অধিকার ও সত্যের পক্ষে

মাধ্যমিকে জিম্মি দশায় ইংরেজি ও গণিতে ফল বিপর্যয়

 এ এইচ এম সায়েদুজ্জামানঃ

 কয়েকদিন আগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে এই ফল বিশ্লেষনে দেখা যায়  গত ৯ বছরের মধ্যে মাধ্যমিকে   পাসের হার সবচেয়ে কম । কারন হিসেবে জানা  যায়, ইংরেজি ও গণিতে ফল বিপর্যয়। কেউ কেউ মনে করেন, শহরের তুলনায় গ্রাম পর্যায়ে যোগ্য শিক্ষকের সংকট রয়েছে। আবার অনেকে মনে করেন মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের স্বজনপ্রীতি, গণিত ও ইংরেজি শিক্ষককে গণিত ও ইংরেজি ক্লাস না দিয়ে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বাংলা, ধর্ম ,সমাজবিজ্ঞান অথবা অন্যবিষয়ের শিক্ষক দিয়ে গণিত ও ইংরেজি ক্লাস করানো  এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায়  কম পাস করার সেটিও একটি কারণ। অনেকের ধারনা  প্রশ্ন ফাস হলেও গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারে প্রশ্ন ফাসের মাত্রা ছিলো একটু সহনীয় এটিও একটি কারন।

প্রতি বছর পাশের হার বেশি থাকে, এবারের  পাশের হার কম স্বভাবতঃ এই ফল বিপর্যয় নিয়ে বিচার বিশ্লেষন হওয়া স্বাভাবিক। আবার  ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীরা খারাপ করার কিছু কারণ আছে। স্কুল পর্যায়ে  সেরকম মানসস্মত শিক্ষক নেই আর যারা আছে তারা সেভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তও নন।

অধিকাংশ বিদ্যালয়গুলোতে  অযোগ্য  শিক্ষকদের  দ্বারা ইংরেজি ও গণিতের  পাঠদান করানো হয় । যা শেখানো হয়  তা ভুল এর  জন্য কে দায়ী শিক্ষার্থী না শিক্ষক?

আমাদের দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশগুলোতে এখনো বিএ (পাস) সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষকদের দ্বারা ইংরেজি ও গণিত পড়ানো হয় । যাদের ইংরেজি ও গণিত সম্পর্কে নূন্যতম ধারণাও নেই তাদের হাতেই আজ মাধ্যমিকের ইংরেজি ও গণিত  জিম্মি হয়ে আছে । গাইড বই দেখে ছাত্রদের পাঠদান করে এবং না বুঝিয়েই ক্লাসের পড়া হিসেবে প্যারাগ্রাফ, ফরমাল লেটার ,  কোনো টপিক দিয়ে দেয় । আবার গাইড দেখে কয়েকটা অংক মুখস্ত করে ক্লাস নিচ্ছে তাতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা । আর এই সুবিধা দিচ্ছে এক শ্রেনির অসাধু প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। কথিত আছে তারা ঐ অযোগ্য শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রাইভেট পড়ানোর একটা অংশ  মাসিক মাসোয়ারা নিয়ে থাকে।

তারা আবার বড় বড় প্রচারপত্রে নিজের নামের সাথে ইংরেজি শিক্ষক / গণিত শিক্ষক, বোর্ড পরীক্ষক হিসেবে বলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ধোঁকা দিচ্ছে । যাতে প্রচারপত্র দেখে অভিভাবকরা তাদের সন্তানকে তার কাছে পাঠাতে আগ্রহী হয় । গণিত ও ইংরেজি  শিক্ষক না  হয়েও নিজেকে ইংরেজি ও গণিতের বড় শিক্ষক হিসেবে জাহির করছে যা প্রতারণার শামিল । এ ধরনের শিক্ষকরা আজ শিক্ষকতা পেশাকে কলুষিত করেছে ।

এই হলো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজি ও গণিত  শিক্ষা ব্যবস্থা । এই যদি হয় ইংরেজি ও গণিত শিক্ষার অবস্থা , তাহলে ১০০ বছরেও  ইংরেজি ও গণিতে গতানুগতিক অবস্থা বিরাজ করবে । এ অবস্থা দূর করতে না পারলে শিক্ষার বারোটা বেজে যাবে । এ সমস্যা দূরীভূত করতে শিক্ষা মন্ত্রনালয়কে ইংরেজি ও গণিতের কেন ফেল করছে তার প্রকৃত  সমস্যগুলো খুঁজে বের করে তা সমাধানের জন্য এখনই  পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে ।

 লেখক- শিক্ষক ও সাংবাদিক।

একই ধরনের আরও সংবাদ