অধিকার ও সত্যের পক্ষে

সেই দিল চাহতা হ্যায়

 নিউজ ডেস্ক।।

শুরুটা ছিল সেই ১৭ বছর আগে। তখন প্রায় অপরিচিত ফারহান আখতার দিল চাহতা হ্যায় (২০০১) নামের একটা চিত্রনাট্য নিয়ে হাজির মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিজে। তারপর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘দিল চাহতা হ্যায়’ ছবি হলো, আর বলিউডের বন্ধুত্বের পুরো বাগধারাটাই পাল্টে দিল চিরকালের জন্য এ ছবি।

ছবির গল্প সাধারণ। তিন যুবক, তারা তিন বন্ধু, যারা একই সঙ্গে ওই সময়ের প্রজন্মকেও প্রতিনিধিত্ব করছিল; প্রত্যেকেই নানাভাবে জীবনকে এলোমেলো করে ফেলেছে, প্রায় পথহারা বা পথ খুঁজছে। এ রকম সাদামাটা রোমান্টিক গল্প নিয়ে কোনো ছবি হতে পরে, বলিউডে আগে কেউ চিন্তাই করেনি। কিন্তু নতুন ধরনের এ গল্পই বলিউডকে কাঁপিয়ে দিল। এ ছবিতে মারদাঙ্গা কোনো ব্যাপার নেই। এক প্রজন্মের তিন তরুণের জীবনযুদ্ধের কাহিনী, তাদের সংগ্রাম ও প্রেম যার মূল উপজীব্যের একটি। ছবিটি কী পরিমাণ দর্শক-প্রিয়তা পেয়েছিল তা বোঝা যায়। এখনো যখন এ ছবিটি এই ১৭ বছর পরও দর্শক নস্টালজিয়া নিয়ে বারবার দেখে। এমনো বলা হয়, দিল চাহতা হ্যায় পুরো বলিউডের ছবি বানানোর প্রথাগত বিশ্বাসই পাল্টে দিয়েছে। হিন্দি ছবি হবে একজন পরাক্রমশালী নায়ক ও তার প্রেমাকাঙ্ক্ষী নায়িকার নাচগানে ভরপুর আর মারামারি দিল চাহতা হ্যায় এ ধারাকেই পাল্টে দিয়েছে। এ ছবি তখনকার যুবসমাজের নানা অসঙ্গতি আর সমস্যাকেই সামনে নিয়ে এসেছিল।

ওই সময়ের তরুণরা কীভাবে চিন্তা করে, কথা বলে এবং তারা কতটা অস্থির একসময়ের যাত্রী— এসবই ছিল দিল চাহতা হ্যায়ের বিষয়। যেমন এক দৃশ্যে দেখ যায় সাইফ আলি খান তার প্রেমিকার সঙ্গে তর্ক করছে, কিন্তু কোনো বাক্যই সে শেষ করতে পারছে না।

আমির খান, সাইফ আলি খান আর অক্ষয় খান্নার মধ্যকার কেমিস্ট্রিও সত্যিকার ও বহুমাত্রিক। দিল চাহতা হ্যায় নির্মাণের ১৭ বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো লোকজন এ ছবি নিয়ে কথা বলে; এখনো খুঁটিনাটি আলোচনা হয় (দর্শকরা এখনো আগ্রহভরে দিল চাহতা হ্যায়ে ছবির ভেতরের গল্প শোনে)। যেমন—

ফারহান আখতারের সঙ্গে প্রীতি জিনতার দেখা হয়েছিল কাকতালীয়ভাবে। প্রীতি মুম্বাই এসেছিল কিয়া কেহনা নামের একটি ছবির জন্য স্ক্রিন টেস্ট দিতে। ফারহানকে সে জানায়, ফারহান আখতার যে ছবিই বানাক, সে তাতে কাজ করবে।

ছবির তিন বন্ধু হওয়ার কথা ছিল: হূতিক রোশান, অভিষেক বচ্চন ও অক্ষয় খান্নার।

হূতিক রোশান, অভিষেক বচ্চন এ ছবি করতে রাজি না হওয়ায়, ফারহান আখতার আমির খানের সঙ্গে তার দিল চাহতা হ্যায় ফিল্ম প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিলেন, কিন্তু আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তাকে ১০ মাস অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

মূল পরিকল্পনায় অক্ষয় খান্নার আকাশ চরিত্র করার কথা ছিল। কিন্তু আমির খান যখন ছবি করার জন্য সম্মতি দিলেন, তখন চরিত্র বদল হয়ে গেল।

দিল চাহতা হ্যায় সরাসরি শব্দ, সংলাপ ধারণ করে বানানো। অভিনেতাদের পর সংলাপ প্রক্ষেপ করার ব্যাপার নেই, একথা জানতে পেরে সাইফ প্রায় নিজেকে ছবি থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।

ছবির টাইটেল সং লেখা হয় চারদিনে। ফারহান আখতার, জাভেদ আখতার ও শঙ্কর-এহসান-লয় এ গানের জন্য লোনাভালা ভ্রমণ করেন একসঙ্গে। ওখানেই গান রচিত হয়, সুর হয় চারদিনেই।

এ ছবির আগে ফারহান আখতার মিউজিক ভিডিও পরিচালনা করেছিলেন; শঙ্কর মহাদেবানের বিখ্যাত গান, ব্রেথলেসের।

শুটিংয়ের ছুটির দিনে নৃত্যপরিচালক ফারাহ খান অনিচ্ছাকৃতভাবে হোটেলের অগ্নিসংকেত যন্ত্র চালু করে ফেলেন, কারণ তিনি তার রুমে বিরিয়ানি রান্না করছিলেন।

আসাদ দাদারকার ছবিতে যে সংবোধের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, বাস্তবজীবনে তিনি ফারহান আখতারের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আকাশ চরিত্র অনেকাংশেই তার দ্বারা প্রভাবিত।

ছবি শেষে সবাই যখন আনন্দ উৎসব করছিল, আমির খান তাতে যোগ না দিয়ে হোটেল রুমে অনলাইনে দাবা খেলায় ব্যস্ত ছিলেন। ছবির সব সংলাপ গোড়ায় ইংরেজিতে লেখা হয়েছিল।

ফারহান আখতার প্রীতিকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন— তিনি শুধু নারীপ্রধান করে এ রকম আরেকটা ছবি বানাবেন।

সূত্র: ফিল্মফেয়ার

একই ধরনের আরও সংবাদ