অধিকার ও সত্যের পথে

ঢাকায় ভর্তি কোচিং হোস্টেল ব্যবসার আড়ালে চলছে অবৈধ ব্যবসা

 রেজওয়ানুল আজাদ নিপুনঃ

 প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেতে রাজধানীতে পাড়ি জমান লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থীর অধিকাংশই আবাসিক হোস্টেলে থেকে ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এ সুযোগে হোস্টেল ব্যবসায়ীরা এসব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেন মোটা অংকের টাকা। রাজধানীর ফার্মগেট ও আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে সহস্রাধিক বাণিজ্যিক হোস্টেল। এসব হোস্টেলের পরিবেশ, খাবারের মান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই খারাপ। তারপরও বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে এসব নিম্নমানের হোস্টেলে। কিন্তু ঢাকায় নতুন আসা এই শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো দেখার, সমাধান করার মতো কেউ নেই।

কোচিং সেন্টারগুলোকে কেন্দ্র করে ফার্মগেট ও এর আশেপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে শতাধিক হোস্টেল। রাজধানীর ফার্মগেট, রাজাবাজার, তেজতুরী বাজার, খামারবাড়ি, লালমাটিয়া, মনিপুরীপাড়া, পান্থপথ, গ্রিনরোড এলাকায় বিভিন্ন ফ্ল্যাট ও ভবন ভাড়া নিয়ে নামে-বেনামে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে কয়েকশ হোস্টেল। এসব হোস্টেলের মধ্যে কিছু হোস্টেল মেয়েদের জন্য আর কিছু ছেলেদের জন্য। এইসব হোটেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভিযোগ উঠেঠে।

মনিপুরীপাড়ার মিলেনিয়াম ছাত্রাবাসের একটি রুমে ঢুকতেই নাকে আসে গুমোট গন্ধ। ১০ বর্গ ফুটের মত একটি রুম। এর মধ্যেই গাদাগাদি করে পাঁচ-সাত জন করে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোথাও কোথাও আবার হার্ডবোর্ড দিয়ে রুমের মধ্যে পার্টিশন দিয়ে রুম করা হয়েছে যেগুলো একজনের রুম বলে দাবী হোস্টেল কর্তৃপক্ষের। একেকটা চৌকির প্রস্থ এতই কম যে কোনো রকমে একজন শোয়া গেলেও ঘুমানো প্রায় অসম্ভব। আর এই পাঁচ সাতজনের জন্য বৈদ্যুতিক পাখা মাত্র একটি। নেই বাইরে থেকে আলো বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থাও। ব্যালকনিতেও বসানো হয়েছে বিছানা।  আর এরকম ৬-৭টি রুমের জন্য একটি মাত্র টয়লেট।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য কোচিং করছেন ইউনিএইডের ফার্মগেট শাখায়। থাকেন মিলেনিয়াম ছাত্র হোস্টেলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ ছাত্র বলেন, ‘এসব এলাকার প্রায় সব ছাত্র হোস্টেলের অবস্থা এরকমই। কিছু করার নাই। এসব মেনে নিয়েই থাকতে হবে। যে হোস্টেলে যাবেন সেখানেও একই অবস্থা। এখন কোচিংয়ের মৌসুম, সামনের মাসেই সিট ছেড়ে দিতে বলেছে।’খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব এলাকায় সাধারণত সিট ভাড়া চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকার মধ্যে। তবে কোচিং মৌসুমে মেস মালিকেরা ভাড়া বাড়িয়ে দেন। অন্য সময়ের চার হাজার টাকার সিট এখন ৬ হাজার টাকা। এই সময়ে বাড়তি ভাড়ার সাথে সার্ভিস চার্জ, জামানত, রমজান মাস, অগ্রিম ভাড়া, ভর্তি ফিসহ খরচের নানা খাত যোগ করা হয়। সব মিলিয়ে একজন নতুন বোর্ডারের কাছ থেকে ১৪-১৫ হাজার টাকা নেয়া হয় প্রথম মাসে।

ফার্মগেটের নিবেদিকা ছাত্রী হোস্টেলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা  বলেন, হোস্টেলের গেটের সামনেই বসে থাকে এলাকার উছৃঙ্খল ছেলেরা।যারা বিভিন্ন সময় মেয়েদের লক্ষ্য করে নানান অশ্রাব্য ও কুরুচিকর মন্তব্য করে থাকে।এসব হোস্টেলে নোংরা ও অপরিষ্কার পরিবেবেশে খাবারের নামে যা রান্না করা হয় তার সবই অখাদ্য। বাথরুম থাকে খুবই নোংরা। হোস্টেল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও এসবের কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না। এছাড়া ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ব্যবহার করতে হলে অতিরিক্ত ফি দিতে হয় বলেও জানান তিনি।

এই সব হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলে বা কোন কারনে কেউ বাড়িতে গেলে তাও তাকে পুরো মাসের থাকা খাওয়ার ভাড়া দিতে হয় বাধ্যতামূলক ভাবে। খাবার মান ও এসব হোস্টেলে খুবই খারাপ। বেশীরভাগ হোস্টেলের পানির মধ্যে দুর্গন্ধ। খাবার পানির কষ্ট তো আছেই। ইদানিং কিছু কিছু হোস্টেলে ভালো মানের থাকা খাওয়ার কথা বলা হয় তবে এধরনের হোস্টেলে থাকতে হলে লাগে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। এছাড়াও হোটেল ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পরে অনেককে সর্বশান্ত হতে হচ্ছে।

একই ধরনের আরও সংবাদ