অধিকার ও সত্যের পক্ষে

মাদকের নীল দংশন মুক্ত তরুণসমাজ চাই

 মুহাম্মদ হাসান ভূইয়াঃ

একটি সুন্দর ফুল বাগানকে বিনষ্ট করার জন্য যেমনি একটি হুতোম পেঁচাই যথেষ্ট। তেমনি তরুণ সমাজকে বিনষ্ট করার জন্য মাদকই যথেষ্ট। মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। বর্তমানে মাদকাসক্তি আমাদের সমাজে এক সর্বনাশা ব্যধিরুপে বিস্তার লাভ করছে। আজকাল তরুণ প্রজন্মের কাছে অতি সহজেই মাদকদ্রব্য পৌঁছে গেছে। আবার সেটা হতে পারে ইনজেকশন, ধূমপান বা যে কোন মাধ্যমে। বিভিন্ন মাদক দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে যেমন- হিরোইন, কোকেন, আফিম, গাঞ্জা, ফেনসিডিল বিভিন্ন রকমের ইনজেকশন, ইয়াবা ট্যাবলেট। বিপুলভাবে ছড়িয়ে পড়া মাদকের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিতে না পারলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে অসুস্থ হয়ে পড়বে। মাদকের সবচেয়ে বড় শিকার তরুণেরা। প্রতি ১৭ তরুণের মধ্যে একজন মাদকাসক্ত।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, ২০১২ সালে মোট মাদকসেবীর মধ্যে ইয়াবায় আসক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ছয় শতাংশ। কতটা দ্রুত ইয়াবার ব্যবহার বাড়ছে পরিসংখ্যান থেকে সেটা বোঝা যায় । ২০১৬ সালে এ হার বেড়ে প্রায় ৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০১১ সালে জব্দ হওয়া ইয়াবার সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ ৬০ হাজার, আর ২০১৬ সালে সেটা দাঁড়ায় দুই কোটি ৯৪ লাখে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০১৭ সালে সেটা দাঁড়ায় তিন কোটি ৮০ লাখ ৯১ হাজার পিসে। অন্য দিকে মাদক কারবারি হিসেবে অনেকের আত্মপ্রকাশ ঘটছে।  কোনো জাতিকে যদি দুর্বল করে দিতে হয় তাহলে তার তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্ত করে দাও। বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে দু’টি দেশের সাথে। প্রথমে ভারত থেকে আমাদের এখানে নানা ধরনের মাদক আসত।

পরে মিয়ানমারও একই পথ অবলম্বন করছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইয়াবা বিক্রি করে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের আয় হচ্ছে বছরের তিন হাজার কোটি টাকা। টাকার এই অঙ্ক বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বাজেটের সমান। এই শুরুতর পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য দরকার সমন্বিত মাদক প্রতিরোধ। সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নাগরিক সমাজ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এই উদ্যোগে। তাই আসুন ‘মাদককে না বলি, মাদক মুক্ত সুস্থ-সুন্দর দেশ গড়ি’ স্লোগানে নিজে সচেতন হই এবং অন্যকে সচেতন করে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। আর মাদকাসক্তি তরুণ-তরুণীদেরকে মাদকের নীল দংশন থেকে রক্ষা করি এবং সুস্থ সুন্দর জীবন গড়ার সুযোগ করে দিই।

লেখক- শিক্ষক ও িসাংবাদিক

একই ধরনের আরও সংবাদ