অধিকার ও সত্যের পক্ষে

২০১৮ এর নীতিমালা প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগে শূন্যতা সৃষ্টি করবে

 বিশ্বজিৎ রায়

গত ১২ জুন ২০১৮ খ্রি বেসরকারি  শিক্ষকদের এমপিও নীতিমালা  প্রকাশিত হয়েছে।প্রকাশিত  নীতিমালায় প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগে যে শর্ত আরোপ করা হয়েছে, তাতে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগে নিশ্চিত ভাবে  সারা দেশে শূন্যতা  তৈরি করবে সাথে সাথে প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচনে জবাবদিহি  মূলক পরীক্ষার পথ বন্ধ করবে। মেধাবীদের প্রশাসনিক পদে আসার পথ রুদ্ধ করবে। তৈরি হবে দূর্বল প্রশাসন,প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে মান সম্মত শিক্ষা  নিশ্চিত  করণে। দেশে অনেক মেধাবী সিনিয়র  শিক্ষকরা রয়েছেন যাদের মেধা,যোগ্যতা ও বুদ্ধিমত্তার  কাছে হার মানে অনেকে, তারা রাখতে পারে Dream School তৈরি করার কার্যকারী পদক্ষেপ।  এধরণের নীতিমালা  দক্ষ মানবসম্পদ  গঠনের পথ রুদ্ধ করবে।

হোচট খাবে  মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করণের পথ সহ সরকারের উন্নত দেশ গঠনের পরিকল্পনা। অনেক প্রতিষ্ঠান অাছে কোন কারণে হয়তো  সহকারী প্রধান নিয়োগ দিতে হয়েছিল কিন্তু  দায়িত্ব  পালনকালে দেখাগেল যে প্রতিষ্ঠান পরিচালানোর পারঙ্গমতা তার ভেতর অনুপস্থিত। এই বিধিমালা তাকে নিশ্চিত ভাবে প্রতিষ্ঠান করবে, সৃষ্টি হবে দুর্বল প্রশাসন,নিশ্চিত করবে দুর্বল শিক্ষার্থী তৈরি কারখানা, ব্যহত সরকারের তথা জাতির উদ্দেশ্য।ডিজিটাল  যুগে বসবাস করে ৯৫ র  ফিরে যাওয়ার কোণ যুক্তি আছে বলে মনে হয় না।

  ১২ বছরের অভিজ্ঞতায়  সিনিয়র শিক্ষকদের সুযোগ তৈরি করার ফলে প্রতিযোগীতা মূলক পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়েছিল, প্রশস্থ হয়েছিল প্রতিযোগীতা  করার জন্য অংশগ্রহণকারীর  সংখ্যা, নিশ্চিত হচ্ছিল দক্ষ প্রশাসক বাছাই এর পথ।  সামনে এমনও হবে  সহকারী প্রধান শিক্ষকরা তাদের মনমত কয়েকজন কে ডেকে এনে একটি সাজানো নাটক ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান বনে যাবে। অনেক প্রধান শিক্ষক নির্বাচনি  পরীক্ষায় দেখা গেছে সিনিয়র শিক্ষক, সহকারি প্রধান ও এমন কি  প্রধানশিক্ষক  অংশগ্রহণ করেছে, সেখানে মেধার ভিত্তিতে একজন সিনিয়র শিক্ষক প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। ৯৫ এর ম্যানুয়াল  এর জন্য  প্রধান শিক্ষকের শুন্যতা সৃষ্টির ধারাবাহিকতা চলছিল, তা পূরণ হচ্ছিলো, সাবলীল গতিতে চলছিল প্রতিষ্ঠান , শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহনের  ধারাবাহিকতা বজায় থাকছিলো। ১৯৯৫ খ্রি প্রণীত জনবল কাঠামোতে প্রধান শিক্ষক  ও সুপার নিয়োগের কাম্য যোগ্যতা ছিল  স্নাতক ২য় শ্রেণি সহ সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে ৩ বছরের অভিজ্ঞতা সহ ১৫  বছরের অভিজ্ঞতা।

দেশে তৈরি হলো শূন্যতা। স্কুলকর্তৃপক্ষ কখনও জুনিয়র শিক্ষক,কখনও সিনিয়র শিক্ষক আবার কখনও সহপ্রধান দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে লাগলেন। তৈরি হতে লাগল বিশৃঙ্খলা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাঘাত ঘটতে থাকে। পরিস্থিতি এড়াতে ০২/০৪/২০০৮ তারিখে প্রতিষ্ঠান পদটি জনবল কাঠামোর বাইরে রেখে পদ পূরণ কল্পে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। সহঃপ্রধানের পদ টি নিয়ে সমস্যা হতে থাকলে আবারও চার মাস পর অর্থাৎ ১১/৮/২০০৮ তারিখে সহঃ প্রধানও প্রধান শিক্ষকের  পদটি জনবল কাঠামোর বাইরে রেখে পূরণকল্পে আরও একটি প্রজ্ঞাপন জারি  করে। কিন্তু এতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় না সহঃপ্রধান হয়ে প্রধান শিক্ষক হওয়ার কারণে। 

পরবর্তীতে ৩১ মে ২০০৯ সালে প্রধান শিক্ষকের জন্য স্নাতক পাশ সহ  ১২ এবং সহঃ প্রধানের জন্য ১০ বছরে অভিজ্ঞতা উল্লেখ  করে প্রজ্ঞাপন জারী করলে প্রধান শিক্ষকের শূণ্য পদ গুলো পূরণ হতে শুরু করে যা ৪ ঠা ফেব্রয়ারী ২০১০ ম্যানুয়ালে  সন্নিবেশিত করা হয়। সংশোধিত  জনবল কাঠামো আগষ্ট/২০১২( প্রণীত ৪ঠা ফেব্রয়ারী ২০১০ )এ প্রধান শিক্ষকের স্নাতক২য় বিভাগ সহ  ১২ বছরের অভিজ্ঞতা এবং সহঃ প্রধান ও নিম্ম মাধ্যমিকের প্রধান শিক্ষকের স্নাতক ২য় বিভাগ ১০ বছরের অভিজ্ঞতা সহ আরও একটি জনবল কাঠামো জারী করলে আবারও প্রসাশনিক পদে শূন্যতা সৃষ্টি হয় কারণ স্নাতক ২য় বিভাগ সহ উক্ত ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠান প্রধানের অভাব ছিল।অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান  প্রধানের পদ খালি থেকে যাচ্ছিল এবং প্রশাসনিক কর্মকান্ড ব্যহত হচ্ছিল। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১২ প্রজ্ঞাপনে ৩য় বিভাগ/ শ্রেণি প্রাপ্তরাও প্রতিষ্ঠান প্রধান পদে  আবেদনের যোগ্যতা উল্লেখ করে আরও একটি প্রজ্ঞাপন জারী করা হয়। পরবর্তীতে মার্চ২০১৩ ( প্রণীত ৪ ঠা ফেব্রয়ারী২০১০) এ প্রধান শিক্ষকও অধ্যক্ষের জন্য স্নাতক সহ ১২ বছরের ও  নিম্ন মাধ্যমিকের প্রধান শিক্ষক, সহ প্রধান,সহ সুপার,ও উপাধ্যক্ষের জন্য স্নাতক সহ ১০ বছরের  বিধান রেখে জনবল কাঠামো সংশোধন করলে প্রতিষ্ঠান প্রধানের পদ গুলো পূরণ হতে থাকে  এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে।

সরকারি  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরাসরি  নিয়োগ হয়ে থাকে। আবার পদোন্নতি  পেয়েও থাকে। যারা সরাসরি নিয়োগ লাভ করে তারাও তো প্রাথমিকের সমাপনি পরীক্ষার মত বড় পাবলিক পরীক্ষা সামাল দিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে যাচ্ছে।  কিন্তু মাধ্যমিক সহ পরবর্তী  পর্যায়ে ব্যতিক্রম।  এখানে অভিজ্ঞতা সংশ্লিষ্ট  শিক্ষক রাখতে গিয়ে ৯৫ সালের এনালগ ম্যানয়ালকে  ডিজিটাল  যুগে টেনে আনা হয়েছে। এ নিয়ে দেশ ব্যাপী  শিক্ষক সমাজ প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠেছে।

বেসরকারি  শিক্ষক – কর্মচারী  অবসর সুবিধা  বোর্ডের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শরীফ  মো :  সাদী ” অধ্যক্ষ / উপাধ্যক্ষ পদে আবেদনে ৩ বছরের  সহকারী  অধ্যাপক পদের অভিজ্ঞতা বাতিলের দাবী  জানিয়েছেন “।

এ ধরনের কালা কানুন জারি করার আগে সমগ্র  বিষয়টি পর্যবেক্ষণে  আনতে হতো । তাহলে সুন্দর একটি তথ্য বেরিয়ে আসত। নীতি মালা  প্রনয়ন কমিটি কোন পর্যবেক্ষনে এ আইন জারি  করেছেন তা বোধগম্য নয়। যদি পর্যবেক্ষটা এরকম হয় যে সিনিয়র শিক্ষকেরা সহকারী প্রধানদের টপকিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান  বনে যাচ্ছেন তাই। তাহলে এখানে বলা যায় যে অনেক জুনিয়র শিক্ষকে আছে সেখানে তারা অনেক সিনিয়র শিক্ষদের টপকিয়ে সহ: প্রাধন বা উপাধ্যক্ষ হয়ে যাচ্ছে। ১২ বছরের অভিজ্ঞতা মেনে  চলছিলো তো ভালই । নুতন এ আইন “নীতিমালা  ২০১৮ ”  প্রতিষ্ঠান প্রধানের পদে নিশ্চিতভাবে শূন্যতার সৃষ্টি করবে। মাননীয়  শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আবেদন প্রতিষ্ঠান সচল রাখার নিমিত্তে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগে মার্চ ২০১৩ ( প্রণিত ৪ ফেব্রুয়ারী২০১০ ) জনবল কাঠামোর শর্তাবলী  ২০১৮ জনবল কাঠামোতে সন্নিবেশিত  করার সানুনয় প্রার্থনা জানাচ্ছি।
লেখকঃ শিক্ষক, মৃজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়
তালা, সাতক্ষীরা।

একই ধরনের আরও সংবাদ