অধিকার ও সত্যের পথে

শিক্ষার্থী নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন রাবির ১৪ শিক্ষক

 শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তারসহ উদ্ভুত পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়ে শিক্ষার্থী নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪জন শিক্ষক।

বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র কলা ভবনের ১২৩ নম্বর কক্ষে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে শিক্ষকবৃন্দ’র ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি আ-আল মামুন বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতি আমাদেরকে শঙ্কিত করে তুলেছে। এই পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয় পরিসরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্বাধীন মতামত প্রকাশ, আত্মমর্যাদা এবং জীবনের নিরাপত্তা আরও সঙ্কুচিত করে তুলেছে বলেই আমরা মনে করি।

আমরা লক্ষ্য করেছি, গত মার্চ মাস থেকে চলমান কোটাসংস্কার আন্দোলনে দল-মতনির্বিশেষে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছে। তাদের এই জনসমর্থিত আন্দোলন শুরু থেকেই অহিংস, এবং শান্তিপূর্ণ ছিল। আমরা মনে করি, নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিদাওয়া নিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন সংগ্রাম করতেই পারে। এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। অন্তত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর সবসময় এ ধরনের স্বাধীনচিন্তা ও মতপ্রকাশকে উৎসাহিত করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

কিন্তু কোটাসংস্কার আন্দোলন নিয়ে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা আমাদেরকে বিপুলভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। এই আন্দোলন শুরুর পর থেকেই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নানাভাবে পুলিশি হেনস্তা ও হুমকি-ধামকির শিকার হতে হয়েছে। গত শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে একটি শান্তিপূর্ণ জমায়েতের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালায়।

কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে প্রহার করা হয়। পরের দিন ওই হামলার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্দোলনকারীরা জমায়েত হলে সেখানেও ছাত্রলীগ দফায় দফায় সশস্ত্র হামলা চালায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকের পাশে একটি পতাকা মিছিলের জন্য জমায়েত হলেও ছাত্রলীগ সশস্ত্র হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করে। এতে এক শিক্ষার্থীর মাথা ফেটে ও পা ভেঙে যায়।

পুলিশের উপস্থিতিতেই প্রকাশ্যে এধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের অধিকার ও জীবনের নিরাপত্তাবিধানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনের গভীর মৌনতা আমাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

একই ধরনের আরও সংবাদ