অধিকার ও সত্যের পক্ষে

ফলাফল বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিতে হবে

 প্রকৌশলী সাব্বির হোসেন খোকন
এইচএসসি ও সমমানের ফল-২০১৮ প্রকাশ হয়েছে যেখানে প্রায় চার লক্ষ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। যা সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মন খারাপের অন্যতম কারণ। ১০ টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাশের হার ৬৬.৬৪ যা গত বছরের থেকে ২ শতাংশ কম। এই পরিসংখ্যান যারা টেস্ট পরীক্ষায় নির্বাচিত হয়ে চুড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে তাদের। এছাড়াও টেস্ট পরীক্ষার গন্ডি পার হতে পারেনি প্রায় তিন লক্ষ শিক্ষার্থী। তাহলে এই দাঁড়ালো সব মিলিয়ে যতজন কৃতকার্য হয়েছে তার থেকে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। প্রতিবছর দেখা যায় কয়েক লক্ষ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়ে ঝড়ে যায় শিক্ষা নামের অমিয় সুধা অর্জনের প্রতিযোগিতা থেকে। যার শতভাগ পরিসংখ্যান কখনোই প্রকাশ করা হয়না। সবাই বিজয়ীদের সাথে থাকতেই পছন্দ করেন আর তাই কৃতি শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় সংবর্ধনা, অবহেলায় পরে থাকে শুধু ফেল করা শিক্ষার্থীরা। শুধু তাই নয় এক আকাশ পরিমাণ অবজ্ঞা নিয়ে অনেকেই বেছে নেয় আত্মহননের পথ যা অপ্রত্যাশিত হলেও সত্য। প্রতিবছর নিয়ম করে টেস্ট পরীক্ষা দিয়ে ফরম ফিলাপ করে চুড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে বছর জড়ে শিক্ষার্থীদের দেখা যায় কলেজমুখী হতে। বেশ কিছু নিয়ামক তাদের ধিরে ধিরে দূর্বল থেকে দূর্বলতর শিক্ষার্থীতে পরিণত করে যা অনুধাবন করার শক্তি শিক্ষার্থীদের থাকেনা বলেই অকৃতকার্যের মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে বছর বছর। 
বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরোনো কিশোর কিশোরীর চোখে স্বপ্ন থাকে সে কলেজের পাঠ চুকিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে। প্রথম দিকে বেশ আগ্রহ নিয়ে কলেজে অধ্যয়ন শুরু করলেও ধিরে ধিরে নতুন বন্ধুদের সাথে তাদের সখ্যতা বাড়তে থাকে আর কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর বন্ধুদের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার ঘটনা প্রত্যক্ষ করা যায়। এক্ষেত্রে বন্ধুটি পড়ুয়া হলে যেমন উভয়ই ভালো ফল করতে পারে তেমনি সঙ্গটি পড়ুয়া না হলে উভয়ই অকৃতকার্য হতে পারে। এখানে অভিভাবকদেরও যথেষ্ঠ উদাসীনতা রয়েছে, তারা কখনোই খোঁজ নেয়না সন্তান কলেজে গিয়ে কি করছে সারাদিন। স্থানীয় একটি কলেজের দশজন শিক্ষার্থীকে ফলোয়াপ দিয়ে দেখা গেলো তাদের কয়েকজন আড্ডাতেই বেশি সময় অতিবাহিত করতো এমনকি মিস হয়ে যাওয়া ক্লাসের পড়া রিকভারী করতে অন্য কোথাও যে প্রাইভেট পড়েনি সেটিও খেয়াল করলাম, ফলাফল ৪/৫ জন অকৃতকার্য। অথচ এদের মধ্যে তিন চার জন শিক্ষার্থী এসএসসিতে ৪ পয়েন্টের বেশি পেয়ে পাশ করেছিল! অন্য কয়েকজন ৩ পয়েন্ট নিয়ে কলেজে এসে নিয়মিত ক্লাস ও ইংরেজি, আইসিটি অন্যত্র পড়ে ভালো প্রস্তুতি নিয়ে চুড়ান্ত পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে সক্ষম হয়েছে। ১ পয়েন্ট নিয়ে আইসিটি পাশ করা সিনিয়র ভাইটির পরামর্শে অনেকেই ক্লাসের বাইরে পড়ার প্রয়োজন অনুভব করেনি এতে করে এই বিষয়ে ফেলের সংখ্যা অধিক। এমপিও ভুক্ত একটি কলেজে অন্তত পাঁচ থেকে ছয় শত শিক্ষার্থী ভর্তী হয়। ফলে একটি ক্লাসে এতোজন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দূর্বল শিক্ষার্থীদের পাঠ গ্রহণে অনাগ্রহ সৃষ্টি করে যার ফলস্রোতিতে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস বিমুখ হয়ে পরে, এটিও একটি বড় কারণ ফল বিপর্যয়ের। সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতিতে পাঠ্যবইয়ের খুটিনাটি বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে, এ বিষয়টি সব শিক্ষার্থীর মাথায় রেখে লেখাপড়া করতে হবে। পরীক্ষা গ্রহণের ২৫ মিনিট পূর্বে সেট নির্ধারণ করে দেওয়া শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি মাইল ফলক অর্জি,ত হয়েছেে এতে করে প্রশ্নফাঁসকারী চক্র এবার অকেজো হয়ে পরেছিল এটিও একটি কারণ। সর্বোপরি লেখাপড়া নিয়মিত করতে হবে, কোথাও থেকে সহযোগিতা পেয়ে পাশ করবে এ মানসিকতা দূর করতে হবে। অকৃতকার্যদের অবজ্ঞা অবহেলা না করে তাদের সাথে কাউন্সিলিং করে সমস্যাগুলো জানতে হবে অভিভাবকদেরকেই এবং তার সমাধান করে দিতে হবে। সময়ের পরিবর্তনে পরীক্ষা পদ্ধতির উন্নয়ন হবে সেক্ষেত্রে ভালো প্রস্তুতির কোন বিকল্প নেই। হয় ক্লাসে নয়তো প্রাইভেটে পড়ে হলেও শতভাগ উত্তর দেওয়ার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে হবে শিক্ষার্থীদের তবেই ফল বিপর্যয়ের এ চিত্র আর দেখতে হবেনা। কেননা দিন শেষে ব্যর্থদের সান্তনা দেওয়ার মানুষও খোঁজে পাওয়া যায়না। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন উদ্যমে লেখাপড়া শুরু করতে হবে, যেখানে পড়লে ভালো ফল করার প্রস্তুতি নিশ্চিত হবে সেখানেই পড়তে হবে, তবেই আসবে কাংখিত সাফল্য।
একই ধরনের আরও সংবাদ