অধিকার ও সত্যের পথে

আফগানিস্তানে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা ৩৭ লাখ

 নিউজ ডেস্ক।।
আফগানিস্তানে ৭ থেকে ১৭ বছর বয়সী অন্তত ৩৭ লাখ শিশু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত। এর মধ্যে মেয়ে শিশুর সংখ্যা ২৭ লাখ। ১৬ বছর আগে তালেবান সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর স্কুল থেকে সর্বোচ্চ শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ার হার এটি। সম্প্রতি প্রকাশিত ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য ওঠে এসেছে। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
ইউনিসেফের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, বর্তমানে আফগানিস্তানে প্রতি তিনজন মেয়ে শিশুর মধ্যে দুইজন স্কুল থেকে ঝড়ে পড়েছে। স্কুলে শিক্ষা গ্রহণের সুবিধা পাচ্ছে মাত্র একজন। পুরো দেশজুড়ে স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে ৪৪ শতাংশ শিশু। আর মেয়ে শিশুদের ক্ষেত্রে এই হার ৪৪ শতাংশ।
ইউনিসেফের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, আফগানিস্তানে চলমান সংঘাত ও ক্রমাগত হারে নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার কারণে প্রায় অর্ধেক শিশু স্কুলে যায় না। এর পাশাপাশি প্রকট দারিদ্র্য ও লিঙ্গ বৈষম্য রয়েছে দেশটিতে। ২০০২ সালের পর এই প্রথম শিশুদের স্কুলে না যাওয়ার হার এত নিচে নেমে এসেছে।
সহিংসতায় জর্জরিত এই দেশটিতে এমনিতেই শিক্ষার সুযোগ কম পায় শিশুরা। কখনো শ্রেণীকক্ষে পা রাখেনি এমন শিশুর সংখ্যা কয়েক লাখ। তাছাড়া লিঙ্গ বৈষম্যতার কারণে মেয়ে শিশুদের জন্য সেখানে শিক্ষা গ্রহণ করা আরো কঠিন।
গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, কোন কোন প্রদেশে স্কুলে না যাওয়া মেয়ে শিশুর হার ৮৫ শতাংশের বেশি। এসব প্রদেশের মধ্যে রয়েছে, কান্দাহার, হেলমান্ড, ওয়ার্দাক, পাকটিকা, জাবুল ও উরুগান।
ইউনিসেফের আফগান প্রতিনিধি বলেন, স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা সশস্ত্র দলগুলোর হাতে নির্যাতিত, শোষিত ও দলগুলোতে যোগ দেয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি।

সংঘাত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, নারী শিক্ষকের অভাব ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে শিশুরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘাত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ছাড়া বাল্যবিবাহ, নারী শিক্ষকের অভাব ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে শিশুরা স্কুলে যাচ্ছেনা।
আফগান শিক্ষামন্ত্রী মিরওয়াইস বালখি জানিয়েছেন, শিশুদের এ ভাবে স্কুল থেকে ঝরে পড়ার কারণ অনেক। সরাসরি নাম উল্লেখ না করলেও, শিশুদের শিক্ষা বঞ্চিত হওয়ার পেছনে জঙ্গি গোষ্ঠী তালেবান আর আইএসের বিশাল বড় ভূমিকা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, সকল মানব সম্প্রদায়ের উন্নতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শিশুদের শিক্ষা। শিক্ষাই হল যুদ্ধ, দারিদ্র আর বেকারত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আসল অস্ত্র।
একই ধরনের আরও সংবাদ