অধিকার ও সত্যের পক্ষে

লক্ষীপুরে আলেকজান্ডার কামিল মাদ্রাসায় ফল বিপর্যয় নেপথ্যে আভ্যন্তরীণ কোন্দল

 রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধিঃ
এ বছরের আলিম পরীক্ষায় লক্ষীপুর জেলার রামগতি উপজেলা সদরে অবস্থিত চর আলেকজান্ডার কামিল মাদ্রাসার ফলাফলে মাদ্রাসার ইতিহাসে সর্বোচ্চ ফল বিপর্যয় ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পাশের হারে বোর্ডের সাথে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আসছে। কিন্তু, এ বছর মাদ্রাসা বোর্ডে পাশের হার ৭৮.৬৭% হলেও কেন্দ্রস্থিত অত্র মাদ্রাসায় পাশের হার মাত্র ৩৫.৯৫% । জানা যায় অতীতে কখনোই ফলাফলে এরকম বিপর্যয় ঘটেনি অত্র মাদ্রাসায় । এ বছর অত্র মাদ্রাসা থেকে ৮৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে মাত্র ৩২ জন। অথচ পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে পাশের হার রামগতি রাব্বানিয়া মাদ্রাসায় ৮৪.৩৭% ও চর কলাকোপা কারামতিয়া মাদ্রাসায় ৬২.৫% পাশ করেছে।
পর্যালোচনায় দেখা যায় চর আলেকজান্ডার কামিল মাদ্রাসার আলিম রেজাল্টে ২০১৭ সালেও পাশের হার ৮০%, ২০১৬ সালে ৪৮% ও ২০১৫ সালে যা ৯৩% ছিল।একই অবস্থা ছিল এ বছরের দাখিল পরীক্ষার রেজাল্টেও ।অতীতে কখনো দাখিলে পাশের হারে ৮০% এর নিচে না নামলেও এ বছর দাখিল পরীক্ষায় অত্র মাদ্রাসায় পাশের হার ছিল ৫০%।  যা বিগত বছরগুলোতে ছিল ২০১৭ সালে ৮০%, ২০১৬ সালে ৮৯% ও ২০১৫ সালে ৮৫% । একই অবস্থা ফাজিল ও কামিলের রেজাল্টেও ।  মাদ্রাসার এরূপ ফল বিপর্যয়ের জন্য অভিভাবকদের অনেকেই প্রতিষ্ঠানের আভ্যন্তরীণ কোন্দল, গভর্ণিং বডির স্বেচ্ছাচারিতা ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে দায়ী করছেন।
জানা যায়, ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠানটির উপাধ্যক্ষ জনাব তৈয়ব আলী। সালেহ উদ্দিন নামক এক ছাত্রী অভিভাবক অভিযোগ করেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির মধ্যে তিনি শিক্ষকদের একটি পক্ষকে অপর একটি পক্ষের বিরুদ্ধে উসকে দেন, যার ফলে গ্রুপিং স্পষ্ট হয়ে উঠে ।শিক্ষকদের মধ্যে একটি গ্রুপকে জনাব তৈয়ব আলী অতিরিক্ত সুবিধা দেয়া ও অন্য গ্রুপকে হয়রানি করার কারনে শিক্ষকরা যথাযথ ভাবে পাঠদান  থেকে বিরত থাকেন বলে অভিযোগ করে এ অভিভাবক। তিনি আরো জানান, অত্র মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক জনাব আবদুর রহমান প্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময়ে তিনি হজ্ব ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন এবং প্রতি বছর হজ্বের সময়ে ২ মাস মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকেন। আরেক শিক্ষক আবদুর রহিম তিনি পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনারের দায়িত্ব নিয়ে সর্বদা ব্যস্ত থাকলেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজ কোরামের হওয়ার কারনে তাদেরকে কোন সতর্কও আজ পর্যন্ত করেন নি । অনেক শিক্ষকেরই এই অবস্থা।
এ বিষয় সহ জনাব তৈয়ব আলীর বিরুদ্ধে আরো ৫টি বিষযে জনাব সালেহউদ্দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করলে মন্ত্রণালয়ের সহকারি সচিব আবদুল খালেক গত ৩০ জুন মাদ্রাসায় এসে সরেজমিনে তদন্ত করে এবং বিষয়টি সত্যতা পেয়েছেন বলে জানান উক্ত অভিভাবক । আরেক অভিভাবক জনাব জমির উদ্দিন বলেন অত্র মাদ্রাসার গভর্ণিং বডির স্বেচ্ছাচারিতার কারণেই এই দূরবস্থা বিরাজমান। তিনি বলেন, জনাব তৈয়ব আলী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হওয়ার পর গভর্ণিং বডির নির্বাচন  ভূয়া ভোটার করে সুকৌশলে নিজ কোরামের  প্রার্থীদের বিজয়ী করেন। এ কারনে বর্তমানে গভণিং বডি ও ভারপ্রাপ্ত মিলে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত, মাদ্রাসার শিক্ষা নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যথা নাই। প্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময়ে শিক্ষকরা বাজারে ঘুরে বেড়ায় কিন্তু, অভিযোগ করলেও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি ।
গভর্ণিং বডির নির্বাচনে হাফেজ মাইন উদ্দিন সহ অন্যদেরকে অবৈধভাবে বিজয়ী করা ও আরো কতিপয় বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান জনাব জমির উদ্দিন। মাদ্রাসায় বর্তমান গভর্ণিং বডি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের  এহেন গ্রুপিং এর শিকার হয়ে প্রতিষ্ঠানটি আজ ধ্বংসের মুখে চলে যাচ্ছে । সচেতন অভিভাবকদের দাবি, অচিরেই এই কোন্দল নিরসন করে প্রতিষ্ঠানটি পূর্বের ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন ।
একই ধরনের আরও সংবাদ