অধিকার ও সত্যের পক্ষে

বেসরকারী শিক্ষকদের ঈদের আগে পূর্ণাঙ্গ ঈদ বোনাস চাই

 মো: হায়দার আলীঃ

মাদক ও বিপথগামী যুবসমাজ নিয়ে লিখার জন্য খাতা কলম নিয়ে বসলাম এমন সময় আমার এক শিক্ষক বন্ধু ফোন করে বললেন স্যার সিকি ভাগ ঈদ বোনাসের কথা একটু লিখুন, সামনে ঈদ শিক্ষক সমাজের  কোন উপকারে আসে। ওই বন্ধুর কথা রাখতে আজকের লিখাটি শুরু করলাম।

মহান ও নিবেদিত পেশা হিসেবে শিক্ষকতা সর্বজন স্বীকৃত। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবেই মনে করা হয় শিক্ষকদের। পাঠদানে আত্ম-নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিহিত থাকা সুপ্ত মেধা জাগ্রত করা, দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিজের অর্থ ব্যয়ে দেশ সেরা হিসেবে গড়ে তোলা শিক্ষকও দেশে বিরল নয়। এ জন্যই সমাজে শিক্ষকরা সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, শিক্ষার্থীরাও যুগে যুগে স্মরণ রাখেন। বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার। দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য বর্তমান সরকার বদ্ধ পরিকর। কিন্তু বেসরকারী শিক্ষকদের বেলায় এত অনিহা কেন?  বহু বছর থেকে বেসরকারী শিক্ষকদের সিকি ভাগ ঈদ বোনাস দেয়া হয়।

বছরের পর বছর চলে আসছে বেসরকারী শিক্ষকদের বৈশাখী ভাতা বঞ্চিত। সরকারী কর্মকর্তা, কর্মচারী, সরকারী স্কুলের শিক্ষক কর্মচারী সময়মত বৈশাখী ভাতা পেলেও বেসরকারীদের ভাগ্যে এখনও জুটেনি অথচ বৈশাখী উৎসব পালনের জন্য শিক্ষকদের বাধ্য করা হয়। শিক্ষার্থীদের নিয়ে উপজেলা সদরে. জেলা সদরে নিয়ে গিয়ে র‌্যালিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করতে হয়। শিক্ষক শিক্ষার্থী ছাড়া অনুষ্ঠানের শোভা বর্ধন হয় না। বৈশাখী ভাতা, পূনাঙ্গ ঈদ বোনাসসহ বিভিন্ন দাবীতে তালা ঝুলানো, ক্লাস বন্ধ, স্মারকলিপি প্রদান, মানববন্ধন, মহাসমাবেশ করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় তথাকথিত দালাল শিক্ষকনেতাদের ব্যক্তগত স্বার্থের করণে। সাধারণ শিক্ষকদের দাবী উপেক্ষা করে শিক্ষক নেতা সবসময় নিজেদের স্বার্থকে বড় করে দেখেছেন বলে সাধারণ শিক্ষকগণ ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছেন। দেশের বিরাট অংশ হচ্ছে বেসরকারী শিক্ষক সমাজ।

তারা যে  বৈশাখী ভাতা পান সেটা বন্ধু বান্ধব, ছেলে মেয়ে এমনকি প্রিয়মত মানুষটিও বিশ্বাস করতে চায় না। তিনিও ছেলে. মেয়েসহ নিকট আত্বীয়দের  বৈশাখে নতুন জামা কাপড় কিনে দেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সুষ্টি করেন আর ওই হতভাগা বেসরকারী শিক্ষক বিভিন্ন দিকের চাপে যেন বেশামাল হয়ে পড়েন। তার যেন কিছুই করার থাকে না। কোন দোকানে ধার নিতে চাইলেও বৈসরকারী শিক্ষকদের দিতে চায় না। কেন না বেসরকারী শিক্ষকদের অন্যান্যদের মত প্রতি মাসের প্রথম তারিখে বেতন ভাতা হয় না। হয় ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে।    আর বেসরকারী শিক্ষকদের  সিকিভাগ ঈদ বোনাস এখনও প্রদান করা  হচ্ছে।  এ বোনাসের কথা শিক্ষকসমাজ তার প্রিয় মানুষটির নিকট বলতে পারেন না এমন কি আত্বীয়  স্বজন পরিবার পরিজন, সমাজের কারো কাছে লজ্জায় বলতে পারেন না। ছেলে মেয়েরা  বলে বাবা তুমি ঈদ বোনাস পেয়েছ ? বৈশাখী ভাতা পেয়েছ ? আমাদের কখন নতুন জামা কিনে দিবে, কুরবানী কিনবেই বা  কখন, বাসার পার্শ্বের সবাই দামী দামী নতুন নতুন জামা কাপড়, কুরবানী কিনেছে। প্রিয়তমা স্ত্রী বলেন আমার নতুন শাড়ী, ছোট ভাই বোন, শালক শালিকা ঈদ বোনাস তো আছে। ওই শিক্ষকের জন্মদাতা মা ও বাবা শুধু শিক্ষক ছেলের দিকে তাকিয়ে থাকেন, তোমার কি হয়েছে বাবা, তোমার মুখ কেন শুকিয়ে যাচ্ছে, সকালে কিছু খাওয়া হয় নি নাকি, দুপুরে কি খেয়েছ? কি হয়েছে ? ঈদ আসলে মানুষ খুশি থাকে আর তুমি প্রতি ঈদে তুমি মুখভার করে থাক কেন?। এ সময় কথা শুনে ওই শিক্ষক আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। তখন মা শাড়ীর আঁচল দিয়ে ওই শিক্ষকের চোখ মুখ মুছিয়ে বলেন, আমরা দুয়া করে দিলাম তোমার সব চিন্তা দূর হয়ে যাবে, আল্লাহ তোমাকে সাহায্য করবেন। এ কলামটি আমি লিখার সময় শিক্ষক হিসেবে চোখের পানি আমিও ধরে রাখতে পারিনি। একাধিক বার রুমাল ভিজে গেছে, আপনারাও হয় তো কান্না ধরে রাখতে  পারবেন না। কিন্তু সেদিন শিক্ষক সমাজ আনন্দিত হব যে দিন সরকার আমাদের সরকারীদের মত ঈদ বোনাস,বৈশাখী ভাতা, মাসিক বেতন প্রভূতি দিবেন। আর এ কাজটি পারবেন আমাদের মানবতার মাতা, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্য প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে দিন হয় তো বেশী দূরে নেই।

আমরা অবসর গ্রহনের পর অথবা তার পূর্বে। এমপিওভুক্তগণ পান নি বৈশাখীভাতা ও বার্ষিক ৫ শতাংশ   প্রবৃদ্ধির সুবিধা ! নতুন বেতনস্কেলে সরকারি প্রতিষ্ঠনের কর্মরত কর্মকর্তা, কর্মচারীরা ৫ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি সুবিধা পেয়েছেন অনেক আগেই ।  কিন্তু এমপিওভুক্তগণের ৫ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি অনিশ্চয়তায় অন্ধকারেই রয়েছে। এমপিওভুক্ত কেউই পদমর্যাদা অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া পান না। বরং বাড়ি ভাড়া পান ১০০০ টাকা, চিকিৎসাভাতা ৫০০ টাকা, যা নিতান্তই অপ্রতুল। একটি ‘জাতীয়লজ্জা’ বেসরকারি শিক্ষকবৃন্দই সম্ভবত বিশ্বের একমাত্র পেশাজীবি যারা বৈশাখি ভাতা পান না। সিকিভাগ (২৫ শতাংশ) উৎসবভাতা পান। যা দিয়ে শিক্ষকদের আনন্দ উৎসব তো দূরের কথা ঠিকভাবে দিনটি পালন করতে পারেন না। ছেলে মেয়েদের নতুন পোশাক, কুরবানী, উন্নত খাবার তৈরী করা  যেন অসম্ভব ব্যপারে হয়ে দাঁড়ায় শিক্ষক সমাজের কাছে। তাই শিক্ষক সমাজের পূনাঙ্গ ঈদ বোনাস, বৈশাখী ভাতা, ৫ ভাগ প্রবৃদ্ধি প্রভূতি দাবী সরকারের মেনে নেয়া প্রয়োজন। আজ বেসরকারী শিক্ষক সমাজ ঈদ বোনাস, মাসিক বেতন, টাইম স্কেল, ৫ ভাগ প্রবৃদ্ধিসহ জাতীয়করণ নিয়ে আন্দোলন করছেন, ফেসবুকে তাদের দাবীর কথা জোরালোভাবে লিখছেন। রাজধানীসহ দেশের  বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক সন্মেলন করছেন, সমাবেশ করছেন, কিন্তু এগুলি করো নজরে আসে না। যারা সত্য, বস্তনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করেন ওই সাংবাদিকেরা কিছু লিখছেন এদের সংখ্যা কম। শিক্ষকদের পান থেকে চুন খোসলেই লিখা হয়  মিথ্যা তথ্য সন্ত্রাস করে বিশাল বিশাল শিরোনাম করে সংবাদ স্থান পায় প্রিন্ট, অনলাইন, ও টিভি মিডিয়ায় স্থান পায় কিন্ত তথাতথিত হলুদ সাংবাদিকদেরও শিক্ষক সমাজের নায্য দাবী, শৈাখী ভাতা, ২৫ ভাগ ঈদ বোনাস, ৫ ভাগ প্রবৃদ্ধির ব্যপারে কিছুি লিখেন না। এব্যপারে তারা মূখে কুলুপ এসে বসে থাকেন । কারণ বৈশাখী ভাতা পান না, সিকিভাগ ঈদ বেনাস পায় তারা আবার ওই সব হলুদ সাংবাদিকদের কিভাবে খুশী করবেন। দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক যে সব এমপিওভুক্ত শিক্ষা  প্রতিষ্ঠান রয়েছে তা জাতীয়করণ করা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের কোন ব্যাপারই নয়। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের আওতায় আসলে  সরকারের  প্রায় ১১ শ কোটি টাকা থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। এ টাকা বিনিয়োগ করা বর্তমান সরকারের জন্য কোন অসম্ভব কিছুই নেই।

আমি মনে করি সরকারের জন্য এ বিনিয়োগ হবে শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ। এ বিনিয়োগে সরকারের  প্রচুর লাভ হবে। দেশের জনগোষ্ঠীকে জন সম্পদে পরিণত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। পরিণত হবে উন্নত দেশে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা‘র নিকট সবিনয়ে আবেদন জানাতে চাই, আপনি উন্নত বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এ জন্য আমরা শিক্ষক সমাজ আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। আপনি শিক্ষকদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেছেন। আপনি পারবেন দেশের সব এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক- উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করতে। শিক্ষক সমাজ আপনার কাছে আজীবন ঋণী থাকবে। বলতে দ্বিধা নেই, আমাদের দেশে মানুষগড়ার কারিগরদের নিয়ে কারো যেন টেনশন নেই! এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, বৈশাখী ভাতা পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল ও উৎসব ভাতা পান না। তারা পদোন্নতি, সেচ্ছায় অবসর, বদলী সুবিধাসহ অসংখ্য বঞ্চনার শিকার। তার পরেও বোঝার উপর শাকের আঁটির মতো শিক্ষকদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে আয় কর। ইতোমধ্যে শিক্ষক সমাজর বিধিমোতাবেক পরিশোধও করেছেন। সোনালী ব্যাংক, জনতাসহ বিভিন্ন ব্যাংক কতৃপক্ষ আয় কর রির্টান জমা, টিন নম্বর ছাড়া মাসিক বেতন বিল জমা নেন নি তাই বাধ্য হয়ে করেছেন তারা । যে শিক্ষক সমাজের নুন আন্তে পান্তা ফুরায় অবস্থা তাদের আবার আয় কর দিতে হবে কেন ? মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বিষয়টি একটু ভেবে দেখার জন্য অনুরোধ করাচ্ছি শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে। আপনি তো একদিন আন্দোলনরত শিক্ষক সমাজের নিকট বলেছিলেন আমি ও আওয়ামীলীগ সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে শিক্ষক সমাজেকে আর আন্দোলন করতে হবে না। তারা ক্লাস রুম থেকে রাস্তায় আসতে হবে না। শিক্ষকতার মহানবত্রের গর্বিত অংশীদার হিসেবে আমি ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে মনে করি, পেশাজীবিদের  প্রাণের দাবি আদায়ে নেতিবাচক কর্মসূচি বা কোনো রূঢ় বাস্তবতার দিকে আমাদের নেতৃবৃন্দ যাবেন না বরং ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়াজ তুলে শিক্ষা জাতীয়করণ করতে হবে। দেশের বেসরকারি স্কুল কলেজ মাদ্রসা জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

কেননা বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে অবশ্যই জাতীয়করণের আওতায় আনতে হবে। যদিও বর্তমান সরকার এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্কুল ও কলেজ জাতীয়করণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কাজও শুরু হয়েছে। আর শিক্ষক সমাজ অভিযোগ করেছেন কোন কোন স্থলে প্রতিষ্ঠান জাতীয় করণের জন্য কোটি কোটি টাকা শিক্ষকদের উৎকোচ দিয়ে হয়েছে। উন্নত রাষ্ট্র পরিণতকরণে দেশের সব এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করতে সরকারকে অত্যন্ত বাস্তবমূখী ও সাহসী পদক্ষেপ   গ্রহন করতে হবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাড়ছে মানুষের আয়-রোজগার। শিক্ষায় প্রবেশ করেছে সৃজনশীলতা, ডিজিটাল, অনলাইন পদ্ধতি। কিন্তু সরকারের একার পক্ষে এটি সম্ভব নয়। সকল মহলের সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে সরকারের নিজস্ব কিছু মূল্যায়ন আছে এতে কোন সন্দেহ নেই। পাশাপাশি আমার কিছু পরামর্শ সরকারের বিবেচনার জন্য পেশ করলাম। বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার। দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির জন্য বর্তমান সরকার বদ্ধ পরিকর। দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক যে সব এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তা জাতীয়করণ করা সরকারের কোন ব্যাপারই নয়। এসব শিক্ষ প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের আওতায় আসলে প্রতিবছর সরকারের প্রায় ১১ শ কোটি টাকা থেকে ১৩শ কোটি টাকা খরচ হবে। এ টাকা বিনিয়োগ করা বর্তমান সরকারের জন্য সম্ভব।

আমি মনে করি সরকারের জন্য এ বিনিয়োগ হবে শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ। এ বিনিয়োগে সরকারের প্রচুর লাভ হবে। দেশের জনগোষ্ঠীকে সম্পদে পরিণত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। পরিণত হবে উন্নত দেশে। তাই মাননীয়  প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা‘র নিকট সবিনয়ে আবেদন জানাতে চাই, আপনি উন্নত বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। এ জন্য  শিক্ষক সমাজ আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছেন। আপনি শিক্ষকদের জন্য অনেক কিছু করেছেন।  আপনি পারেন দেশের সকল এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় করণ করতে। কেননা আপনি একসাথে দেশের ২৬ হাজার ১শ ৯৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয় করণ করেছেন এবং এসব শিক্ষ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগকৃত ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষকের চাকুরী সরকারী করা হয়েছে, প্রতি বছর জানুয়ারী মাসের প্রথম তারিখে বিনামূল্যে কোটি কোটি বই বিতরণ এবং প্রতিবছর ১ ফেব্রুয়ারী এসএসসি ও সমমান এবং ১ এপ্রিল এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গ্রহন করেন এবং ৬০দিনের মধ্যে ফলাফল ঘোষনা করা হচ্ছে যতে বেসরকারী শিক্ষক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রয়েছে। যা ইতিপূর্বে কোন সরকার প্রধান করতে পারেননি। এত বড় সাহসী পদক্ষেপ গ্রহন করায় আপনাকে শিক্ষক সমাজ শুধু ধন্যবাদ জানান নি আপনার জন্য প্রতিনিয়ত আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছেন, আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছেন। আপনি পারবেন দেশের সব এমপিওভুক্ত স্কুল কলেজ মাদ্রসা জাতীয় করণ করতে লাখ লাখ পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফুটাতে। আর এ সাহসী কাজের জন্য শিক্ষক সমাজ আপনার কাছে আজীবন ঋণী থাকবে। আমাদের সবারই জানা আছে, শিক্ষাক্ষেত্রে সাংবিধানিক দায় হলো সবার সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ। অথচ পক্ষপাতদুষ্ট ও খ-িত জাতীয়করণের দোলাচালে চলছে অস্থিরতা।

জাতীয়করণের দাবিতে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু, আদালতে রিট বা এমপিওভুক্তির জন্য অনশন, শ্রেণী কক্ষে তালা ঝুলানো কাম্য নয়। মানুষ গড়ার কারিগরদের এমপিওভুক্তির নামে দেওয়া হয় ‘অনুদান’। কাজেই, শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের পেশাগত বঞ্চনার অবসানে দেশের সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ জরুরি। দুঃখজনক হলেও সত্য, শিক্ষকদের  প্রত্যশা পূরণ না হবার জন্য দায়ী কেন্দ্রে শিক্ষক সংগঠনগুলোর দলীয় লেজুড়বৃত্তি। ফলে কোনো দাবির পেছনে যৌক্তিকতার চেয়ে বিবেচনায় থাকে দাবিটি কারা করেছে? সঙ্গে চলে আসে দু’ধরনের ব্যাখ্যা ও অবস্থান। তখন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবিগুলো হয়ে যায় রাজনৈতিক।

তবে আশার কথা, বর্তমানে শিক্ষক সংগঠনগুলোর মধ্যে ‘এক ঘোষণায় সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ’ বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি প্রায় অভিন্ন। কেননা, ‘দল যার যার শিক্ষকস্বার্থে সব শিক্ষক একাকার’। শিক্ষকতার মহানব্রতের গর্বিত অংশীদার হিসেবে আমি ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে মনে করি, পেশাগত প্রাণের দাবি আদায়ে নেতিবাচক কর্মসূচি বা কোনো রূঢ় বাস্তবতার দিকে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ যাবেন না বরং ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়াজ তুলে শিক্ষা জাতীয়করণ করতে হবে।

প্রধান মন্ত্রীকে শিক্ষা ক্ষেত্রে আর একটি সাহসী পদক্ষেপ গ্রহন করে হবে। ঈদের আগে বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের পূর্ণাঙ্গ ঈদ বোনাসের ব্যবস্থা করতে হবে।

লেখকঃ

মোঃ হায়দার আলী,
সভাপতি জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা,
গোদাগাড়ী উপজেলা শাখা

প্রধান শিক্ষক
মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়,
গোদাগাড়ী, রাজশাহী ।

একই ধরনের আরও সংবাদ