অধিকার ও সত্যের পথে

রমজানে রাজধানীতে যানজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিন

 কে. এম আমিনুল ইসলামঃ

রোজা শব্দটি ফারসি, এর আরবী হলো সওম। সওম শব্দটি  অর্থ হলো বিরত থাকা। আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও নিজেকে পাপমুক্ত করার জন্য বৎসরে কয়েকটি দিন বা মাস আসে, তার মধ্যে একটি মাস হলো রোজার মাস। আরবী ১২ মাসের একটি মাসের নাম হলো রমজান মাস আর এই রমজান মাসেই আল্লাহ পাক আমদের উপর রোজাকে ফরজ করেছেনরমজানে রাজধানীতে যানজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিন।  মহান আল্লাহর সন্তোষ্টি অর্জনের নিমিত্তে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাদ্য , পানীয় , স্ত্রী সহবাস, অশ্লীল, গর্হিত প্রভৃতি কাজকর্ম, কথাবার্তা থেকে বিরত থাকাই সাওম বা সিয়াম।

রোজার সওয়াবের ব্যাপারে রাসুল (স:) বলেন আদম সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব ১০গুণ থেকে ৭০গুণ  পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হবে। রাসুল (স:) আরও বলেন যে ব্যাক্তি বিশ্বাসের সঙ্গে ও নেকীর আশায় রমজানের রোজা রাখাবে আল্লাহ তায়ালা তার আগের গোনাহ গুলো মাফ করে দিবেন।

এই রোজার মাসে রাজধানীতে যানজট একটা বিরাট সমস্যা। যানজট রাজধানীর নগর জীবনকেই শুধু বিপর্যস্ত করে তুলছে তা নয়, ঢাকাকে বসবাসের অযোগ্য হিসেবেও পরিচিতি এনে দিয়েছে। ঢাকাকে বলা হয় যানজটের শহর। যানজটের কারণে ঢাকা আজ এক গুরুতর অসুস্থ নগরী। যাতায়াত দুঃসাধ্য হয়ে উঠে নিরবচ্ছিন্ন যানজটে।

প্রতিদিন যানজটে লাখো মানুষের হাজার হাজার কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। জ্বালানি অপচয় হচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। রাজধানী ক্রমান্বয়ে অচল নগরীতে পরিণত হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যানজটের কারণ হিসেবে ভাঙাচোরা রাস্তা এবং কারণে-অকারণে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িকেও দায়ী করা হচ্ছে। যেখানে-সেখানে পার্কিং, ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো ইত্যাকার সমস্যা তো বহু পুরনো। কিছুতেই রাজধানীর যানজট সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

যানজট পরিস্থিতি দিনই দিনই জটিল হচ্ছে। রাজধানীতে যানজটের কারণে বছরে বাণিজ্যিক ক্ষতি ২১ হাজার কোটি টাকার বেশি। প্রতিদিন এর পরিমাণ ৮৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে যানজটের কারণে দিনে আর্থিক ক্ষতি প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা ১২ ঘণ্টায় রাজধানীতে চলাচলকারী যানবাহনকে যানজটের কারণে প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। এর মধ্যে প্রতিদিন ঢাকার রাস্তায় নামছে প্রায় ২০০ বিভিন্ন ধরনের পরিবহন।

২০৩০ সালে ঢাকায় জনসংখ্যা হবে ৩০ কোটি। এ প্রেক্ষাপটে যানজট নিরসনে উদ্যোগ নেয়ার সময় এখনই। রাজধানী ঢাকাকে সবার জন্য বসবাসের উপযোগী করতে হলে যথাযথ সুদূরপ্রসারী ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন জরুরি। যানবাহন এবং যানজট  শহরের সচলতা শুধু কমিয়ে দিচ্ছে তাই নয়, আর্থিক ক্ষেত্রেও অভিঘাত হানছে। এখন যে পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আছে ঢাকা শহর সে পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে এ শহর অসচল হয়ে পড়বে। যানজট এবং জনজটের যেন এক অবিচ্ছেদ্য সহাবস্থান। এটিই আজ ঢাকা মহানগরীর বাস্তবতা। আসলে আমাদের দেশটার কোনো গতি নেই; আছে দুর্গতি। এটা গায়েবি গজব নয়, মনুষ্যসৃষ্ট আজাব। এ আজাব থেকে আমরা মুক্তি চাই।

রাজধানীর যানজট নাগরিকদের মনোরাজ্যে প্রতিদিনই সৃষ্টি করছে বিরূপ প্রভাব। কেড়ে নিচ্ছে মনের শান্তি। অর্থনীতির জন্য সর্বনাশা প্রভাবও সৃষ্টি করছে এ সমস্যা।

বিশ্বব্যাংকের মতে রাজধানীর বর্তমান পরিস্থিতিতে যানজট নিরসন অসম্ভব। তাহলে ঢাকাবাসীর কী হবে? যানজটেই আটকে থাকবে ঢাকাবাসী? না, এ দুঃসহ যানজট থেকে ঢাকাবাসীকে মুক্ত করতেই হবে। বিশেষ করে রোজা আর ঈদ নির্বিঘ্ন করতে রমজানে রাজধানীতে যানজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিন।

 

লেখকঃ কে.এম আমিনুল ইসলাম

            লেখক ও সাংবাদিক ।

একই ধরনের আরও সংবাদ