩৮৬৪০/- টাকা) পদে নামিয়ে দেয়ার গুরুদন্ড আরোপ করা হয়েছে।
গত ১০ জুলাই ২০১৮ তারিখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত ও শৃঙ্খলা শাখা হতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে  জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে থেকে এসব জানা যায়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখের ৩৮.০০.০০০০.০০৪.০৪.০২০.১৭.২১৯ নং স্মারকে মোঃ এরশাদুল হক এর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ১৯৮৫ এর বিধি ৩ (বি) অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত করে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়।
তিনি উক্ত বিভাগীয় মামলায় লিখিত জবাব দাখিল করেন এবং আত্মপক্ষ সমর্থনে ব্যক্তিগত শুনানি প্রার্থনা করায় ২৫/১০/২০১৭ তাঁর ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করা হয়। উক্ত লিখিত জবাব ও ব্যক্তিগত শুনানীতে প্রদত্ত বক্তব্য সন্তোষজনক বিবেচিত না হওয়ায় বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্তে অভিযুক্ত কর্মকর্তা  মোঃ এরশাদুল হকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে নিম্নপদে অবনমিতকরনের সুপারিশ করা হয়।
এমতাবস্থায়, গত ১০ জুলাই ২০১৮ থেকে বীরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসারের পদটি শুন্য হয়ে পড়ে। শুন্য পদে এখনো কোন কর্মকতাকে দায়িত্ব না দেয়ায় শিক্ষা অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রম চরম ভাবে ব্যহত হচ্ছে।
এদিকে এখন পর্যন্ত বেতন বিলে স্বাক্ষর না হওয়ায় বেকায়দায় পড়েছেন উপজেলার প্রায় দেড় হাজার শিক্ষক কর্মচারী। তাছাড়া ঈদু-উল-আযহার সময় ও ঘনিয়ে আসছে। বেতন বোনাস আদৌ হবে কি না তা এখন ও অন্ধকারে শিক্ষা অফিস।
প্রধান শিক্ষকগণ এ বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করালে তিনি বলেন, এখানে আমার করার কিছু নেই।
শিক্ষকগণ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ তৌফিকুজ্জামানকে বিভিন্ন সমস্যা ও বেতন-বোনাস প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা বিষয়ে অবগত করালে তিনি জানান, আমি অধিদপ্তরে বিষয়টি জানিয়েছি।
অতিদ্রুত যেন বেতন-বোনাস স্বাক্ষর হয় তার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন উপজেলার শিক্ষকগণ।
এদিকে, পদাবনতি হওয়া শিক্ষা অফিসার কিছুদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
শোনা যাচ্ছে তিনি নাকি, চলতি দায়িত্ব পাওয়ার জন্য অধিদপ্তরে চেষ্টা তদবির করছেন।
একই ধরনের আরও সংবাদ