অধিকার ও সত্যের পথে

ময়মনসিংহ জেলার সকল সপ্রাবিতে নির্দেশকা বোর্ড স্হাপন সম্পন্ন

 জাহাঙ্গীর আলম সেলিমঃ

মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের এক পরিশ্রমী ও সৃজনশীলতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ।২০১৭ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি বদলি জনিত কারনে মোফাজ্জল হোসেন গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে যোগদান করেই নানামুখী কর্মতৎপরতা শুরু করেন প্রাথমিক শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার জন্য। ২০১৭ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ভালুকা উপজেলার সকল প্রধান শিক্ষকদের উপস্থিতিতে মাসিক সমন্বয় সভায় অংশগ্রহণ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ইনোভেশন সংক্রান্ত কাজের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ জেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ বাস্তবায়নের জন্য ৬টি উদ্ভাবনী কার্যক্রম হাতে নিয়ে সাতদফা নির্দেশনা সহ তাঁর সৃজনশীল কাজগুলো বাস্তবায়নে আনুষ্ঠানিভাবে যাত্রা  করেন মোফাজ্জল হোসেন।
১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০১৭, মোফাজ্জল হোসেনকে জেলার সকল উপজেলা শিক্ষা অফিসারবৃন্দের বরন অনুষ্ঠানে নিম্নোক্ত ৬টি উদ্ভাবনী কার্যক্রম ঘোষণা করে তা আগামী ২ বছরের মধ্যে শতভাগ বাস্তুবায়নের জন্য নির্দেশনা সহ আন্তরিক অনুরোধ জানিয়েছিলেন।উদ্ভাবনী কার্যক্রমগুলো ছিলো:-

১. সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের ভৌগলিক অবস্থান, দূরত্ব সম্বলিত নির্দেশিকা বোর্ড প্রধান প্রধান সড়কে স্থাপন ,
২. শতভাগ শিশুদের লেখা ও পড়ার দক্ষতা অর্জনের নিমিত্তে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের পৃথক পৃথক খাতা ব্যবহার নিশ্চিত করা,

৩. সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার স্থাপন,

৪. সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই দিনে ও একই সময়ে জঙ্গিবাদ বিরোধী মা সমাবেশের আয়োজন করা,
৫. সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সততার স্টোর ও মহানুভবতার দেয়াল স্থাপন করা এবং

৬. জেলার ডিপিইও, সকল এডিপিইও, ইউইও, এইউইও এবং প্রধান শিক্ষকগণের মাঝে করপোরেট সীম বিতরন এবং স্থানীয় অর্থায়নে একটি মোবাইল ক্রয় করা যা ব্যবহার করে বিদ্যালয় কার্যক্রম মনিটরিং করা

যোগদানের ১ বছরের মাথায় তাঁর সৃজনশীল নেতৃত্বে ও কঠোর পরিশ্রমে ইতিমধ্যেই উদ্ভাবনী কাজের ৬টির মধ্যে দুটি সৃজনশীল কাজ সফলভাবে সমাপ্ত করেন,সেগুলো হলো:-

★সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের ভৌগলিক অবস্থান, দূরত্ব সম্বলিত নির্দেশিকা বোর্ড প্রধান প্রধান সড়কে স্থাপন ,

★ জেলার ডিপিইও, সকল এডিপিইও, ইউইও, এইউইও এবং প্রধান শিক্ষকগণের মাঝে করপোরেট সীম বিতরন।

উক্ত দুটি সৃজনশীল কাজ সফল সপাপ্তির পর ময়মনসিংহ জেলার কর্মকর্তা -কর্মচারী, শিক্ষক-ছাত্র সহ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন।

এছাড়া তাঁর নেতৃত্বে ও ত্রিশাল উপজেলার কর্মঠ শিক্ষা অফিসার নূর মোহাম্মদের আন্তরিক প্রয়াসে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলায় এ মাসের ২মে সকাল ১০ ঘটিকায় স্হানীয় বাগান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহামন ফিজার এমপির উপস্থিতিতে শতভাগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার ও মিডডে মিল বাস্তবায়নশেষে শুভ উদ্বোধন করেন। শুধু ত্রিশাল নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলার সকল সপ্রাবিতে শহীদ মিনার ও মিডডে মিল বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন তাঁর উদ্ভাবনী কার্যক্রমগুলো শতভাগ বাস্তবায়নে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন,এমনকি কর্মদিবসের বাইরেও অর্থাৎ বন্ধের দিনে ও তিনি ছুটে বেড়ান বিভিন্ন উপজেলায়,বিভিন্ন সভা সমাবেশে,ছাত্র -শিক্ষক -অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধির সমন্বয়ে আয়োজন করেন মতবিনিময় সভা।

এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও তিনি বেশ তৎপর,মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের যে কোন ধরনের নির্দেশনা অফিস অর্ডারের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যনমে ছড়িয়ে দেন নিজ ফেইসবুক একাউন্টের মাধ্যমে।

গত ১৪ই মে ২০১৮ ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ের ইনোভেশন সংক্রান্ত ফিডব্যাক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকাস্থ মিরপুর ইউসেফ অডিটোরিয়মে। উক্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন , প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: আবু হেনা মোস্তফা কামাল, এনডিসি ( অতিরিক্ত সচিব) সহ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।উক্ত কর্মশালায় উল্লেখিত ইনোভেশন কার্যক্রমগুলো ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন উপস্থাপন করে কর্মশালায় জানান যে, ইতিমধ্যে দুটি উদ্ভাবনী কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে ও বাকী চারটি উদ্ভাবনী কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে এর ফলে কর্মশালায় উপস্থিত সকল কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছেন।

একই ধরনের আরও সংবাদ