অধিকার ও সত্যের পথে

প্রৌঢ়ত্বে বেকার হন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

 কে.এম আমিনুল ইসলামঃ

গত কয়েক মাস ধরে নন-এমপিও শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন এমপিও পাওয়ার জন্য, একইসঙ্গে আমরণ অনশন, কর্তৃপক্ষের আশ্বাস, সবমিলে প্রশ্ন জাগে যে শিক্ষকরা এমপিও পাওয়ার জন্য যে আমরণ অনশন করছেন এমপিওভুক্তি হলে আসলে শিক্ষকরা কি কি সুবিধা পাবেন? আর মূল প্রশ্ন জাগে মধ্যম আয়ের দেশে এ ধরনের প্রথার আসলেই কি কোন যৌক্তিকতা আছে? ১৯৮০ সালের অনুন্নত বাংলাদেশে প্রবর্তিত প্রথাটি বর্তমান উন্নত বাংলাদেশে রাখার পক্ষে যৌক্তিকতা কি? এ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বহুবার বলেছেন যে- এমপিওভুক্তি পদ্ধতিটি বাজে পদ্ধতি। অর্থমন্ত্রীর সুরে আমরাও বলতে চাই এ বাজে পদ্ধতির অবসান ঘটানো হোক। কেননা-

এমপিওভুক্ত শিক্ষকের বেতন
বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা কোন ইনক্রিমেন্ট ও ভাতাবিহীন মূল স্কেলের শতভাগ বেতন পাচ্ছে সরকার থেকে। উৎসব বোনাস মাত্র ২৫%! ৮ বছর চাকরির অভিজ্ঞতার জন্য বেতন বৃদ্ধি হিসেবে পাবে মাত্র ১০০০ টাকা ! আর পদোন্নতিতে রয়েছে ৫:২ অনুপাত রয়েছে। মোদ্দাকথা হলো- গ্রেড -৯ এ একজন প্রভাষক যোগদান করলে ৬০ বছর বয়সে তার বেতন হবে ২৯০০০ টাকা! অর্থ্যাৎ, একজন শিক্ষক ৩৫ বছর চাকরি করলে তার বেতন বৃদ্ধি হবে মাত্র ৭০০০ টাকা! আর তার সারা জীবনের সঞ্চয় অবসর মাত্র ৭৫ মাসের বেতন! এমপিওভুক্ত একজন শিক্ষকের জীবনের সঞ্চয় ও আর্থিক হিসাব এটিই!

অস্থায়ী চাকরি!
এমপিওভুক্ত কোন শিক্ষক তার চাকরি স্থায়ী বলে স্বস্তির ঢেঁকুর নিতে পারেন না। কেননা, এমপিওভুক্ত কখনও স্থায়ী নয় বরং শর্তসাপেক্ষ! অর্থাৎ তার বেতন যে কোন সময় স্থগিত কিংবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে কারণ, এমপিওর টাকা পেতে হলে প্রতি বিভাগে কাম্য সংখ্যক শিক্ষার্থী থাকা প্রয়োজন, কয়েকদিন আগে ৫০৫টি কলেজের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয়ার কথা গণমাধ্যমে খবর হয়ে আসে কারণ এসব প্রতিষ্ঠানে কোন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। তবে প্রশ্ন হলো কোন যোগ্যতায় এসব প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেয়া হলো? এছাড়াও আরেকটি খবর ছিল ২০২ টি মাদরাসার এমপিও বন্ধের নির্দেশ। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে সেখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষার্থী নেই! মাদরাসার এমপিও বন্ধ মানে শিক্ষকরা বেকার। তাই প্রশ্ন হচ্ছে- এতগুলো প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দিলে কয়টি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি হবে? যেসব মাদরাসার শিক্ষকদের এমপিও বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে ভাবতে পারা যায় এ প্রৌঢ়ত্বে এসে এসব শিক্ষক কিভাবে জীবিকা নির্বাহ করবে? এরা সব সময় শিক্ষকতা সম্মানজনক ভেবে অসম্মানকর কোন পেশায় পা বাড়ায়নি কিন্তু এ সময় তাদের বেতন বন্ধ হয়ে গেলে এরা বলবেন কীভাবে?

অভিজ্ঞতার মূল্য নেই
পৃথিবীতে এমন কোন কর্ম কিংবা চাকরি নেই যেখানে অভিজ্ঞ মানুষ কিংবা অভিজ্ঞতার মূল্য নেই শুধু বাংলাদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার মূল্য নেই। বরং যত বেশি অভিজ্ঞ সেইসব শিক্ষক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের ও শিক্ষার্থীদের নিকট ততবেশি অপদার্থ হিসেবে পরিণত হয়। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক হওয়ায় তরুণ শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষার্থীদের বেশি ঝোঁক থাকে। ফলে অভিজ্ঞ যেকোন শিক্ষকই সবার কাকে অনাদৃত থাকেন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক যেন একজন সেলসম্যান
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় এমনকি এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত একজন শিক্ষককে একজন সেলসম্যানের সঙ্গে তুলনা করা যায়! অর্থাৎ যদি সেলসম্যান তার টার্গেটের অতিরিক্ত পণ্য বিক্রি করতে পারলে যেমন সেখান থেকে অতিরিক্ত শতাংশ হারে বেতন প্রদান করা হয়ে থাকে, আর না পারলে কেবল নির্দিষ্ট বেতন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। কর্পোরেট সেলসম্যানের মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও সরকারের প্রদেয় নির্দিষ্ট বেতনের বাইরে প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়িভাতা, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতা, প্রভিডেন্ট ফান্ড প্রভৃতি পেতে হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে হবে। অর্থ্যাৎ, অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হলে কেবল শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠান থেকে উপরোল্লিখিত সুযোগ-সুবিধা পাবেন অন্যাথ্যায় সরকারের দেয়া কেবল স্কেল পেয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। তবে একজন সেলসম্যানের চাকরি বদলিযোগ্য কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চাকরিতে বদলির কোন সুযোগ নেই।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিম্নমান
২০০৬ সালে প্রণীত শ্রম আইনের দ্বাদশ অধ্যায় দুর্ঘটনাজনিত কারণের জন্য ক্ষতিপূরণের বিধান রেখে ১৫০ ধারায় বলা হয়েছে কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষকের বেলায় এ ধরনের কোন ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। শ্রম আইনের ১৯৫ ধারায় মালিকের পক্ষে অসৎ শ্রম আচরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং শ্রমিককে তার নিরাপত্তা বিধান করা হয়েছে কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষক নীতিমালায় পরিচালনা পর্ষদের কোন কোন কথা বা আদেশ শিক্ষাসুলভ নয় তা নিয়ে কোন কিছু আলোকপাত করা হয়নি। বরং বলা হয়েছে পরিচালনা পর্ষদের কোন আদেশ অমান্য করা মানেই অসদাচরণ যার শাস্তি অনেকটাই চাকরি থেকে বরখাস্তকরণ! শ্রম আইনের ১৩২ ধারায় মজুরি প্রদানের মাস শেষ হওয়ার ৭ কর্মদিবসের মধ্যে মজুরি প্রদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এরকম কোন বাধ্যবাধ্যকতা নেই! এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা কখনো কখনো দুইমাস টাকা তুলতে পারেন না। শ্রম আইনে বিলম্বে মজুরি পরিশোধ বিলম্বে হলে সেক্ষেত্রে প্রতিকারের ব্যবস্থা রয়েছে কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এ ধরনের কোন প্রতিকার নেই!

প্রৌঢ়ত্বে বেকার হন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা
এমপিও প্রথা বিদ্যমান থাকলে আগামীর বাংলাদেশে শিক্ষকরা সবচাইতে বেশি দুর্ভোগের শিকার হবে। কেননা, বর্তমানে যে এলাকায় দুটি তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে আগামী ২-৪ বছর পর সেখানে হয়ত আরো ৩-৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন লাভ করবে তখন পূর্বেকার ঐসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কাম্যসংখ্যক শিক্ষার্থী নাও পেতে পারে। যার পরিণতি মধ্যবয়সে চাকরি হারানো কিংবা বেকার। গত কয়েক দিন আগে খবর ছিল ২০২টি মাদরাসার এমপিও বন্ধের নির্দেষ। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে সেখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষার্থী নেই! মাদরাসার এমপিও বন্ধ মানে শিক্ষকরা বেকার। ওই সময় না থাকে তার অন্য কোন সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করার বয়স, না থাকে তার শারীরিক সামর্থ্য যাতে দেশে মেহনত করে কিংবা বিদেশ পাড়ি দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করার সুযোগ লাভ করার!

প্রাইভেট-কোচিং সম্প্রসারণ
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের তাদের বেতন ভাতা একেবারে কম হওয়ায় এসব শিক্ষকের অধিকাংশ প্রাইভেট-কোচিং সেন্টার খুলে বসেন ফলে সরকার শত চেষ্টা চালিয়েও এসব প্রাইভেট-কোচিং বন্ধ করতে পারছে না।

বদলি নেই আছে দলাদলি
এমপিওভুক্তি কেন বন্ধ হওয়া উচিত তার অন্যতম কারণ হলো এটি একটি বদলি অযোগ্য চাকরি। যার ফলে এসব শিক্ষক একগুঁয়ে, অনৈতিক প্রভাব, গ্রুপিং, মারামারি, রেষারেষিতে জড়িয়ে পড়ে এমনকি স্থানীয় রাজনীতিবিদদের রোষানলে পড়ে তার সৃজনশীলতা নষ্ট করে দেয়।

পরিচালনায় পরিচালনা পর্ষদ!
এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের অন্যতম একটি সমস্যা হচ্ছে ম্যানেজিং কমিটি কিংবা গভর্নিং বডি দ্বারা এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত। এই গভর্নিং বডি অধিকাংশই রাজনৈতিক ব্যক্তিরা হয়ে থাকেন ফলে শিক্ষকদের সঙ্গে তারা কর্মীর চাইতেও অধম হিসেব ব্যবহার করেন। ফলে শিক্ষকরা তাদের তোষামুদে করতে বাধ্য হয় পরিচালনা পর্ষদের মনজয় করে না চললে তার চাকরি শেষ হবে নিমিষেই। ফলে শিক্ষকের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

উচ্চশিক্ষায় দাম নেই উচ্চশিক্ষিতের!
এমপিও নীতিমালা-২০১৮ এ স্নাতক স্তর কিংবা ডিগ্রি স্তরে কোন শিক্ষক এম.ফিল বা পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনে উৎসাহিত করা হয়নি এমনকি এসব উচ্চতর ডিগ্রি প্রাপ্তদের অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা কিংবা পদোন্নতির ক্ষেত্রে সুবিধা অথবা অধ্যক্ষ/ উপাধ্যক্ষ হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের দেয়ার কোন বিধি রাখা হয়নি! প্রশ্ন হচ্ছে উচ্চ শিক্ষায় উচ্চ শিক্ষত তথা, এম.ফিল/ পিএইচডি প্রাপ্তদের মূল্য না দিলে কোথায় এ সব ডিগ্রি ব্যবহৃত হবে?

থার্ড ক্লাস তৈরি করবে ফার্স্ট ক্লাস?
শিক্ষকতা পেশায় মেধাবীদের সম্পৃক্ত করতে শিক্ষাবিদরা সব সময় সরকারের কাছে দাবি জানালেও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ এ তৃতীয় শ্রেণী প্রাপ্তরা শিক্ষকতার জন্য আবেদন করার সুযোগ করে দিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে সেকেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অথচ, ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রণীত বিধিতে শিক্ষক নিয়োগের ন্যূনতম যোগ্যতা ছিল দ্বিতীয় শ্রেণী। বাংলাদেশে এমন কোন চাকরি আছে কি যেখানে তৃতীয় শ্রেণী গ্রহণ করে? কোথায়ও না করলেও একমাত্র এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এটি গ্রহণযোগ্য!

বাড়ি বাড়ি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
সরকারের নির্দিষ্ট পলিসি, পরিকল্পনা কিংবা এ সেক্টরে কোন নিয়ন্ত্রণ না থাকায় রাজনৈতিক পরিচয়ে, যশ- খ্যাতি কিংবা সুনামের জন্য অথবা, দুর্নীতিবাজ বোর্ড কিংবা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে প্রতিটি বাড়ির সামনে স্কুল প্রতিষ্ঠা করে, ফলে এক সময় এসব প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষার্থী না পেয়ে শিক্ষকরা বেকার হয়ে পড়েন। আবার, শিক্ষকরা তাদের এমপিও ধরে রাখতে প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষায় অসুদাপায় অবলম্বন ও পরীক্ষায় অনৈতিক সাহায্য করার প্রমাণ সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া যাচ্ছে। আর এটি একটি সিন্ডিকেটের মতই হয়ে দাঁড়িয়েছে যা এমপিও প্রথা না থাকলে এ অনৈতিক প্রবণতা থাকতো না।

যত আইন সব এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য
জাতীয় শিক্ষা নীতি-২০১০, জাতীয় শিক্ষা আইন প্রভৃতিতে বেশির ভাগজুড়েই লঘু অপরাধে এমপিও স্থগিতকরণ, বাতিলকরণ, কর্তন প্রভৃতির কথা বলা হয়েছে যা সরকারিদের ক্ষেত্রে অনেকটাই নমনীয় ভাব প্রদর্শন করা হয়েছে! অর্থাৎ যত আইন আর শাস্তি সব এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত সরকারি শিক্ষকদের জন্য নয়।

এত কিছুর পরও প্রশ্ন উঠতে পারে তবে কেন এই এমপিও ভুক্তির জন্য এত হাহাকার? উত্তর হলো- তা কেবল দুবেলা দু’মুঠো অন্নের জন্যই! আর এ উত্তর থেকেই অনুধাবন করা যায় যে শিক্ষক-রা সমাজের কোন পর্যায়ে রয়েছে! শিক্ষক প্রশিক্ষণসমূহে শিক্ষকদের আধুনিক হওয়ার জন্য বললেই শুধু তারা আধুনিক হতে পারেন না কেবলই নিম্ন বেতনের জন্য কেননা, তাদের আধুনিক হওয়াটা বেতনের সাথে জড়িত। আমাদের মনে রাখতে হবে শিক্ষকদের মানসিকতার প্রভাব পড়ে তার শিক্ষার্থীদের ওপর। কিন্তু দেশে ৯৫ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলে এই বেসরকারি শিক্ষকদের মাধ্যমে! এসব শিক্ষকদের বেতন নিম্ন হওয়ায় তাদের মানসিকতাও সর্বত্র সংকীর্ণ দেখা যায় যা আগামীর নাগরিকদের জন্য সত্যিই ক্ষতিকর। তাই বিষয়টি নিয়ে এখনি ভাবার সময়। প্রধানমন্ত্রী ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ ভিশন ঘোষণা করলেও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক কিংবা স্নাতক স্তরের শিক্ষা নিয়ে কোন ভিশন ঘোষণা না হওয়াটা অত্যন্ত হতাশাজনক। রাস্তায় শিক্ষকদের আর্তনাদ আর হাহাকারে ব্যস্ত রেখে কোন ফ্লাইওভার নির্মাণ কিংবা অন্য কোন বড় প্রকল্প হাতে নেয়া শিক্ষকদের এক একটা কষ্টের দীর্ঘশ্বাস ছাড়া অন্য কিছুই নয়। বাংলাদেশে যাকে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ বলা হয় সেক্ষেত্রে এত বৈষম্য, এত অস্থিরতা, এত নিম্নমান কিভাবে সম্ভব? তাই সরকারকে সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের আওতায় নিয়ে এসে এমপিওভুক্ত প্রথা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বন্ধ করা উচিত।

লেখক : শিক্ষক, গবেষক ও বিশ্লেষক।

একই ধরনের আরও সংবাদ