অধিকার ও সত্যের পথে

ভুঁইফোড় সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের প্রতিহত করতে হবে

 এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান।।

সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। প্রকৃত অর্থে সাংবাদিকতা আর দশটি পেশার মতো নয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও’র মতে, সাংবাদিকতা একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশাও। প্রকৃত সাংবাদিকের দায়িত্ব বস্তুনিষ্ঠ ও সততাপূর্ণ সংবাদ পরিবেশন করা। সাংবাদিকতা যেমন এক বিধ্বস্ত জাতিকে পুনর্গঠনে অবদান রাখতে পারে, ঠিক তেমনি সাংবাদিকতার নামে মিথ্যাচারিতা, পক্ষপাতিত্ব, স্বার্থপরতা এক সুসংহত জাতিকে হিংসাত্মক যুদ্ধের দাবানলে অগ্রসর ভূমিকা রাখতে পারে।

আজ আমাদের সাংবাদিকরা দলীয় পরিচয়ে পরিচিত বহন করেন!  কেউ আওয়ামীপন্থী, কেউ বিএনপিপন্থী, কেউ জামায়াতপন্থী, কেউ জাতীয় পার্টিপন্থী আবার কেউ-বা কমিউনিস্টপন্থী সাংবাদিক। এই দলীয় সাংবাদিকতাও সাংবাদিকদের পেশা ও জীবনের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাই বলে আমি এটা বলছি না যে, সবাই দলীয় সাংবাদিকতা করছেন, ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। কিন্তু ব্যতিক্রম উদাহরণ নয়।

একজন সাংবাদিককে চিন্তা করতে হবে জনমতের জায়গা থেকে জনকল্যাণের জায়গা থেকে। আর যথার্থ জনকল্যাণ জনমত গঠনের ওপরই নির্ভরশীল। কিন্তু এমন জনমত গঠনকে কখনই প্রশ্রয় দেয়া যাবে না, যা দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে। তাই এ ব্যাপারে সংবাদপত্রের রিপোর্টার ও সম্পাদকদের সচেতন থাকা দরকার। প্রায়ই আমরা লক্ষ করি অমুক পত্রিকার সাংবাদিক ইয়াবা নিয়ে গ্রেফতার, অমুক পত্রিকার   সাংবাদিক চাদাবাজি করতে গিয়ে আটক।

কিন্ত খোজ নিলে দেখা যায় ও নামের কোন পত্রিকা নেই। ইদানিং ফেজবুককেও অনেকে তাদের নিজস্ব পত্রিকা বলে মনে করে। ফেসবুকে একটা পোষ্ট দিয়ে ওখানে লেখে নিজস্ব প্রতিনিধি। আবার অনেকে ফেসবুকে লেখে আসিতেছে অমুক পত্রিকা। পরবর্তীতে নিজেকে আসিতেছে পত্রিকার প্রতিনিধি ও সম্পাদক বলে নিজেকে জাহির করে। আবার অনেকে একটা কার্ড তৈরি করে নিজেকে পত্রিকার সাংবাদিক বলে দাবি করে। সারাদেশে এই  ভুয়া সাংবাদিকের ছড়াছড়ি।

গাড়িতে প্রেস লিখে করছে চাঁদাবাজি ও মাদকের ব্যবসা। গাড়িতে প্রেস লিখে সাংবাদিকের পরিচয় দিয়ে চোষে বেড়াচ্ছেন বেশ কিছু ভুয়া সাংবাদিক । এরা কারা ? অনেকে সপ্তাহিক পত্রিকার আইডি কার্ড ক্রয় করে সাংবাদিকের পরিচয় দিয়ে বেড়াচ্ছেন। আসলে তারা কি সাংবাদিক না সাংঘাতিক অনেক মহলের প্রশ্ন। অনেককে পুলিশ প্রশাসনের ছত্রছায়ায় দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানাযায় একটি পরিচয়পত্রের মেয়াদ পার হওয়ার পর কম্পিউটারে ভুয়া আইডি কার্ড বানিয়ে সেখানে কার্ডের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে এরাই আসল সাংবাদিক । এতে  প্রকৃত সাংবাদিকদের মান ক্ষুণ হচ্ছে।

শিক্ষক, কেউবা বাসের হেলপার, আবার কেউ চাকরিজীবী , আবার অনেকে ঠিকাদার-এর সাংবাদিকের মান ক্ষুণ করে নিজেরা ফায়দা লুটার জন্য ও নিজেকে সাংবাদিকের পরিচয় জাহির করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। তারা সমাজে ভাল মানুষ সেজে প্রভাব বিস্তার  করতে চায়। সাংবাদিকের পরিচয়পত্র নিয়ে অনেকে দূরপাল্লার গাড়িতে হেলাপারী করতে গিয়ে মাদকের ব্যবসা করছেন।  এ ছাড়াও সারাদেশে ব্যাঙ্গের ছাতার মত সাংবাদিক গজিয়েছে। এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। এরা গ্রামেগঞ্জে ও শহরে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে ও নারী লেলিয়ে দিয়ে হয়রানি করছে ও নিজেরা ফয়দা লুটছে।

এ দিকে ঐ সাংবাদিক পরিচয় বহনকারী ভুঁইফোর সাংবাদিক গংরা স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কতিপয় ব্যক্তির সাথে সক্ষতা গড়ে তুলে দালালিপনা করতে দেখা যায়। এ ব্যাপারে বিভিন্ন মহল ভুয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার এখনই উপযুক্ত সময় বলে মনে করেন নতুবা এই মহৎপেশাটি কলংকিত হবে।

লেখক- শিক্ষক ও সাংবাদিক।

একই ধরনের আরও সংবাদ