অধিকার ও সত্যের পথে

স্থাপত্যকলায় মুসলমানদের অবদান

 মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ

পবিত্র ধর্ম ইসলাম জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মানবিক উন্নয়নের অম্লান আদর্শ। জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব শাখায় অবদানের পাশাপাশি পবিত্র কুরআন থেকেই মুসলমানগণ স্থাপত্যকলার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।
মহাগ্রন্থ কুরআনে বর্ণিত পৃথিবীর প্রথম স্থাপনা পবিত্র কাবা শরিফ। মহান আল্লাহ্ বলেন “নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে গৃহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা তো ‘বাক্কা’য় (তথা মক্কা, বাক্কা ছিল মক্কার আদি নাম)। উহা বরকতময় ও বিশ্বাবাসীর জন্য দিশারী” (মায়েদা: ৯৬)। মক্কা নগরীর বেশ কয়েকটি নাম রয়েছে। পবিত্র মক্কার কয়েকটি নাম পাওয়া যায় আল কুরআনে: ১. মক্কা (ফাতহ্ ২৪) ২. বাক্কা (আল ইমরান ৯৬) ৩. উম্মুল কুরা (আনআম ৯২, শূরা ০৭) বালাদিল আমিন (তিন ০৩)। এ ঘরকে কেন্দ্র করেই আজকের বিশ্বসভ্যতা এগিয়েছে এতদূর। পবিত্র ‘কাবা’ ঘরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শহরকে বলা হয়েছে ‘বালাদিল আমিন’। বলাবাহুল্য, নগরসভ্যতা মানুষকে পরিপাটি সুন্দর সুশিক্ষিত অবয়বে মেলে ধরে। পবিত্র ‘কাবা’ ঘর বিনির্মাণকালে হযরত ইব্রাহিমের (আ.) মুনাজাত ছিল “হে প্রভু। এ শহরকে তুমি (শান্তি) নিরাপত্তার শহর বানিয়ে দাও…” (বাকারা: ১২৬)।
পবিত্র কুরআনে বর্ণিত সম্মৃদ্ধ জনগোষ্টি ‘সাবা’। নদী শাসন, নগরায়ন, বিপনী বিতান, পর্যটন ইত্যাদিতে ওরা চরম উন্নতি করে এবং সেচ সুবিধা ও উন্নত চাষাবাদ, নগরের সুরক্ষার জন্য নির্মাণ করেছিল বহুমাত্রিক ব্যবহার উপযোগি ১২টি শক্তিশালী বন্যানিয়ন্ত্রণ বাধ। ওরা অবাধ্যতা ও পাপাচারের চরমে পৌঁছায়। মহান আল্লাহ্ বলেন “সাবা অধিবাসীদের জন্য তাদের বাসভূমিতে ছিল এক নিদর্শনÑ দু’টি উদ্যান একটি ডানে, অন্যটি বাম দিকে….. তারপর তারা অবাধ্যতা করল ফলে আমি তাদের ওপর প্রেরণ করলাম প্রবল বন্যা। আর তাদের উদ্যানদ্বয়কে পরিবর্তন করে দিলাম এমন দু’উদ্যানে, যাতে উদ্গত হয় বিস্বাদ ফলমূল, ঝাউগাছ এবং সামান্য কুলবৃক্ষ” (সাবা: ১৫,১৬)।
পবিত্র কুরআনের বর্ণনায় প্রমাণিত হয় শহুরে জীবন হলো শান্তি ও নিরাপত্তার নির্ভার রূপকল্প।
প্রিয়নবীর (স.) আদর্শধারা বিকশিত হয়েছিল মদীনার শহুরে আবহে। ঐতিহাসিক সনদের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে ‘নবীর শহর’ মদীনা। প্রিয়নবীর (স.) সময়েই মদীনায় পয়ঃনিষ্কাষণ, বিশুদ্ধ-নিরাপদ পানীয়, সড়কবাতি, নগরের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদির প্রভুত সম্মৃদ্ধি দূর মরুচারী মানুষকে ইসলামমুখি ও শহরমুখি করে তোলে।
নগরায়নের অনুসঙ্গ স্থাপত্যকলা। মানবজাতির প্রথম স্থাপনা পবিত্র কাবা ঘর। এ ধারাবাহিক আধুনিক ও বিজ্ঞানের জয়যাত্রায় আজো বিস্ময়ে চিরভাস্বর মুসলিম স্থাপত্য নিদর্শনাবলী। এ গুলোর কয়েকটির বিবরণ নিম্নরূপ:
(০১) ইস্পাহান মসজিদ:
এটি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ নগরী ইস্পাহানের কেন্দ্রীয় মসজিদ। মুসলিম স্থাপত্যকলার অন্যতম অহঙ্কার এ মসজিদটি। ৭ম থেকে ১০ম শতাব্দীকাল ব্যাপী দারুণ সৌন্দর্য ও নান্দনিকতায় গড়ে ওঠা এ মসজিদটিকে বলা হয় মস্ক অব ইস্পাহান। ১২শ শতাব্দীতে মসজিদটির ব্যাপক সংস্কার ও উন্নয়ন করা হয়। এ মসজিদ নির্মাণ শৈলীতে ব্যবহৃত হয়েছে ‘আইওয়ান’ গঠন প্রযুক্তি ও প্রণালী। এ ধারার নির্মাণ শৈলীর অন্যতম আকর্ষণ হলো, সব চারকোণ বিশিষ্ট প্রাঙ্গণের প্রত্যেক পাশে বড় আকারের একটি খিলান করা দরজা থাকে। বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এ মসজিদ-স্থাপত্য নিদর্শনকে ২০১২ সালে UNESCO ‘বিশ্ব প্রত্ননির্দশন’ (World heritage) ঘোষণা করেছে।
(০২) স্পেনের আল হামরা:
কালাত আল হামরা অর্থাৎ লাল কেল্লা, বা আল হামরা প্রাসাদ। এটি প্রধানত একটি যৌগিক দুর্গ। পরম করুনাময়ের হাত যেন তাঁর সব সৌন্দর্য সুষমা এখানেই ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। মুহাম্মদ ইবনু নাসর (১২৩৮- ১২৭৩ খ্রি.) তাঁর আবাসন ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে প্রাসাদটি নির্মাণের সূচনা ঘটান। পরবর্তী ৩০০ বছরে বিভিন্ন মুসলিম শাসকের পরিকল্পনা ও পরিচর্যায় আল হামরার নান্দনিকতা ও পরিসর বৃদ্ধি পেয়ে এর খ্যাতি ছড়িয়ে পরে বিশ্বময়। আল হামরার দেয়ালে স্বর্ণ ও পাথরে খোদাই করা আরবি ক্যালিওগ্রাফির অনুপম শিল্প নিদর্শন অত্যন্ত বিস্ময়কর। প্রাসাদের ভেতরে রয়েছে মনোরম বাগিচা ও ঝর্ণা। পবিত্র কুরআন, হাদিস, আরবি কবিতা ও উপদেশাবলি আল হামরার কক্ষ, খুঁটি, মিনার ইত্যাদিকে সুশোভিত করেছে। এতে ব্যবহৃত হয় শত শত মন স্বর্ণ, মূল্যবান হিরক খন্ড ও মনিমুক্তা। ০২ নভেম্বর ১৯৮৪ আল হামরাকে ইউনেস্কো মানবতার সাংস্কৃতিক বিশ্ব-ঐতিহ্য ঘোষণা করেছে।
(০৩) সুলায়মানিয়া মসজিদ:
উসমানিয় স্থাপত্যরীতির অন্যতম নিদর্শন সুলায়মানিয়া মসজিদ। ১৫৫০ থেকে ১৫৫৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে মসজিদটি নির্মিত। তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী ইস্তাম্বুল নগরের সবচেয়ে বড় ও বর্ণিল স্থাপত্য নিদর্শন এ মসজিদটি আজো মাথা উঁচু করে তাওহিদ- রিসালতের ডাক দিয়ে যাচ্ছে।
এ মসজিদটিই পৃথিবীর অন্যতম প্রথম মসজিদ যার নির্মাণ কাঠামোতে চারটি মিনারের সন্নিবেশ ঘটেছে। আগে ঐতিহ্যগতভাবে সাধারণত একটি মিনার রাখার রীতি প্রচলিত ছিল। এ মসজিদ-স্থাপত্য নিদর্শনকে টঘঊঝঈঙ ‘বিশ্বপ্রত্ননির্দশন’ ’ (World heritage) ঘোষণা করেছে। উসমানিয় প্রথম সুলতান সুলায়মানের আর্থিক আনুকূল্য ও অনুপ্রেরণায় নির্মিত ঐতিহাসিক এ প্রত্ননির্দশন’ টি সুলায়মানিয়া মসজিদ নামে পরিচিত।
(০৪) মরক্কোর চেফচাওয়েন:
মরক্কোর রাইফ পর্বতের পাশে অবস্থিত চেফচাওয়েন মূলত একটি গ্রাম। ১৫ শতকে এখানেই গড়ে ওঠে নানান স্থাপত্য নিদর্শন। মায়াবী নীল রঙের এ স্থাপত্যগুলো আজো মুসলিম সংস্কৃতির জীবন্ত কিংবদন্তী হিসেবে সমাদৃত। চেফচাওয়েনের আকর্ষণে দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভ্রমন পিয়াসী এখানে ছুটে আসেন। মুসলিম-অমুসলিম পর্যটকগণ চেফচাওয়েনের রাস্তায় হেঁটে হেঁটে এর বৈচিত্রের ছোঁয়া অনুভব করেন এবং এখানে গড়ে ওঠা হস্তশিল্পের ক্রেতা হয়ে মনের সুপ্ত বাসনা পূর্ণ করেন।
(০৫) ইরানি হাম্মামখানা:
ইসলামি কৃষ্টি-সভ্যতা বিকাশের আগে মানুষের মধ্যে গোসলখানার ধারনাই ছিল না। ইসলামের পর্দার প্রথা ও শিষ্টাচারের সার্থক প্রকাশ গোসলখানাকে আরবিতে বলা হয় হাম্মামখানা। ইরানের কাশান নামক স্থানে মুসলিম স্থাপত্যকলার অনন্য স্বাক্ষী সুলতান আমির আহমদের হাম্মামখানা বা বাথহাউজ। ষোড়শ শতকের এ শিল্পমন্ডিত স্থাপনাটি এখনো ইরানের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিশেষ দ্যুতি ছড়াচ্ছে। স্থাপনাটির রয়েছে জাতীয় ও ঐতিহ্যগত মর্যাদা। সুলতান আমির আহমদের হাম্মামখানা বা বাথহাউজের অলঙ্করণের টাইলস অত্যন্ত আশ্চর্য ও সুবন্যস্ত। নন্দিত এ মুসলিম স্থাপত্যের কারুকার্যে ব্যবহৃত হয়েছে স্বর্ণ ও নীলকান্তমণি।
(০৬) নাসির আল মুলক মসজিদ:
ইরানের সুপ্রসিদ্ধ শিরাজ নগরে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদের নাম, নাসির আল মুলক মসজিদ। গোলাপী মসজিদ নামেও স্থাপত্যটি সুপরিচিত। ১৮৮৮ সালে নির্মিত এ মসজিদটিতে ব্যবহৃত হয়েছে রঙিন গ্লাসের অলঙ্করণ। ফলে যখন মসজিদের জানালা সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়, তখন মসজিদের ভেতরে লাল-গোলাপী আলোর এক অনন্য রহস্যময় আবেশ তৈরী হয়। প্রাচীন-পারস্য বা ইরানি স্থাপত্যশৈলীর অনুপম নিদর্শন নাসির আল মুলক মসজিদ ইরানসহ ও মুসলিম বিশ্বের এক সুন্দরতম অহংকার।
(০৭) মান্তাজা প্রাসাদ:
১৯৩২ সালে আলেকজান্দ্রিয়া, মিশরে নির্মিত হয় মান্তাজা প্যালেস (প্রাসাদ)। এ স্থাপনাটি মুসলিম স্থাপত্যের আরো এক অনন্য নিদর্শন। মান্তাজা মূলত মিশরিয় রাষ্ট্র নায়কের গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদ। ভূমধ্য সাগর তীরবর্তী এ প্রাসাদ নির্মাণে তুর্কি ও ফ্লোরেনটাইন কারুশৈলী অনুসরণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রাসাদের রাজপথ ও বাগান সর্বসাধারণের জন্য উম্মুক্ত। বিনোদন ও অবকাশের জন্য অসংখ্য পর্যটক মান্তাজা প্রাসাদ এলাকায় ভীড় জমায় প্রতিদিন।
(০৮) দ্বিতীয় হাসান মসজিদ:
১৯৯৩ সালে মরক্কোর উপকূলীয় শহর কাসাব্যাংকায় নির্মিত হয় দ্বিতীয় হাসান মসজিদ। আফ্রিকার সবচেয়ে বড় মসজিদ কোনটি, জিজ্ঞাসা করা হলে: বলা হয় দ্বিতীয় হাসান মসজিদের নাম। স্থাপত্যগত আধুনিকতা, ভৌগলিক অবস্থান বিচেনায় মসজিদটি শুধুই ইবাদতের স্থান নয়, বরং এর রয়েছে অনন্য আভিজাত্য। মসজিদটিকে ভাসমান মসজিদও বলা যায়। এ মসজিদের একতৃতীয়াংশ আটলানন্টিক মহাসাগরে অবস্থিত। মসজিদটির মিনারের রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। ২১০ মিটার উঁচু এ মিনার, যা প্রায় ষাট তলা বিল্ডিং এর সমান। ঐ সুউচ্চ মিনারের ওপরে বসানো হয়েছে একটি বিশেষ লেজার রশ্মি, যা সমুদ্রগামী নাবিকদের পবিত্র কাবাশরিফের পথ প্রদর্শনে সহায়তা করে। বিশেষ এ রশ্মিটি ৩০ কিলোমিটার দূর থেকেও স্পষ্ট দেখা যায়। এ মসজিদের মিনারটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মিনারসমূহের অন্যতম। মসজিদের স্বয়ংক্রিয় ছাদ মাত্র তিন মিনিটে নিঃশব্দে সরান যায়, ফলে মসজিদের ভেতরে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে। মসজিদটিতে একসঙ্গে লক্ষাধিক মুসল্লির নামায আদায়ের সুবিধা ও হাজার হাজার মুসল্লির ওজু করবার ব্যবস্থা রয়েছে।
(০৯) শেখ যায়েদ গ্র্যান্ড মস্ক:
পৃথিবীর সুন্দরতম, ৮ম বৃহত্তম মসজিদ হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অবস্থিত শেখ যায়েদ গ্র্যান্ড মস্ক। মসজিদটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সবচেয়ে বড় মসজিদ। লাখ লাখ স্বচ্ছ পাথরে তৈরী বৃহত্তম ঝাড়বাতি এ মসজিদে স্থাপন করা হয়েছে, এমন বাহারি ঝাড়বাতি শেখ যায়েদ মসজিদকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনপ্রিয় শাসক প্রয়াত শেখ যায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের নামে মসজিদটির নামকরণ করা হয়। নির্মাণ কাজে মসজিদটির নকশায় ব্যবহৃত হয়েছে মার্বেল পাথর, মৃতশিল্প ও স্ফটিক পাথর ইত্যাদি। বর্তমানে সাড়া বিশ্বের ভ্রমন বিলাসী মানুষের প্রিয় দর্শনীয়স্থানের অন্যতম হলো শেখ যায়েদ মসজিদ। প্রতিদিন অসংখ্য মুসলিম-অমুসলিম দর্শনার্থীর ভীড়ে মুখর থাকে জনপ্রিয় এ মুসলিম স্থাপত্য নিদর্শনটি।
(১০) বুর্জ আল আরব:
বুর্জ আল আরব অর্থ আরবের গর্ব, অহংকার, সম্মান। প্রচলিত বাস্তবতায় আরবের স্তম্ভ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত অত্যাধুনিক এ সুবিশাল স্থাপনাটি মূলতঃ একটি বিলাসবহুল হোটেল। বুর্জ আল আরবকে বলা হয়ে থাকে পৃথিবী ৪র্থ সুউচ্চ হোটেল। এ জন্যই ইতোঃমধ্যে best hotel in the World I best hotel in the middle east   এর উচ্চ মর্যাদা ও সম্মানায় ভূষিত হয়েছে বুর্জ আল আরব। আরব জাতির গর্ব বা বুর্জ আল আরবের মতো বিশাল স্থাপনার স্থপতি টম রাইট। স্থাপত্য পরামর্শক হলো ইংল্যান্ডের বৃহত্তম পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাটকিনস। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ আফ্রিকান কন্ট্রাক্টর ম্যুরে অ্যান্ড রবার্টস্। বুর্জ আল আরবের ইন্টেরিয়র ডিজাইন করেছেন কেএসি ইন্টারন্যাশনালের ডিজাইন প্রিন্সিপাল খুয়ান চিউ। জাঁকজমকপূর্ণ হোটেলটি আরব বিশ্বের অন্যতম ধনাঢ্য ব্যক্তিত্ব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনপ্রিয় শাসক প্রয়াত শেখ যায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের পারিবারিক সম্পত্তি। উল্লেখ্য শায়খ যায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান, প্রিয়নবীর (স.) পবিত্র স্পর্শধন্য একটি অমূল্যপত্র নগদ দশ লাখ পাউন্ডে ক্রয় করে সংরক্ষণের উদ্দোগ নেন। এ পত্রটিই হলো রোম স¤্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি প্রেরিত প্রিয়নবীর (স.) পবিত্রপত্র।
পরিশেষে বলি, মুসলিম ঐতিহ্য, স্থাপত্য কৌশল, বিজয় স্মারক, শিক্ষা ও প্রশাসনিক বহুবিধ উজ্জ্বলতায় মসজিদ অনন্য। মুসলিম স্থাপত্যকলার অধিকাংশ স্থান জুড়ে রয়েছে মসজিদ। রংপুরের ৪৮ কি.মি.দুরে লালমনিরহাটের পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের ‘মজদের আড়া’ নামক স্থানে ৬৯ হি. (আনুমানিক ৬৯২ খ্রি.) বাংলাদেশের সর্বপ্রথম মসজিদ নির্মিত হয়। বাংলাদেশে রয়েছে প্রায় আড়াই লক্ষ মসজিদ। ‘জাতীয় মসজিদ খ্যাত’ ‘বায়তুল মুর্কারম’ আধুনিক ঢাকার কেন্দ্র স্থলে নির্মিত হয় ২৬ ডিসেম্বর ১৯৬২। রাজধানী ঢাকাকে ‘মসজিদের শহর’ বলা হয় এর সংখ্যা, স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিকতার জন্য। ঢাকায় প্রতিদিন ছয় হাজার মসজিদের মিনারে মিনারে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিত হয় এক লক্ষ আশি হাজার বার (ই.ফা.বা.)। মুসলিম ঐতিহ্যের জীবন্ত কিংবদন্তী বিভিন্ন দৃষ্টি নন্দন মসজিদ। যা কোন ধ্বংসাবশেষ নয় বরং তাওহীদি চেতনায় সমুজ্জ্বল ও মানব জাতির অহংকার। এখানেই স্বীকার করতে হয় মহান আল্লাহ্র বাণীর সার্থকতা: “নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহর” (জ্বিন : ১৮)।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ইসলামিক স্টাডিজ কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ কাপাসিয়া গাজীপুর ।

একই ধরনের আরও সংবাদ