অধিকার ও সত্যের পথে

টেস্টে পাস পাবলিক পরীক্ষা ফেল শুভঙ্করের ফাঁকি কোথায় ?

 এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান।।

নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে কোনো শিক্ষার্থীই পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। একই সঙ্গে পাবলিক পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত টেস্ট পরীক্ষার খাতা সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নির্দেশনা দিয়ে  মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) নির্দেশনা জারি করেছে।  মাউশির ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী পরীক্ষার খাতা সংরক্ষণ করতে হবে। উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের কর্মকর্তারা মাঝে মধ্যে এ বিষয়টি মনিটরিং করবে। কিন্তু বাস্তবতা কি বলে । গতকাল  উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী সারা দেশে পাশের হার ৬৬.৬৪   শতাংশ।

 এরমধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৯ হাজার ২৬২ জন শিক্ষার্থী।ফেলের হার ৩৩.৩৬ শতাংশ। এটা হল সারা দেশের চিত্র। আর বাংলাদেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের হিসার একটু নজর দিই। ঢাকার  খ্যতিমান কলেজগুলোর অবস্থা লক্ষ করি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজে ৯৯,৭৮ শতাংশ, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে ৯৮,৯৬  শতাংশ ,  ঢাকা রেসিডেন্সিয়ালে পাশের হার ৯৯.৮৬ শতাংশ ,মাইলস্টোন কলেজ পাসের হার ৯৯.০২ শতাংশ।  একজন বাদে সবাই পাস রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে , উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজে পাশের হার ৮২  শতাংশ।  এছাড়াও ৫৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল। একটু নজর দিই টেস্ট পরীক্ষায়  শুভঙ্করের ফাঁকির দিকে। বিশ্বাস করুন আর না করুন টেস্ট পরীক্ষায় ৬০-৭০% ভাগ শিক্ষার্থীর বেশী পাশ করে না, এটা শতভাগ সত্য। দেশের হাতেগোণা কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাদ দিলে সামগ্রিক চিত্র এরকমই। রাজধানী শহর ঢাকা, জেলা, উপজেলা থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশী।

 টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উভয়ই নড়ে চড়ে বসে। শুরু হয় দৌড় ঝাপ। ফরম পুরণে অনেক টাকা খরচ করায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উভয়ই সচেতন হয়ে ওঠে। এরপর শুরু হয় প্রভাবশালীদের চাপ, লেখাপড়া জানা বা নাজানা কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের সুপারিশ, নরম-গরম মহড়া, হুমকি-ধমকি ও শিক্ষার্থীর চোখের পানি, নাওয়া খাওয়া বন্ধ, মা, বাবার করুণ আকুতি, আত্মহত্যার অভিপ্রায়। প্রস্তাব আসে বেশী টাকা দিয়ে ফরমপুরণ করে দেবার। অধ্যক্ষ ও সভাপতির টাকার বানিজ্যে শুরু হয় ফরম ফিলাপ। টাকার কাছে হার মানে নিয়ম-কানুন ও সরকারী আদেশ প্রজ্ঞাপন।  

লেখক-শিক্ষক ও সাংবাদিক।

একই ধরনের আরও সংবাদ