অধিকার ও সত্যের পক্ষে

এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণ, প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন

 নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
সারা দেশের ১০টি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি ও সমমান ফল পুনঃনিরীক্ষণের পর নতুন ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে মোট ৪ হাজার ৮৯৭ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছে ৭৪১ জন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৩১ জন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাতার দেখার শিক্ষকদের অনিহা, অবহেলা বাড়ার কারণে প্রতি বছর খাতা চ্যালেঞ্জ করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় খাতা চ্যালেঞ্জ করার পরিমাণ বাড়ালেও এবার ফল পরিবর্তনের সংখ্যা কমেছে। এজন্য এবার মডেল পদ্ধতিতে খাতা দেখায় ভুলের পরিমাণ কমেছে।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রাপ্ত তথ্য মতে, চলতি বছর ১০টি শিক্ষাবোর্ডে ২ লাখ ১১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ৪ লাখ ১৪ হাজার ৫১৬টি পত্রের প্রাপ্ত নম্বর পরিবর্তন করার জন্য আবেদন করেন।
বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে এসএসসি ও সমমানের পুনঃনিরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে। এরমধ্যে ঢাকা বোর্ডে মোট ১৯৯০ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। এরমধ্যে ফেল থেকে পাস করেছে ১৯২জন, নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯৫ জন। বাকীরা বিভিন্ন গ্রেডে ফল পরিবর্তন হয়েছে। চট্টগ্রাম বোর্ডে মোট ৫২৯ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে।
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে ৪৭৩ জন, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে ৪৪২ জন, সিলেট শিক্ষাবোর্ডে ২৬০ জন, বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে ১৪০ জন, দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে ৩১৬ জন, যশোর শিক্ষাবোর্ডে ২০৫ জন, মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডে ২৪৮ জন ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডে মোট ২৯৪ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে।
যাদের ফলাফল পরবর্তন হয়েছে তারা রেজাল্ট বাড়ার কারণে পুর্নরায় আবেদন করা দরকার নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক হারম্নন-অর-রশিদ। তিনি বলেন, যাদের রেজাল্ট পরিবর্তন হয়েছে তাদের প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী কলেজের ভর্তির মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে আগের রেজাল্টের কারণে কোনো শিক্ষার্থী যদি কোনো কলেজে আবেদন করতে না পারেন তিনি ইচ্ছে করলে নতুন রেজাল্ট দিয়ে নতুন করে  আবেদন করতে পারবেন। এজন্য ৫ ও ৬ জুন আবেদন থেকে নতুন করে কোন কলেজ যোগ করতে চাইলে সেটি করতে পারবে।
ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মু. জিয়াউল হক শিক্ষা বার্তা ডট কম কে  বলেন, পরীক্ষকদের মধ্যে খাতা দেখার আগ্রহ ও পদ্ধতি দুটি পরিবর্তন হয়েছে। গত দুই বছর ধরে মডেল পদ্ধতিতে খাতা দেখা এবং পরীক্ষদের খাতা প্রধান পরীক্ষকরা পূর্ণরায় দেখার বাধ্যবাধকতা কারণে খাতায় ভুলের পরিমাণ কমেছে। তিনি বলেন, খাতায় যে চারটি ভুলের কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্থ হতো এবার সেই জায়গায় হাত দেয়া হয়েছে। আস্তে আস্তে খাতা দেখায় শৃঙ্খলা ফিরবে বলে মনে করেন তিনি।
একই ধরনের আরও সংবাদ