অধিকার ও সত্যের পক্ষে

দোহারের বটিয়া-নুরপুর বাসির দূর্ভোগ ! শুকনো মওশুমে বাঁশের সাঁকো, বর্ষায় নৌকা

 মোঃ হামিদুর রহমান।।

নির্মলা মিশ্রের গাওয়া জনপ্রিয় গান ‘এমন একটা ঝিনুক খুঁজে পেলাম না যাতে মুক্তো আছে। এমন একটা মানুষ খুঁজে পেলাম না যার মন আছে’। গানের সুর ধরে আমারও আমিও বলতে বাধ্য হচ্ছি এমন কোন নেতা খুজে পেলাম না যার পরিপূর্ন নেতৃত্ব গুন, স্বচ্ছতা বা জবাবদিহি আছে। বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার সেই ন্যাংটো ছেলেটা যেমন বদলায় না । তেমনি সময় বদলায় , মঞ্চ বদলায় , ক্ষমতা বদলায়, মানুষ বদলায়, আলোকসজ্জা বদলায় , থীম বদলায় , বাজেট বদলায় , স্পন্সর বদলায় , বদলায় না এই বটিয়া-নুরপুর-দেবীনগর বাসির দূর্ভোগের হালচাল ।

দোহার পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের বটিয়া মসজিদের পশ্চিম পাশের চিত্র এই ছবি গুলি।খালের ঐ পাড়ে প্রায় লক্ষাধিক লোকের বসবাস।বর্ষা মৌসুমে নৌকা আর শুস্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন শতশত লোকের যাতায়েত এই রাস্তা দিয়ে। স্কুল মাদ্রসা কলেজ গামী ছাত্রছাত্রীদের প্রতিদিন ঝুকি নিয়ে এই বাঁশের সাঁকো পাড় হতে হয়।

এই অঞ্চলে বসবাসকারীরা পৌরবাসিন্দা হলেও পাচ্ছে না পৌরসভার কোন নাগরিক সুবিধা কিন্ত ঠিক মত তাদের পরিশোধ করতে হচ্ছে পৌরকর।এখানে রয়েছে একটি কবরস্থান লাশ দাফন করতে হলে ১০ মিনিটের রাস্তার জায়গায় প্রায় ১ ঘন্টার রাস্তা ঘোরে লাশ দাফন করতে হয়।এখানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে একটি বৃদ্ধাশ্রম কিন্ত যাতায়েত অসুবিধার কারনে সেটাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।সাবেক প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য এ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান এর সময় এখানে সেতু করার জন্য বরাদ্দ হয়েছিল কার্যক্রমও শুরু হয়েছিল কিন্তু অদৃশ্য কারনে বরাদ্দ নেই অযুহাত দেখিয়ে কাজ বন্ধ হযে যায়।

কতিথ আছে তিনজন ঠিকাদারের নিজেদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় বরাদ্দ বাতিল হয়।তারা এখনও বলছে প্রকল্প হয়েছিল কিন্তু রবাদ্দ না পাওয়ায় কাজ করতে পারিনিএ অযুহাত এ অঞ্চলের মানুষের আর কতদিন শুনতে হবে?গত উপজেলা উপনির্বাচনে প্রয়াত কমিশনার ফরহাত মাদবরের বাড়ির উঠানে দাড়িয়ে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি পাশ করলে এখানে সেতু করে দিবেন কিন্তু পাশ করার পর একবারও এ অঞ্চলের ভোটাদের সাথে দেখাও করেনি।তিনি কিভাবে চেয়ারম্যান হয়েছে সেটাই এখন ভুলে গেছে।

গত বছর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর বর্ষা মৌসুমে স্রোতের ভয়াবহতা নিজ চোখে দেখে বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ঢাকা্ জেলা উন্নয়নের রুপকারখ্যাত জননেতা মাহবুবুর রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শুস্ক মৌসমে বেলী সেতু করে দিবেন।

সে আশায় এ অঞ্চলের জনগন বুক বেধে ছিল কিন্ত সেই প্রতিশ্রুতির এক বছর পার হয়ে আবার বর্ষা এসেছে বাঁশের সাঁকোর স্থানে যোগ হয়েছে নৌকা।বাড়ি প্রতি নৌকার মাঝিকে দেওয়া হয়েছে ৬০০ টাকা করে।ঢাকা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শত কোটি টাকার প্রকল্প উধ্বোধন করেছেন কিন্তু বাস্তবায়নের কোন লক্ষন আজও পরিলক্ষিত হচ্ছে না।বটিয়া –নুরপুর বাসির সেই বেলী সেতুও হারিয়ে গেছে শতকোটি টাকার কাজের ভিড়ে।বাস্তবায়ন যদি নাই –ই করবেন তবে জনগনকে স্বপ্ন কেন দেখান ? সূর্যের আলো প্রতিদিনই এই সরু সরু গলি গুলোতে ঢোকার রাস্তা খুঁজে পায় কিন্তু এই অবহেলিত জনপদের মানুষের স্বপ্নের সেতুর বাস্তবায়নের কোন আলোই যেন দেখছেন না এলাকাবাসী।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রতিশ্রুতি দিয়েও কোন খোজ নেননি।আর কতকাল তারা অন্ধাকারে আলো খুজবে ? উল্লেখ্য যে এক সময়ের কৃষ্ণদেবপুরের সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ গুলিই ছিল জননেতা মাহবুবুর রহমানের রাজনৈতিক অনুপ্রেরনা আজ এই অঞ্চলে মাহবুবুর রহমানে সেই প্রিয় মানুষ গুলিরই বসবাস তখন তাদের সংসারে অভাব ছিল এখন সংসারে অভাব নেই আছে যাতায়েত এর অভাবসহ ঝুকি।এ অঞ্চলের মানুষ বিশ্বাস করে তাদের প্রিয় নেতা তাদের আস্থার ঠিকানা তাদের আপনজন তাদের মাহবুব ভাই অতি দ্রুত তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সেতুর কাজ শুরু করবেন। পৌরসভার অতি নিকটে থেকে যেন তারা বাস করছে বিচ্ছিন্ন দ্বীপে। এ যেন প্রদীপের নীচেই অন্ধকার।

লেখক: কাতার প্রবাসী ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক

একই ধরনের আরও সংবাদ