অধিকার ও সত্যের পথে

ছাত্রদের ১৪ দিনের অনশনে হার মানতে বাধ্য হলো কর্তৃপক্ষ

 বিদেশ ডেস্কঃ

হোস্টেল বন্টনের’ দাবিতে কলকাতা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা টানা ১৪ দিন অনশন করে অবশেষে জয়ী হলো। হামলার হুমকি, গ্রেপ্তার ভয় ভীতি উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায় করে নিয়েছে।

হোস্টেল সমস্যার সমাধানে ছাত্রদের উত্থাপিত দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হলে ৩৩৬ ঘণ্টা পর সোমবার দুপুরে অনশন তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার আন্দোলনকারীরা ‘মহামিছিল’ (বিজয় মিছিল) করার ঘোষণা  দিয়েছে।

আন্দলনের সূত্রপাত হয় হোস্টেলে সিট বরাদ্দ নিয়ে। শতবর্ষী এই মেডিকেল কলেজে রয়েছে আবাসন সংকট। শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেলে প্রয়োজনীয় সিট নেই। ফলে আবাসন সংকটে অনেকেই ক্যাম্পাসের বাইরে মেস বাড়িতে থাকতেন। সম্প্রতি ১১ তলা একটি হোস্টেল ভবন নির্মাণ হয়। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ সেই ভবনে শুধু মাত্র প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা থাকবেন বলে নিয়ম চালু করে। এতেই প্রতিবাদ জানায় শিক্ষার্থীরা। তারা সিনিয়র জুনিয়রদের একত্রে বসবাস করা এবং হোস্টেলে সবার জন্য সিট বরাদ্দের দাবি তোলে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল তৃণমূলের কর্মী করে তুলতেই নতুন শিক্ষার্থীদের আলাদা রেখে তাদের ছত্রছায়ায় ‘নার্সিং’ করা হবে। আন্দোলনকারীরা কলেজ অধ্যক্ষকে তৃণমূলের আজ্ঞাবহ হিসেবে মন্তব্য করেন। ছাত্ররা অভিযোগ তোলেন, কলেজ প্রশাসন হোস্টেলে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের আলাদা রাখার নিয়ম করেছে মূলত তৃণমূল বাদে অন্য মতে সিনিয়র শিক্ষার্থীদের সংস্পর্শে এরা আসতে না পারে। তাই অন্যদের সরিয়ে রেখে কলেজ প্রশাসনের মদদে তৃণমূলের কর্মীরা হোস্টেলের প্রথম দিনেই নতুন শিক্ষার্থীদের সাথে স্বাক্ষাত করে পরিচয় পর্ব সারেন।

এসব ঘটনার প্রতিবাদ ও হোস্টেলের সবার জন্য সিট বরাদ্দের দাবি তুলেই শুরু হয় আন্দোলন। এক পর্যায়ে গত ১০ জুলাই শিক্ষার্থীরা অনশন শুরু করেন ৬ শিক্ষার্থী। অন্যদিকে অন্যরা আন্দোলন চালিয়ে যান মিছিল সভার মাধ্যমে। ছাত্রছাত্রীদের এই অনশনে নৈতিক সমর্থন দেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নাগরিকরা। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থীরাও এই আন্দোলনে সমর্থন দেন। এরপর গত ১৮ জুলাই আরো ১৫ জন শিক্ষার্থী এসে আন্দোলনে যোগ দেয়।

গত ২২ জুলাই কলকাতা মেডিকেল কলেজের জেনারেল লেকচার থিয়েটারে আন্দোলন নিয়ে গণ কনভেনশন হয়। এর আগে মেডিকেল কলেজের সিনিয়র চিকিৎসকদের একটি অংশ এই আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে প্রতীকী অনশন করেন। তার আগে ৫০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে প্রতীকী অনশনে বসেন। ফলে চারিদিক থেকেই চাপে পড়েন কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রশাসন। আন্দোলন দমাতে অনশনরত শিক্ষার্থীদের পরিবারের উপরও চাপ দেয়া হয়। তৃণমূলের কর্মীরা আন্দোলনকারীদের আন্দোলন থেকে সরে আসার জন্য হুমকি দেয়। বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের বাসায় পুলিশ পাঠিয়ে হুমকি দেয়া হয়। এসব পরিস্থিতিতেও আন্দোলন চালিয়ে যায় শিক্ষার্থীরা। অনশনে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।

এই পরিস্থিতিতে চাপে পড়ে রাজ্য সরকার। সংসদে এ নিয়ে আলোচনায় বিরোধীদের সমালোচনায় পড়েন সরকার। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য শিক্ষার্থীদের এই অনশনকে প্রতীকী অনশন বলায় বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যরা ওয়াক আউট করেন।

এমন পরিস্থিতিতে কলেজ কাউন্সিলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয়, নতুন ১১ তলা হোস্টেল ভবনে সিনিয়র ছাত্রদের জন্য দু’টি ফ্লোর ছেড়ে দেওয়া হবে। প্রথম বর্ষের ছাত্র এবং পোস্ট গ্রাজুয়েট ছাত্রেদর জন্যও ওই ভবনে দু’টি করে ফ্লোর দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ছাত্রদের দাবি মানায় বিজয় উল্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী অনিকেত চ্যাটার্জি বলেন, ‘আমরা লড়াই করেছি এবং জিতেছি।’

একই ধরনের আরও সংবাদ