অধিকার ও সত্যের পথে

মাননীয় অর্থমন্ত্রীর জাতীয়করণের বক্তব্য ও বেসরকারি  শিক্ষকদের প্রত্যাশা

 বিশ্বজিৎ রায়ঃ

বেসরকারি  শিক্ষকরা  জাতীয়করণের স্বপ্ন বহুদিন ধরে লালন করে আসছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর জাতির জনক যখন এদেশের ৩৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে  এক সাথে জাতীয় করণ করেছিলে তখন এদেশের বেসরকারি  শিক্ষদের  চাওয়ার  ব্যাপ্তি টুকু আরও প্রসারিত  হলো।তারা জাতীয়করণের ঘোষনাকে সামনে আনলেন। কিন্তু  ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টে জাতির জনক কে হত্যার পর আর সম্ভব হয় নি।প্রত্যাশিত প্রত্যাশায় চীর ধরতে থাকে। জোট সরকারের আমলে বেসরকারি  শিক্ষকরা যখন বিভিন্ন দাবীদাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছিলেন, তখন সাবেক বিরোধী দলীয় নেত্রী  আজকের  মাননীয় প্রধান মন্ত্রী  শেখ হাসিনা বলেছিলেন”আপনাদের দাবিদাওয়া আদায়ে রাজপথে নামতে হবেনা”।   তিনি শিক্ষকদের স্বতন্ত্র স্কেল দিতে চাইলেন। বদলে বেসরকারি  শিক্ষকরা পেল  ১০% বর্ধিত বেতন।  জাতির জনকের সূযোগ্য  উত্তরসূরী  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী শেখ হাসিনা যখন আবারও দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এলেন তখন বেসরকারি  শিক্ষদের মনোবল আরও বেড়ে গেল।বেসরকারি  শিক্ষকরা দাবি আদায়ে স্বোচ্চার হলেন।  শিক্ষকরা জাতীয়করণ দাবি  আদায়ের বদলে পেলেন  বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা। তৃতীয়  মেয়াদে ক্ষমতায় এসে তিনি ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে তিনি জাতীয়করণ  করলেন। বেসরকারি  শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবি আরও তীব্র  হতে লাগল। বেসরকারি  শিক্ষদের এ দাবিকে আরও তীব্র  থেকে আরও তীব্রতর করলেন মাননীয় সাবেক শিক্ষাসচিব,শিক্ষাসংস্কারক,বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘরের কিউরেটর এন আই খান মহোদয়।৩০ নভেম্বর ২০১৫ খ্রীস্টাব্দে বিদায় নেওয়ার সময় তিনি মাননীয়  প্রধান মন্ত্রী  শেখ হাসিনা কে বলেছিলেন ” বেসরকারি  শিক্ষকরা আপনার মুখ থেকে জাতীয়তকরণ এর ঘোষনা শুনতে চায় “। তিনি বললেন” কত টাকা লাগবে “। জবাবে এন আই খান মহোদয়  বলেছিলেন ” “এক হাজার কোটি টাকার মত “। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী  হিসাব নিকাশ করে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করার নি্র্দেশ দেন।  সেদিন মাননীয়  অর্থমন্ত্রী মহোদয়  মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের বিষয়ে একমত পোষন করেছিলেন। কিন্তু সচিব মহোদয় বিদায় নেওয়া পর আর বিষয় টি এগোয়নি । শিক্ষক নেতা সহ সকল শিক্ষককুলের ধারণা সচিব মহোদয় হয়তো দায়িত্বে থাকলে জাতীয়করণের পথ আরও সুগম হতো।গত ২১ মে২০১৭ খ্রীস্টাব্দে ইন্জ্ঞিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন  এ মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষা জাতীয়করণ  লিয়াজো কমিটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে মৎস্য ও পশুসম্পদ  মাননীয় মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ জাতীয়করণ  নিয়ে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেছিলেন ” জাতীয়করণের শুভ দিন শ্রীঘ্রই”। ২৪ ডিসেম্বর২০১৭ খ্রীস্টাব্দে ভোলার সদর উপজেলার টাউন কমিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আয়োজিত  অনুষ্ঠানে মাননীয়  বানিজ্য মন্ত্রী বলেছিলেন “জাতীয়করণ হতেই হবে “। বেসামরিক  বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী  উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এবং কলেজের বই বিতরণ অনুষ্ঠানে বলেছিলেন ” ২০২১ সালের মধ্যে সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়  জাতীয়করণ  করা হবে “।

স্বাধীনতা শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন আয়োজিত অনুষ্টানে অাওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাংসদ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন ২০২১ খ্রিস্টাব্দের পর জাতীকরণ করা হবে “। ১১ মার্চ ২০১৮ রাজধানীর গাউসুল আজম কমপ্লেক্সে  বাংলাদে জামিয়াতুল  মোদারেছীন  আয়োজিত  এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মাদরাসা ও কারিগরি   বিভাগের মাননীয়  প্রতিমন্ত্রী  কাজী  কেরামত আলী  বলেছেন ” একসাথে নয়,পর্যাক্রমে সব প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ  করা হবে”।১৯ জানুয়ারি ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে সিলেটের ওসমানী নগরের প্রাচীন  বিদ্যাপীঠ  মঙ্গচন্ডী নিশিকান্ত  মডেল  উচ্চ  বিদ্যালয়ের ১৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অায়োজিত অনিষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় অর্থপ্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন “পর্যাক্রমে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করা হবে “। ১৭ জানুয়ারি ২০১৮ খ্রি মাননীয়  প্রধান মন্ত্রী মহান জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে বলেছিলেন ” শিক্ষক – শিক্ষার্থীর সংখ্যা, লেখাপড়ার মান – সব বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালার আলোকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিও ভূক্তি ও সরকারি করণ করা হবে”।আবারও মাননীয়  অর্থমন্ত্রী মহোদয়  ৯ মে ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ  অর্থ মন্ত্রানালয়ের সভাকক্ষে অর্থনীতি বিষয়ক সাংবাদিকের সংগঠন ইআরএফ এর প্রাক- বাজেট আলোচনায় মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের বিষয়ে মতামত দিয়েছেন।  তিনি বলেছেন” মাধ্যমিক পর্যায়ে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ  করা হবে “।আমরা বেসরকারি  শিক্ষক সমাজ চেয়ে আছি সকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্তাব্যক্তির মুখের দিকে তাকিয়ে, কবে নাগাদ জাতীয়করণের এ মহেন্দ্রক্ষণ এসে হাজির হয়। ২০১৫ থেকে  প্রধানমন্ত্রী   ২০ শতাংশ  নববর্ষ ভাতা চালু করলেন। সকলে পাচ্ছে নববর্ষ ভাতা ,  কিন্তু  পাচ্ছে না দেশের ভবিষৎ গড়ার কারিগররা।  ৫% প্রবৃদ্ধি  পাচ্ছে না। পাচ্ছে না টাইম স্কেল।উৎসব ভাতা ২৫%।  একই সিলেবাস পড়িয়ে একই  যোগ্যতা হয়েও সম্মুখীন হতে হচ্ছে  পাহাড় পরিমান বৈষম্যের যা থেকে পরিত্রাণ  পাওয়ার একমাত্র  উপায় সকল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ।

তাইতো  বেসরকারি  শিক্ষকদের  এ ন্যায্য দাবীর প্রতি মাননীয় অর্থমন্ত্রীসদয় সম্মতি জ্ঞাপন করছেন। এ দাবী সকল শিক্ষক সমাজের।   মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশ নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যেমন পদ্মাসেতু নির্মানও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ মহাকাশে উৎক্ষেপনের মাধ্যমে নিজের  প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন তেমনি ৫ লক্ষ  বেসরকারী শিক্ষক জাতীয়করণ  করে তাদের দীর্ঘদিনের  স্বপন পূরণ  করে ইতিহাসের পাতায় তিনি চিরভাষ্মর হয়ে থাকবেন  এ প্রত্যাশা সকল শিক্ষক সমাজের।

লেখক:বিশ্বজিৎ রায়

শিক্ষক, মৃজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়

তালা, সাতক্ষীরা।

একই ধরনের আরও সংবাদ