অধিকার ও সত্যের পথে

অন্ধকারে শিক্ষার আলো জ্বালালেন জুনাব আলি

 তিতাস উপজেলা থেকে, মোহাম্মদ শাহজামান শুভঃ

**বিদ্যালয় পরিচিতি : কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নে দীর্ঘদিন কোন মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় অত্র এলাকার শিক্ষার হার অনেক পিছিয়ে পড়ে! জুনাব আলী উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে অত্র ইউনিয়নের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার জন্য দূরদুরান্তের বিদ্যালয়ে যেতে হতো।যা নাম মাত্র ছাত্রদের পক্ষে সম্ভব হলেও ছাত্রীদের জন্য যা ছিল অসম্ভব। এমতাবস্থায় অত্র ইউনিয়নের ছেলে-মেয়েদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার প্রয়াসে ০৭নং ভিটিকান্দি ইউনিয়নের সাবেক সফল চেয়ারম্যান জনাব আলহাজ্ব মোঃ জুনাব আলী সরকার সাহেবের একক প্রচেষ্টায় ১৯৯২ ইং সালে জুনাব আলী উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। এবং অত্র ইউনিয়নের কোন ছেলে -মেয়ে যাতে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয় সে জন্য তিনি বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। উনার দক্ষতা ও দূরদর্শিতার জন্য অত্র ইউনিয়নের ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো পৌছে দিয়েছেন। তাছাড়া তিনি বিভিন্ন মসজিদ,মাদ্রাসা নির্মাণসহ সমাজ কল্যানমূলক কর্মকান্ডে নিয়োজিত রয়েছেন।

** শিক্ষা ব্যবস্থাঃ অত্র জুনাব আলী উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে এক যাক তরুন ও অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী দ্বারা পাঠাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সুদক্ষ ম্যানেজিং কমিটির সুপরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় এবং প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকবৃন্দের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি বর্তমানে তিতাস উপজেলার শীর্ষস্থান অর্জনসহ ধারাবাহিক সফলতা বজায় রেখেছে। যা বিগত বছরের জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের মাধ্যমে প্রমাণিত! ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৮৭% কৃতকার্যের মাধ্যমে তিতাস উপজেলায় ২য় স্থান অর্জন করে। এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উদ্দিপনা পুরুষ্কার হিসেবে সরকারী সংস্থা (সেকায়েপ) থেকে ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা প্রাপ্ত হন। তার এই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৭২% কৃতকার্য হয়ে তিতাস উপজেলায় ১ম স্থান অর্জন করে। ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৯২.৬৬% পাস করে তিতাস উপজেলায় ২য় স্থান অর্জন করে।অত্র বিদ্যালয় থেকে ২০১৫ ও ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় একজন করে মোট দুইজন শিক্ষার্থী জেলা ভিত্তিক সরকারি বৃত্তি পেয়েছে। জেএসসি পরীক্ষায় ২০১৭ অত্র বিদ্যালয় থেকে ৭৭% শিক্ষার্থী কৃতকার্যের মাধ্যমে তিতাস উপজেলায় ১ম স্থান অর্জন করে। ২০১৮ সালের জেএসসি পরীক্ষায় ৫টি এ+ ও ২টি সরকারি বৃত্তিসহ তিতাস উজেলায় ৪থস্থান অর্জন করে। বর্তমানে অত্র বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীগণ উচ্চ শিক্ষার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পদে কর্মরত আছেন।

**কর্মপদ্ধতি: শিক্ষার্থীতের সৃজনশীল মেধা বিকাশের লক্ষ্যে শিক্ষক মন্ডলীগণ বিভিন্ন কলাকৌশলের মাধ্যমে পাঠদান করেন।আধুনিক শিক্ষাদানের লক্ষ্যে শিক্ষকমন্ডলীগণ নিজস্ব ল্যাপটপ কম্পিউটারের মাধ্যমে নিয়মিত মাল্টিমিডিয়া ক্লাশ নিয়ে থাকেন।মাল্টিমিয়া ব্যবহারে অত্র বিদ্যালয় তিতাস উপজেলায় শ্রেষ্ঠ হয়েছে। এমএমসির ড্যাশবোর্ডের তথ্যবিশ্লেষণ করে কুমিল্লা জেলা শিক্ষা অফিস কর্তৃক তিতাস উপজেলার মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। শিক্ষার গুনগত মান বজায় রাখতে শিক্ষকমন্ডলীগণ শ্রেণি কক্ষে মাসিক পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। এবং পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়।শিক্ষার্থীদের বিদ্যলয়ে নিয়মিত উপস্থিতির জন্য শ্রেণি শিক্ষকগণ অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে থাকেন।শিক্ষা সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শতভাগ অভিভাবক উস্থিতির মাধ্যমে অভিভাবক সভা করা হয়।শিক্ষার মান উন্নয়নের স্বার্থে প্রধান শিক্ষকের নের্তৃত্বে শিক্ষকমন্ডলীগণ রাতের বেলায় শিক্ষার্থীদের বাসা পরিদর্শনে যান।

**শিক্ষার্থীদের সংখ্যা: বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৭২৯ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করতেছে।

**শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা: বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৭জন এমপিও ভুক্ত, ৬ জন খন্ডকালীন শিক্ষক ও ১জন অফিস সহায়ক, ৫জন কর্মচারী রয়েছেন।

**ম্যানেজিং কমিটি: প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মি ম্যানেজিং কমিটি রয়েছে। বর্তমানে সভাপতি পদে রয়েছেন উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা জনাব আলহাজ্ব মোঃ জুনাব আলী সরকার । কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা ১০ জন। সদস্যগণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিদ্যালয়ের খোজখবর নেন এবং নিয়মিত সভা করে বিভিন্ন গঠনমূলক পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

একই ধরনের আরও সংবাদ