অধিকার ও সত্যের পথে

গাইবান্ধায় কোচিং সেন্টারের নামে জেলা পরিষদের প্রকল্প!

 গাইবান্ধা প্রতিনিধি :

গাইবান্ধা জেলা পরিষদ ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে এডিপি সাধারণ বরাদ্দের আওতায় কোচিং সেন্টার ও প্রতিষ্ঠিত এনজিও এর নামেও প্রকল্প বরাদ্দ দিয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে যুগপৎ বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে রাষ্ট্রীয় অর্থ নিয়ে গাইবান্ধা জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ খামখেয়ালি করছে বলে অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলা পরিষদ থেকে সদর উপজেলার ‘ সদর উপজেলার মেরীট পাওয়ার পাবলিক স্কুল নামের একটি কোচিং সেন্টারকে স্কুল দেখিয়ে আসবাবপত্র, বেঞ্চ সরবরাহ ও গৃহ নির্মাণ বাবদ ২ লাখ টাকার প্রকল্প বরাদ্দ দেয়া হয়। একই উপজেলার রেডিয়ান্ট পাবলিক স্কুল নামের আরেকটি কোচিং সেন্টারের নামেও ২ লাখ টাকার প্রকল্প বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও একতা বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংস্থার’ আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে কোনো কাজ করা না হলেও প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থের প্রথম কিস্তির টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কোচিং সেন্টার ও এনজিওর নামে প্রকল্প বরাদ্দ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ সাদুল্যাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খাদেমুল ইসলাম খুদি বলেন, ‘একতা’ একটি প্রতিষ্ঠিত এনজিও। তারা দীর্ঘদিন থেকে দেশি-বিদেশি ডোনারদের সহায়তায় এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তারা কোনোভাবেই জেলা পরিষদের প্রকল্প পেতে পারে না, এটা অনৈতিক। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে জেলা পরিষদ কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকেও প্রকল্প দিতে পারে না। আর্থিকভাবে লাভবান হতে ব্যক্তি বিশেষ কোচিং সেন্টার পরিচালনা করে থাকে। স্কুল দেখিয়ে কোচিং সেন্টারকে প্রকল্প বরাদ্দ দেয়া অন্যায়। এ ব্যাপারে রেডিয়ান্ট পাবলিক স্কুল ও মেরীট পাওয়ার পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কোচিং সেন্টারের প্রধানদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি। এদিকে, জেলা পরিষদের বরাদ্দ দেয়া অনেক প্রকল্পের কাজ এখনও শুরু না হলেও ইতোমধ্যেই প্রথম কিস্তির টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার মোবাইল ফোনে একাধিক দিন একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। তবে উপ-সহকারী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সদস্যদের দেয়া তালিকা অনুযায়ী তালিকা তৈরি করে পরে তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

একই ধরনের আরও সংবাদ