অধিকার ও সত্যের পক্ষে

নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন করুন

 এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান।।

দেশের নাম বাংলাদেশ। বাসচাপায় সহপাঠী নিহতের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করছে। ১ আগস্ট রাজধানীর শনির আখড়ায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা যখন বিভিন্ন বাস থামিয়ে চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করছিল এবং যে চালকের লাইসেন্স নেই, তাদের গাড়ি পথের পাশে দাঁড় করিয়ে রাখতে বলছিল, তখন আরেকটি দুর্ঘটনার জন্ম হয়। এ সময় একটি পিকআপকে যখন তারা থামানোর চেষ্টা করে, চালক পিকআপটি না থামিয়ে এক শিক্ষার্থীকে চাপা দিয়ে চলে যান।

 অন্যদিকে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল করিম এবং দিয়া খানমের নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে মুখর সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, শার্টের কলার চেপে ধরা কিংবা পিকআপ চালকের থোড়াই কেয়ার করার ঘটনাও বিরল।

  আমরা সাধারণ জনগণও নাকে তেল দিয়ে ঘুমাতে যাই। জেগে উঠে দেখি আমাদের সন্তানরা বাড়ি ফেরেনি। তাই তো একটি দেশের সড়ক ব্যবস্থা ঠিক করতে পথে নামতে হয় স্কুলপড়ুয়াদের। যারা কিনা রাজনীতি বোঝে না, উন্নয়নের কূটকৌশল জানে না। তারা কেবল বোঝে কাল থেকে আর সজীব, মিম স্কুলে আসবে না। বন্ধু হারানোর এ বিরল শোকে পুড়ে তারা রাস্তায় নামে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে খুব তুচ্ছ কারণে তারা রাস্তায় নামেনি। ছোট কোনো কারণে রাস্তা অবরোধ করে তারা দাঁড়াচ্ছে না। মার খাচ্ছে না। স্কুলের সাদা ইউনিফর্মে, সাদা জুতায় লাল ছোপ ছোপ রক্ত মেখে রাস্তা আগলে দাঁড়িয়ে রয়েছে তারা। নিরাপদ সড়ক চেয়ে তাদের করা দাবিকে কিন্তু সম্মান করতে হবে। তাদের চাওয়া নিরাপদে বাড়ি ফেরার আশ্বাস। তাদের দাবি অপরাধীদের উচিত শাস্তি। তাদের এ চাওয়াকে মেনে নিতে হবে।

এ শিক্ষার্থীদের বয়স অল্প। এতটুকু বয়সে তারা সড়ক অবরোধ করে রেখে গোটা শহরের যান চলাচল ব্যবস্থাকে থমকে দিতে পারে। তাদের রাস্তা অবরোধ করে দাঁড়ানো, অধিকার আদায়ে বুক টান টান করে রাখা ভঙ্গিকে সম্মান করুন। কারণ নিরাপদ সড়কের দাবি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি।

সময় হয়েছে খামখেয়ালি চালক নামক পাগলা ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরার। এরই সঙ্গে ঢেলে সাজাতে হবে পরিবহন খাতের গোটা ব্যবস্থাকে। চালকদের যেমন লাইসেন্স থাকতে হবে, তেমনি তার চরিত্র উন্নয়নের জন্য নানা ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণও জরুরি। সরকারী চালক, সরকারী গাড়ী, পুলিশ সহ সবার লাইসেন্স থাকতে হবে এটা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দাবী। পুলশের গাড়ির কাগজ নেই, ড্রাইভারের লাইসেন্স নেই, পুলিশের গাড়িতে গাজা এটা পরিস্কার করে দিলো এই কোমলমতি শিক্ষার্থী আর সেইসাথে দেশের অবস্থা উম্মোচিত হলো জাতী অবলোকন করলো দেশের প্রকৃত অবস্থা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যাদের আনাগোনা, তাদের চোখে একটি ছবি পড়তে পারে, তা হলো আট থেকে দশ বছর বয়সী একটি শিশু ড্রাইভিং সিটে বসে দিব্বি বাস চালিয়ে যাচ্ছে। এ দৃশ্য দেখার পর অনেকেই চোখকে বিশ্বাস করতে পারেননি হয়তো। তবে বাস্তবে এমনটাই ঘটে চলেছে। পেশাদারভাবে গাড়ি চালানোর নিয়োগপত্র ছাড়াই বাস মালিকপক্ষ চালকের হাতে গাড়ি তুলে দিচ্ছে। আর এভাবেই চলছে দেশের পরিবহন খাত। আমরা সাধারণ নাগরিকরা এসব দেখেই অভ্যস্ত। আমরা প্রতিদিন দেখি, কোনো ধরনের বাধাবিপত্তি ছাড়াই ত্রুটিপূর্ণ, লক্কড়-ঝক্কড়, অনুমোদনহীন বাস রাস্তায় নামে। বাস-ট্রাক টার্মিনাল, টেম্পো স্ট্যান্ড, দূরপাল্লার রুটে অবৈধ চাঁদাবাজি ও দখলদারদের দৌরাত্ম্য। আহতের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নেই এবং হতাহত পরিবারকে মালিকের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের তেমন কোনো উদাহরণও আমাদের চোখের সামনে নেই। আমাদের এই দেখেও না দেখার মূল্য দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। কিশোর শিক্ষার্থীরা আজ সমাজের প্রতিনিধি হয়ে সে মূল্য চুকাতে ততপর। নিরাপদ সড়ক চেয়ে তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো মেনে নিন।  

একই ধরনের আরও সংবাদ