অধিকার ও সত্যের পথে

কবি সোহেল খানের কবিতার পাতায়

 সাহিত্য ও সংস্কৃতি ডেস্কঃ

“এক সাগর কন্যা”
-সোহেল খান

.
পরিত্যাক্ত ঘরে মাকড়সা যেমন বাসা বাধে যত্রতত্র
তেমনি করে পরিত্যক্ত এই বুকেও
কি এক রঙিন নেশায় স্বপ্নেরা বাসা বেধেছিল।
সাগর কুলের এই জমিনে ঝড় জলোচ্ছ্বাস
প্রতি মুহুর্তেই আঘাত হেনেছে।
নিয়তির সাথে যুদ্ধ করে কেউ থাকতে চায়নি
তাই বসতি ছেড়ে একে একে চলে গেছে সবাই
যে যার নতুন ঠিকানায়।
মহাজনের ঋণের বোঝা প্রতিদিন বাড়তেই
থাকলো চক্রবৃদ্ধি হারে।
আর্থিক দৈন্যদশায় বিদ্যুৎ সংযোগ হল বিচ্ছিন্ন।
অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে গেল নিমিষেইই।
কুপিবাতি জ্বালানোর মত কেউ ছিল না
গৃহপালিত প্রাণিগুলোও ছেড়ে দিলাম একদিন।
ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসে বিধ্বস্ত এই বসতীর
বাসিন্দা হয়ে গেল ইদুর, আরশোলা আর মাকড়সা।
ইদুরের ধারালো দাতে অসংখ্য গর্ত হল
মসৃন এই বুকের যত্রতত্র।
মাকড়সা তার রাজ্য বিস্তারের জাল বিছিয়ে চলল
চারিপাশ আর আরশোলার বংশ বিস্তার।
স্বার্থান্ধ তোমরা পরিত্যক্ত করলে এই বুক
আর নিঃস্বঙ্গ করে চলে গেলে আমায়!
মসৃণ যে জমিন ছেড়ে চলে গিয়েছিলে.
পরিত্যক্ত এই বুকে স্বপ্নেরা আবার বাসা
বাধতে শুরু করেছে।
আবার এই বুক হবে উর্বর, পোকা মাকড়ের
বদলে বসবাস করবে আমার ভালোবাসা।
গেলো অমাবস্যায় কুপিবাতি হাতে এসেছিল
এক সাগর কন্যা,
বলে গেলো সে-
জেগে থেকো আসছি আমি জ্যোৎস্না নিয়ে
আসবো দেখো কোন এক ভরা পূর্নিমায়।
প্রতিরাতে আমার এই স্বপ্ন গুলো তাকে ঘিরেই খেলা করে।
নির্ঘুম রাত কাটে আজও তারই প্রতীক্ষায়।

একই ধরনের আরও সংবাদ