অধিকার ও সত্যের পক্ষে

মিরসরাই ট্রাজেডি দিবস

 খ ম জুলফিকার
২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলায় এক ধমকা হাওয়া এসে কেড়ে নিয়েছে ৪৫টি জীবন। প্রতি বছর এ দিনটি  আমাদের মধ্যে আসে। অথচ আজও সেই নির্মমতা মিরসরাইয়ের বাতাসকে ভারি করে রেখেছে। সেই মায়েদের আর্তনাদ আর শোকের মাতম থামেনি। আজও শোকে স্তব্ধ হয়ে রয়েছে পুরো উপজেলা। আবুতোরাব স্কুলের সহপাঠিরা আজও তাদের বন্ধুদের খুঁজে ফেরে স্কুলের আঙ্গিরায় আর খেলার মাঠে। অথচ তারা নেই, তারা বিচরণ করছে হলুদ পাখি হয়ে তাদের স্রষ্ঠার সান্নিধ্যে

১০১১ সালের ১১ জুলাই, সোমবার। মিরসরাই সদরের মিরসরাই স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিযোগীতায় আবুতোরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বনাম মঘাদিয়া আনজুমান্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শেষে আবুতোরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমর্থকরা একটি পিকআপ ভ্যান করে আবুতোরাব যাচ্ছিল। এসময় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলে ৩৫ জন নিহত হয়। হাসপাতালে নেয়ার পর আরো ৫ জন মারা যায়। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো ৫ জন মারা যায়।

নিহতদের বেশির ভাগই আবুতোরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়রে ছাত্র। এছাড়াও আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয় এবং আবুতোরাব কলেজের শিক্ষার্থীও কয়েকজন ছিল। তারা নবাই খেলা দেখতে গিয়েছিল।

নিহতরা হলো তারেক (১৫), আরিফ (১৫), ইফতেখার (১৭), সাইফুল (১৭), শামসুদ্দিন (১০), নয়ণ (১০), রাজীব (১৪)‏, মহিউদ্দিন (১০), শাহাদাত হোসেন (১১), আনন্দ (১০), মামুন (১২), রাজীব (১১), জুয়েল (১৪), লিটন (১৩), তোপাজ্জেল (১২), টিটু (১৮), শুভ (১৪), সাজু (১৭), সাজ্জাদ (১৭), সমীর (১২), আনোয়ার (৩৫), মো আরিফ (১৫), রনি (১৩), মো বাকীউল্লাহ (১৪), শফি (১২), সুজন (১৫), আসিফ (১৫), রকিবুল ইসলাম(১৩), সাখাওয়াত হোসেন (১৬), ইমরান হোসেন (১৫), জাহেদ হোসেন (১৪), সুজন (১৩), শরিয়তউল্লাহ (১৩), আমিন শরিফ (১১), রিয়াজ রহমান (১১), শাহাদাত হোসেন (১১), খাইরুল ইসলাম (১৩), আবুতোরাব ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্র জিল্লুর রহমান (বাকিদের নাম আমার সংগ্রহে নেই)। নিহতদের মধ্যে শুধুমাত্র একজন ছাড়া সকলেরই বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ও নির্মম এই দুর্ঘটনা পুরো শোকের সাগরে ভাসিয়ে দেয়। দুঘূটনার পর সেখানে ছুটে যান আমাদের দুই নেত্রীসহ বায়লাদেশের প্রথম সারির প্রায়গুলো রাজনৈতিক, পেশাজীবি. সামাজিক সংগঠন সহ বিভিন্ন সংস্থ।

এই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে জানা যায়,- যে পিকআপ ভ্যানে করে তারা আসছিল, সে পিকআপ ভ্যানটির অতিরিক্ত গতি এবং চালক মফিজ চলন্তাবস্থায় মোবাইলে কথা বলছিলো। এমন সময় এটি একটি কালভার্টের উপর আসলে তা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের ডোবায় পড়ে গেলে ৪৫ স্কুল ছাত্রের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় একটি তদস্ত কমিটি হয়েছিল।

এই সড়ক দুর্ঘটনায় শুধুমাত্র যে ৪৫ টি পরিবারই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, তা কিন্তু নয়। বরং এই জীবন গুলোর মধ্যেই লুকিয়ে ছিল, একেকজন নজরুল, রবিন্দ্রনাথ, ড: ইউনুস, সালমান খান, শেরে বাংলা, সোরাওয়ার্দিসহ কত ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার পাইয়োনিয়ার ও আইডল, যারা আলোকিত করতে পারতো এই ধরা।

কিন্তু! সামান্য একটু দায়িত্বহীনতার কারনে সেগুলো আজ অধরা, আমরা হারিয়েছি অজনা বীর আর যে পরিবার গুলোর সন্তান! তারা হারিয়েছে কত আশা, কত স্বপ্ন।

একই ধরনের আরও সংবাদ