অধিকার ও সত্যের পথে

শিশুদের কুসংস্কার ও ধর্মীয় উগ্রবাদ মুক্ত রাখতে বিশিষ্টজনদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘শিশুরা যেন কুসংস্কার ও ধর্মীয় উগ্রবাদ থেকে মুক্ত থাকতে পারে তার জন্য তাদের (শিশুদের) শিক্ষা পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।’শিশুদের অধিকার নিশ্চিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভেতরকার সম্ভাবনা বিকাশে সহায়তা করতে বিশিষ্টজন, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রসহ সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা-২০১৮ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন,

রাষ্ট্রপতি বলেন, শিক্ষা জীবনের একেবারে শুরুতেই বিভিন্ন প্রতিযোগিতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি শিশুদের পড়াশোনা অথবা অন্য কোনো বিষয়ে চাপ সৃষ্টি না করে বরং বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে তাদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এই অশুভ ও অসম প্রতিযোগিতা শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে।’শিশুদের মধ্যে দেশপ্রেম, নৈতিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও আন্তরিকতা সৃষ্টি এবং তাদের বেশি করে বই পড়া, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিল্পকলা ও সাহিত্য সম্পর্কে জানা এবং পাঠ্যবহির্ভূত কার্যক্রম বিষয়ে অনুপ্রাণিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আবদুল হামিদ বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ, ‘তাদের বোঝা মনে করা যাবে না এবং সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনাতে সহায়তা করতে হবে—সকল পর্যায়ে তাদের মানসিক বিকাশের সুযোগ দিতে হবে।’ তিনি তাদের (শারীরিক প্রতিবন্ধীদের) সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাদের মূল্যবান মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশুদের সুষ্ঠু বিকাশ প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার জন্য সহায়ক।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন বিষয়ে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও পদক বিতরণ করেন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ক্রীড়া, সৃষ্টিশীল নৃত্য, সংগীত, অভিনয়, হামদনাত, কবিতা পাঠ, কিরাত, ছড়া গান, গল্পবলা, চিত্রাংকন, নৃত্যসহ ২৮টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করে।

এ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, একই মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান ও ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেন এবং পরিচালক আনজির লিটন বক্তব্য দেন। রাষ্ট্রপতি শিশু একাডেমিতে শিশুদের পরিবেশিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন।

একই ধরনের আরও সংবাদ