অধিকার ও সত্যের পথে

বঙ্গবন্ধুর নামের বানানের বিকৃতির প্রতিবেদন জমা দেয়নি তদন্ত কমিটি

 এস এম আল-আমিন, বেরোবি প্রতিনিধি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর থেকে পাঠানো একটি চিঠিতে চার জায়গায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামের বানানে ভুল থাকার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি তদন্ত কমিটি। বুধবার দুপুর ১২ টায় প্রশাসনের বেধে দেয়া ৪৮ ঘন্টা সময় পূর্ণ হলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেয়ায় ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

তবে এবিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব সহকারী প্রক্টর সদরুল ইসলাম জানান, ঘটনা সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য সংগ্রহ করেছে তদন্ত কমিটি। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটির একটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর একটি সভা ডেকে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে দ্রæত তা প্রশাসনের নিকট জমা দেয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নোবেল শেখ বলেন, প্রতিবেদন জমাদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ হতে তদন্ত কমিটিকে ৪৮ ঘন্টা সময় দেয়া হয়েছিল। বুধবার দুপুরে নির্ধারিত সময় পূর্ণ হয়েছে। আমরা বুধবার গোটা দিন অপেক্ষা করব। এরমধ্যে প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে বৃহস্পতিবার থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও শহীদ মুখতার ইলাহী হলে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ হোসাইন পাটোয়ারি স্বাক্ষরিত সেই চিঠিতে বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের জায়গায় ‘বঙ্গবন্দু শেখে’ এবং শহীদ মুখতার ইলাহীর জায়গায় ‘মোখতার, মূখতার’ ইলাহী লিখা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামের বানান ৪ জায়গায় এবং শহীদ মুখতার ইলাহীর নামের বানানে ২জায়গায় এমন ভুল থাকায় গত রবিবার সকাল ১০টায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রকৌশল দপ্তরের উপ-প্রকৌশলীর অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরদিন গত সোমবার বঙ্গবন্ধুর নামের বানান বিকৃত করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অব্যাহতি ও শাস্তির দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে প্রশাসনিক ভবনের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। ভোগান্তিতে পড়ে ভর্তি ও ফর্ম পূরণ করতে আসা বিভিন্ন বিভাগের প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থী। এঘটনায় সোমবার দুপুরে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফ পাটোয়ারী এবং ক¤িপউটার অপারেটর শ্যামলকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

একই সাথে ওই ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. একেএম ফরিদ-উল ইসলামকে আহবায়ক করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। বুধবার উপাচার্যের বেধে দেয়া নির্ধারিত সময় শেষ হলে প্রতিবেদন জমা দেয়নি তদন্ত কমিটি।

একই ধরনের আরও সংবাদ