অধিকার ও সত্যের পথে

মাত্র ৬০ শতাংশ জমি লিখে না দেওয়ায় শিক্ষক দম্পতিকে হত্যা

 জেলা প্রতিবেদক ॥ 

টাঙ্গাইলে শিক্ষক অনিল কুমার দাস ও তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয় মাত্র ৬০ শতাংশ জায়গা লিখে না দেয়ায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রায় নয় মাস পর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে শুক্রবার দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, হত্যাকাণ্ডে ছয়জন অংশ নেয়। তারা প্রথমে অনিল কুমার দাসকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। স্ত্রী কল্পনা রানী ঘটনাটি দেখে ফেলায় তাকেও একইভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে উভয় লাশের গলায় ইটের বস্তা বেঁধে বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের খোলা কূপে ফেলে দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, ‘স্কুল শিক্ষক অনিল কুমার দাসের পার্শ্ববর্তী বিক্রমহাটী এলাকায় ৬০ শতাংশ জায়গা রয়েছে। সেই জায়গা আত্মসাৎ করার জন্য তার বৈমাত্রেয় ভাই স্বপন কুমার দাস ওরফে স্বপন সৌমিত্র পরিকল্পনা করে। তার সঙ্গে যোগ দেয় রসুলপুর এলাকার কয়েকজন মাদকসেবী। তারা মিলে পরিকল্পনা করে কিভাবে জমি অনিল কুমার দাসের কাছ থেকে লিখে নেয়া যায়। এ কাজ করতে পারলে স্বপন সৌমিত্র তার সহযোগিদের পাঁচ লাখ টাকা দেবে এবং জমি বিক্রির অর্ধেক টাকাও তাদের দেয়া হবে বলে জানায়। ঘটনার দিন ছয়জন অনিল কুমার দাসের বাড়ি গিয়ে তিনটি দলিলে স্বাক্ষর দিতে বলে। কিন্তু তিনি তাতে রাজি না হওয়ায় তাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা তার স্ত্রী কল্পনা রানী দাস দেখে ফেলায় তাকেও একইভাবে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তাদের লাশ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়া হয়।’

এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের অব্দুস সালামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৩২), মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. ফরহাদ (৪৮), রসুলপুরের মৃত আমির হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া (৩৩) এবং রসুলপুর শালিনাপাড়ার বাহাজ উদ্দিনের ছেলে মনজুরুল ইসলাম মিনজু (৩৩)।

২০১৭ সালের ২৬ জুলাই রাতের ওই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন অনিল কুমার ও তার স্ত্রী। পরদিন দুপুরে পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে। পরে ২৭ জুলাই নিহতের ছেলে বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

একই ধরনের আরও সংবাদ