অধিকার ও সত্যের পথে

কারিগরি শিক্ষা খাতে বিশৃঙ্খলা

 নিউজ ডেস্ক:

নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ছাড়াই চলছে এ শিক্ষা। কোর্স কারিকুলামও মান্ধাতার আমলের। কারিগরি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট প্রকট। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় গবেষণাগার নেই।এ শিক্ষার উন্নয়নে কেন্দ্র থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত কার্যকর তদারকির ব্যবস্থা নেই। ফলে কারিগরি শিক্ষা খাতে তৈরি হয়েছে বিশৃঙ্খলা।অথচ কারিগরি জ্ঞানে দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে দেশি-বিদেশি অর্থায়নে নেয়া হয়েছে একাধিক প্রকল্প। বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। আলাদা বিভাগ করা হয়েছে।মন্ত্রী থাকার পরও এ বিভাগে প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় সরকার কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছে না। মূলত শিক্ষার নামে বাণিজ্য, নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাটই এর অন্যতম কারণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর  বলেন, নানা রকম সীমাবদ্ধতা নিয়েই আমরা শুরু করেছি। এখন সে অবস্থা নেই। কারিগরি শিক্ষার ব্যাপারে সরকার বর্তমানে ‘হোলিস্টিক’ (সার্বিক) দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কর্মপন্থা তৈরি করছে।একসময় আমরা কারিগরিতে সংখ্যাগত উন্নতির দিকে মনোনিবেশ করেছিলাম। অবশ্য এ বিষয়টি শুধু বাংলাদেশই নয়, জাতিসংঘের এমডিজির (সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) কারণে সারা বিশ্বই অনুসরণ করেছে। এখন অবশ্য এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) বাস্তবায়নে মানের দিকে নজর দেয়া হয়েছে।সে লক্ষ্যে কোর্স-কারিকুলাম আধুনিকায়ন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেখাপড়ার সম্পৃক্ততাসহ অন্যান্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে চারটি টাক্সফোর্স গড়ে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। রোববার ওইসব পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে বৈঠক ডাকা হয়েছে।

অভিযোগ আছে, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর, বোর্ড, বিভিন্ন কারিগরি প্রতিষ্ঠানের একশ্রেণীর শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এ সিন্ডিকেটের সদস্যরা অনেকটা মিলেমিশে দুর্নীতি করছেন। শিক্ষার উন্নয়নের পরিবর্তে অর্থ লুটপাটের দিকেই তাদের নজর বেশি।

প্রকল্পের অর্থ নানাভাবে হাতিয়ে নিচ্ছেন। এর বাইরে এমপিওভুক্তি, প্রতিষ্ঠান অনুমোদন, পরীক্ষা কার্যক্রমসহ নানা ক্ষেত্রে ঘটছে অনিয়ম-দুর্নীতি। সরকারি বাসা দখল, নিয়মিত ক্লাস না নেয়া, অনুমতি ছাড়া শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, নিজের প্রতিষ্ঠান ছেড়ে ডেপুটেশন ও সংযুক্তির নামে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করাসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির মহোৎসব চলছে এ খাতে।

ঢাকার একাধিক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ও উদ্যোক্তা বলেন, চীন, কোরিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের উন্নয়নের মূলমন্ত্র হচ্ছে কারিগরি শিক্ষায় উন্নতি। নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পরপরই আওয়ামী লীগ কারিগরি শিক্ষার প্রতি জোর দেয়।সে লক্ষ্যে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও নতুন প্রকল্প তৈরিসহ নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়। কিন্তু এ সময়ে গুণগত পরিবর্তনের চেয়ে সংখ্যাগত উন্নতির দিকে ঝোঁক বেশি ছিল। কারিগরি শিক্ষায় পদ্ধতিগত ত্র“টি, মান্ধাতার আমলের কারিকুলাম-সিলেবাস, পশ্চাৎপদ ও অবৈজ্ঞানিক কোর্স ডিজাইন করা আছে।অপরিকল্পিতভাবে ৪ বছরের ডিপ্লোমা শিক্ষাক্রম চালু করা হয়। অথচ বর্তমানে সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যেই টেকনোলজির পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা ৪ বছর ধরে যা পড়ে, চাকরির বাজারে এসে তার সঙ্গে আর মিল খুঁজে পায় না।

দেশে বর্তমানে কয়েক ধরনের কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। একটি হচ্ছে সর্ট কোর্স। এটি ৩ মাস, ৬ মাস, ১ বছর মেয়াদি। সাধারণত বিদেশমুখী জনশক্তিকে এ শিক্ষা দিয়ে সনদ দেয়া হয়। তারা বিদেশে ভালো বেতনে চাকরি নিতে পারেন। নবম-দশম শ্রেণী এবং উচ্চমাধ্যমিকে ভোকেশনাল শিক্ষা চালু আছে।উচ্চমাধ্যমিকে আছে এইচএসসি বিএম (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা)। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি পলিটেকনিকে ৩৬ বিষয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স আছে। এসব কোর্স ও ট্রেডে কারিগরি শিক্ষা দেয়া হয় সারা দেশে প্রায় ৮ হাজার প্রতিষ্ঠানে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান খোলার জন্য নীতিমালা আছে।কিন্তু প্রতিষ্ঠান স্থাপনে সেই নীতিমালা বাস্তবায়নে দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছে। যে কারণে পর্যাপ্ত জায়গা, জমি, ল্যাবরেটরি ছাড়াই একেকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। ওইসব প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারিক ক্লাসের সুযোগ নেই। হাতেকলমে নয়, তাত্ত্বিকভাবেই সবকিছু শিখছে তারা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধারার কারিগরি শিক্ষার মধ্যে সর্ট কোর্সটি দেশি-বিদেশি কর্মজগতের চাহিদা সামনে রেখে মাঝেমধ্যে হালনাগাদ করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো কী পড়াচ্ছে, শিক্ষার্থীরা কী শিখছে, কত টাকা নিচ্ছে- এসব দেখার কেউ নেই।কারিগরি শিক্ষার মূলভিত্তি ডিপ্লোমা প্রকৌশল শিক্ষার তেমন আধুনিকায়ন হয়নি। প্রায় ৪ দশক আগে চালু করা কারিকুলাম অনুসরণ করা হচ্ছে পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষায়। অথচ বিভিন্ন দেশে কারিগরি শিক্ষার কারিকুলাম নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়।

কারিগরি খাতে অন্যতম সমস্যা দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতি। সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে সব ধরনের প্রতিষ্ঠান চলছে ভাড়া করা শিক্ষক দিয়ে। সরকারি পলিটেকনিকগুলো স্থায়ী শিক্ষকের মাত্র ৪০ শতাংশ কর্মরত আছেন। বাকি শিক্ষকের পদ খালি।করুণদশা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের (টিএসসি) ডিপ্লোমা এবং বেসরকারি পলিটেকনিকগুলোর। শিক্ষক সংকট সত্ত্বেও অপরিকল্পিতভাবে একের পর এক বিভাগ খোলা এবং আসন বাড়ানোর কাজ চলছে।

অনেক প্রতিষ্ঠানই সদ্য পাস করা গ্র্যাজুয়েটদের মধ্য থেকে শিক্ষক নিয়োগ করছে। এ ধরনের অধিকাংশ শিক্ষকের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব জ্ঞান নেই। ফলে কারিগরি শিক্ষা তাত্ত্বিক জ্ঞানের মধ্যে সীমিত হয়ে পড়ছে।অথচ উন্নত বিশ্বে ১০-১৫ বছরের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ফলে তত্ত্ব এবং হালনাগাদ জ্ঞানের সমন্বয়ে হাতেকলমে শিখতে পারছে শিক্ষার্থীরা।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, উন্নয়নের পরিবর্তে ডিপ্লোমা শিক্ষার ক্ষতি হয় এমন নানা পদক্ষেপ খোদ মন্ত্রণালয়-অধিদফতরের পক্ষ থেকেই নেয়া হয়েছে। কিছুদিন আগে কোনোরকম প্রস্তুতি ছাড়াই দেশের ৬৪টি টিএসসিতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।

৩ বা ৬ মাসের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য গড়ে তোলা অবকাঠামোয় ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমার কার্যক্রম চালু হয়েছে। এক্ষেত্রে আইনি দিকগুলোও অনুসরণ করা হয়নি। এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনসহ আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে কারিগরি বোর্ডের পূর্বানুমোদন নিতে হয়। এক্ষেত্রে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

ওইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও উচ্চশিক্ষিত নন। অনেকেই এসএসসি বা সমমানের ডিগ্রিধারী। নেই পর্যাপ্ত ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরিসহ অন্য সুবিধাদি। সবমিলিয়ে টিএসসিতে ভর্তি করে আধা শিক্ষিত গ্র্যাজুয়েট তৈরি করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে (টিএসসিতে ডিপ্লোমা খোলার বিরুদ্ধে) উচ্চ আদালতে একাধিক মামলা হয়েছে।খোদ ছাত্রছাত্রীরাও একটি মামলা করেছে। কিন্তু এরপরও কাজ হচ্ছে না। অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, মূলত কারিগরিতে বেশি ভর্তি দেখানোর লক্ষ্যেই টিএসসিতে এভাবে শিক্ষার্থী নেয়া হয়।অবশ্য এ ব্যাপারে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর বলেন, টিএসসিগুলোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আমরা প্রকল্প নিয়েছি। সেখানে সব ধরনের সীমাবদ্ধতা দূর করা হবে।

বেসরকারি ৪৬৭টি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটেও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা আছে। এর মধ্যে ঢাকায়ই আছে ৭০টি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই মানহীন। সবচেয়ে বেশি দুরবস্থা ঢাকার বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোর। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে কাক্সিক্ষত ল্যাবরেটরি নেই। শিক্ষকদের যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন আছে।জানা গেছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বেশকিছু ভাড়া বাড়িতে চলছে। গত বছরের নভেম্বরে ১৬৮ প্রতিষ্ঠানকে নিজ ক্যাম্পাসে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত আর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

কারিগরি বোর্ডের এক উপপরিচালক যুগান্তরকে বলেন, বেসরকারি পলিটেকনিকের মালিকদের একটি অংশ বোর্ডেরই কর্মকর্তা-কর্মচারী। তারা অন্য মালিকদের নিয়ে চাপ তৈরি করে। এ কারণে শোকজ দিয়েও বোর্ড হাত গুটিয়ে বসে আছে।সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ২০০৩ সালে ৩ বছরের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা ৪ বছরে রূপান্তর করা হয়। এ খাতের সাবেক শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তখন তাদের সামনে ‘স্নাতক মর্যাদা’ আদায়ের মুলা ঝুলানো হয়েছিল।এ দাবি আদায়ে তারা রাজপথে দিনের পর দিন আন্দোলনও করেন। কিন্তু বাস্তবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষার কোনো লাভ হয়নি। লাভ যা হয়েছে, তখন চাকরিরত একশ্রেণীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের। তারা এক বছর বেশি চাকরি করেন।কিন্তু ক্ষতি হয়ে যায় কারিগরি শিক্ষার ও গ্র্যাজুয়েটদের। ৩ বছরের কোর্সই টেনে ৪ বছরে পড়ানো হচ্ছে। নতুন কোনো কোর্স বা টপিক পর্যন্ত যুক্ত হয়নি।

যেখানে সাধারণ শিক্ষায় ৬ বছরের মধ্যে গ্র্যাজুয়েট হওয়া যায়, সেখানে ডিপ্লোমাসহ ৮ বছর লাগায় অনেক সচেতন অভিভাবক সন্তানকে এ শিক্ষায় ভর্তিতে আগ্রহী হচ্ছেন না।

এ খাতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তারা বলছেন, পৃথিবীর কোথাও ৪ বছরের ডিপ্লোমা শিক্ষাক্রম নেই। যেসব দেশের ডিপ্লোমা প্রোগ্রামের দৃষ্টান্ত দেয়া হয়, সেসব দেশেও ৩ বছরের ডিগ্রি।৪ বছরের ডিপ্লোমা কোর্স এ শিক্ষার প্রতি আকর্ষণ ও আগ্রহ কমিয়ে ফেলছে। এর প্রমাণ- গত তিন বছরে পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে আবেদনকারীর সংখ্যা ক্রমশ কমেছে।

এ প্রসঙ্গে টেকনিক্যাল এডুকেশন কনসোর্টিয়াম অব বাংলাদেশের (টেকবিডি) প্রেসিডেন্ট আবদুল আজিজ বলেন, কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সরকারের নানা পদক্ষেপ আছে। বেশকিছু বাস্তব কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না।তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করা, এ নিয়ে সরকারের স্বপ্নপূরণ এবং এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) অর্জন করতে হলে ৪ বছরের ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম অবশ্যই ৩ বছরে ফিরিয়ে আনতে হবে। সেই সঙ্গে তিন বছরের প্রত্যেক বর্ষের সমাপনী শেষেই শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অনুযায়ী সনদ দিতে হবে।

এটা এজন্য যে, কেউ যদি পূর্ণ ডিপ্লোমা শেষ না-ও করে, তাহলে এক বা দু’বছর সম্পন্নের সনদ দিয়ে যেন কর্মজগতে প্রবেশ করতে পারে। তাহলে জনশক্তির অপচয় হবে না, পাশাপাশি এ শিক্ষায় আকর্ষণ বাড়বে।

সূত্র : দৈনিক যুগান্তর।

একই ধরনের আরও সংবাদ