অধিকার ও সত্যের পথে

এসএসসি পরীক্ষা পরবর্তী সময়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের করনীয় ও বর্জনীয়

 মুহাম্মদ হাসান ভূইয়াঃ
গত রোববার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের অনুলিপি হস্তান্তর করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এরপর দুপুর ১টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষার ফল ঘোষণা করেন তিনি। এ সংবাদ সম্মেলন থেকেই জানা যায় ২০১৮ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পৃথকভাবে ১০ বোর্ডের গড় পাসের হার ৭৭.৭৭ শতাংশ । গত বছর এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে রাজশাহীতে গড় পাসের হার সবচেয়ে বেশি ৮৬.০৭ শতাংশ। পাসের হার সবচেয়ে কম ছিলেট শিক্ষা বোর্ডে ৭০.৪২ শতাংশ। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। গত বছর এ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন। আর অন্যান্য বোর্ডে এ বছর পাসের হার ছিল, রাজশাহীতে পাসের হার ৮৬.০৭ শতাংশ।
ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৮১.৪৮ শতাংশ। কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৮০.৪০ শতাংশ। দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৭৭.৬২ শতাংশ। বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৭৭ .১১ শতাংশ। যশোর বোর্ডে পাসের হার ৭৬.৬৪ শতাংশ। চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৭৫ .৫০ শতাংশ। সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৭০.৪২ শতাংশ। এ ছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডে (দাখিল) পাসের হার ৭০ দশমিক ৮৯ শতাংশ । কারিগরি বোর্ডে (ভকেশনাল) পাসের হার ৭১ দশমিক ৯৬ শতাংশ। সুতরাং এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১০ টি শিক্ষা বোর্ডের গড় অকৃতকার্যের হার ২২ দশমিক ২৩ শতাংশ। উপরে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, এ বছর সবগুলো বোর্ড সমান হারে পাস করতে পারে নি । আর এটি কখনো সম্ভবও নয়।
এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮০ দশমিক ৪০ শতাংশ । যেটা গত বছর ছিল মাত্র ৫৯ দশমিক ০৩ শতাংশ। গতবারের তুলনায় পাসের হার বেড়েছে ২১.৩৭ শতাংশ। এ ছাড়া বোর্ডে এ বছর মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থী। গত বছর যেটা ছিল ৪ হাজার ৪৫০ জন। গতবারের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ বেড়েছে ২ হাজার ৪১৫ জন। অবশ্যই গত কয়েক বছরে পাসের হার কম- বেশী হয়েছিল । আর পাসের হার কম বেশী হওয়া একটি স্বাভাবিক পক্রিয়া।
এই জন্যে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া এটি অতি স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু এই চিরন্তন সত্য কে মানুষ আজ বিশ্বাস করতে পারছে না। প্রকৃতির চিরন্তন বিষয় গুলোও আজ মানুষ অস্বীকার করছে। ফেল না থাকলে পাসের বা পরীক্ষার কি প্রয়োজন ছিল? শুধু সনদপত্র পত্র কোর্ট ফাইলে বন্দি রেখে কি হবে? একটি ভালো ফলাফলই কি মানুষের সবকিছু ? একজন চরিত্রহীন মানুষের ফাইল ভরা সনদপত্র থাকলেই কি হবে? সে তো সাপের মাথার মুক্তার মত! তাহলে প্রতি বছরই ফলাফল ঘোষনার পর এত আত্নহত্যা কেন? এ দেশে এমন একটি ফলাফল ঘোষনা করা হয়নি যে ফলাফল ঘোষনার পর ছাত্রছাত্রীরা আত্নহত্যা করে নি। তাহলে এটা কেমন কথা? আমি কি তাহলে মিথ্যে বললাম? কেন এই আত্নহত্যা? আমাদের অভিভাবকেরা আত্নহত্যার দায় এড়াতে পারেন না। তারা তাহলে কেন বলেন পাশের বাড়ির করিম পাস করল তুমি কেন পারলে না? সে জিপিএ-৫ পেল তুমি পেলা না কেন? এই প্রশ্ন আমাদের অভিভাবকদের । বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে এ বিষয়ে কথা হয় আমার, ডাক্তার আমাকে বলেন কখনো ছেলেমেয়েদের যে কোন বিষয় নিয়ে অন্য ছেলেমেয়েদের সাথে তুলনা করতে নেই। এতে ক্ষতি ছাড়া ভালো কিছুই হয় না ।
গত সোমবারে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় এস এস সি পরীক্ষায় ফেল করে হালিমা আক্তার মনি (১৭) নামের এক পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। গত রবিবার রাত ৭ টায় উপজেলার চান্দলা মধ্যপাড়া গ্রামে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত হালিমা আক্তার মনি উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। সে এই বছর চট্টগ্রাম ষোল শহর পাবলিক স্কুল থেকে ব্যবসা শাখায় এস এস সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। তাহলে আত্মহত্যাকারী হালিমা আক্তার মনির কি মেধা ছিল না? তাকে নিয়েই লিখতে বসা। সামাজিক দায়বদ্ধাতা থেকে কলম ধরতে হয়। কেবল ফেল করার কারণে একজন আত্নহত্যা করবে। জীবনটা তো অনেক বড়। জীবনটা কিন্তু ছেলে খেলা নয়, যা ইচ্ছা তাই করব। স্বাধীনচেতা মানুষ কে আমরা পছন্দ করি, এর অর্থ এই নয় যে আত্নহত্যা করা। সমস্যাটা হলো ফল প্রকাশের পর অনেক অভিভাবকও সহানুভূতি পূর্ণ আচরণ করে না বলেই আমার মনে হয়। এই ফল প্রকাশ হওয়ার পর আমার একজন অভিভাবকের সাথে কথা হয়। তার ছেলে জিপিএ -৫ পায়নি। সামান্য পয়েন্ট কম পেয়েছে। এতে দেখলাম তিনি খুবই হতাশ। তার মতে ভবিষ্যতের জীবনের একটা দিক নাকি তার ছেলের নষ্ট হয়ে গেছে! এই হলো আমাদের অভিভাবকদের অবস্হা! প্রতিযোগীতা ভালো, তবে তা জীবনের বিনিময়ে অবশ্যই নয়। আত্নহত্যাকারীদের উদ্দেশ্য বলতে চাই, আবেগ দিয়ে মানুষের জীবন চলতে পারে না। আপনি আত্নহত্যা করে ওপারে চলে গেলেন এতে আপনার ফায়দা হবে কী? ইসলামে ধর্মীয় পরিভাষায়ও আত্নহত্যাকে চিরস্হায়ী জাহান্নমী বলা হয়েছে । অনান্য ধর্মও আত্নহত্যা পরম ঘৃণিত কাজ। তাই বলি আবেগ হলো মোমবাতি যা কিছুক্ষণ পর নিভে যায়, আর বিবেক হলো সূর্য যা কখনো নিভে না। তাই জীবনকে পরিচালনা করতে হবে আবেগ নয় বিবেক দিয়ে।
এ বছর এস এস সি পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষার্থী মুরাদনগর উপজেলা বাংঙ্গরা গ্রামের মোসাম্মাৎ ফারহানা । সে এস এস সি পরীক্ষায় এক বিষয় ব্যাতিত সকল বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছ কিন্তু শুধু মাত্র হিসাববিজ্ঞান বহুনির্বাচনি অভীক্ষায় অল্প নম্বরে ফেল করেন। সে এই ব্যপারটি সাধারন ভাবে মেনে নিতে পারেনি, আত্নহত্যা করতে চেয়েছিল বার বার। আলহাদুলিল্লাহ যদিও শেষ পর্যন্ত আত্নহত্যা করতে পারেনি। শুধু কি ফারহানা? তার মত অনেকেরই এ অবস্হা, গত সোমবারে বিভিন্ন পত্রিকায় দেখলাম প্রায় দশ জন পরীক্ষার্থী আত্নহত্যা করতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেনি। সকলের কারন একটাই সকল বিষয়ে জিপিএ ৫ কিন্তু যে কোন এক বিষয়ে অথবা বাংলা ডি বা সি গ্রেড পেয়েছে এমন। এখন প্রশ্ন হলো একজন পরীক্ষার্থী সকল বিষয়ে জিপিএ ৫ পেলে বাংলায় ফেল বা সি গ্রেড পায় কিভাবে? শিক্ষক বা পরীক্ষক বা বোর্ডের উদ্দেশ্য বলার মত কোন যোগ্যতা আমার নেই। আমি অতি সামান্য এক জন সাধারন মানুষ । কথায় আছে আঁদা ব্যপারির জাহাজের খবর নেওয়ার প্রয়োজনে পরে না।
তাই আমিও বলার প্রয়োজন মনে করি না। শুধু এই টুকু বলব একটি ছেলে এক বিষয় ব্যাতিত অনান্য সকল বিষয়ে জিপিএ-৫ পেল। হিসাববিজ্ঞান লিখিত অংশও ভালো করল । তাহলে তার প্রতি পরীক্ষক বা বোর্ডের কিছুই করার ছিল না? পরীক্ষক ও বোর্ড কর্তৃপক্ষের খাতা দেখার সময়ে আরও বেশী দ্বায়িত্ববান ও সচেতন হওয়া উচিত ছিল না? যাক এবার পরীক্ষায় অকৃতকার্য পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের এবং অভিভাবকদের করনীয় সম্পর্কে কিছু লিখতে চাই। এসএস সি পরীক্ষায় খারাপ বা খুবই খারাপ ফলাফল যাদের হয়েছে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বুুকে জড়িয়ে নিবেন । কারন আপনি এখন যত কথা, শাসন করবেন তাতে ফলাফলের কোন পরিবর্তন করতে পারবেন না। উল্টা হিতে বিপরীত হতে পারে। তাহলে খামাখা এত কথা বলবেন কেন? পরীক্ষার পূর্বে আপনি সন্তানের প্রতি যত্নবান হননি কেন? তখন আপনার দ্বায়িত্ব যথাযথ পালন করলে আজ হয়তো এই অবস্হা হতো না। এখন স্নেহ ও ভালোবাসা দিবেন । যা কিছুু হয়েছে তার পেছনে নিশ্চয় ভালো কিছুু রয়েছে। আসলে যা কিছুু হয় ভালোর জন্যই হয় সেটা আমরা বুঝতে পারি না।
“মহান আল্লাহ বলেন- নিশ্চয় আমি তোমাদের ভয়, ক্ষুধা, ধন- সম্পদ ফসলের ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করবো “। আপনি দৈর্যশীলদের শুভ সংবাদ দিন:” সূরা আল বাকারা, আয়াত(১৫৫)। বিশ্বখ্যাত সম্পদশালী ষ্টিভ জব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড্রপ আউট না করলে এ্যপেল কম্পিউটার তৈরি করতে পারতেন না । আবার এ্যপেল কোম্পানী তাকে বের করে না দিলে তিনি পিক্সল এমিনেশন তৈরি করতে পারতেন না । তিনি বলেন অতীতে যা কিছুু অামার জীবনে হয়েছে সবকিছুুই আমার জন্য উত্তম ছিলো যদিও প্রথমে মনে হয়েছিলো ঠিক হয়নি । কোন অবস্হায় ভেঙ্গে পড়া যাবে না মন খারাপ করা যাবে না । ধৈর্যশীলরা সবসময়ই বিজয়ী । নিশ্চয় আরও ভালো কিছুু অপেক্ষা করছে । আব্রাহাম লিংকন বলেন- পরাজয় মানে সমাপ্তি নয়, যাত্রা একটু দীর্ঘ হওয়া মাত্র।একবার কয়েকটা বিষয়ে আমি ফেল করেছিলাম কিন্তু আমার বন্ধু সব বিষয়েই পাশ করে। এখন সে মাইক্রোসফটের একজন ইঞ্জিনিয়ার, আর আমি মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা। পরীক্ষায় কিন্তু বিল গেটসও ফেল করেছিল।
কিন্তু সে ফেল করে তার জীবনযাত্রা টা থামিয়ে রাখেনি বলেই, সে আজ মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা।আর তার পাস করা বন্ধু মাইক্রোসফটের ইঞ্জিনিয়ার। সফলতার বিষয়ে এই মূহর্তে মনে পরে সাবেক ভারতীয় প্রেসিডেন্ট এ পি জে আবদুল কালাম আজাদ এর দু’ টি বাণী : সফলতা পেতে হলে নিজের লক্ষের প্রতি পুরোপুরি নিবেদিত হতে হবে। স্বপ্ন সেটা নয় যেটা তুমি ঘুমিয়ে দেখো, স্বপ্ন সেটা তোমাকে ঘুমাতে দেয় না। সাফল্যের বিষয়ে এতক্ষন পর্যন্ত যত উদাহরন দিলাম তাঁরা সকলেই বিদেশী বিখ্যাত বিজ্ঞানী, দার্শনিক ও গুণিজন। এখন আমি আমার দেশের এমন একটি জ্বলন্ত উদাহরন দিতে চাই,যিনি আই. এ পরীক্ষায় লজিকে রেফার্ড দিয়েছিল। যাকে বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষ চিনে। যিনি বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের নেতা।যাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ভর্তি ফরমটিও দেওয়া হয়নি, কিন্তু তিনি এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর। যার পরিচিতি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরেছে। তিনি কে? তিনি হলেন আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব এডভোকেট আব্দুল হামিদ। আমি মনে করি বর্তমান সময়ে পরীক্ষায় ফেল করে সফল হওয়ার স্রেষ্ট উদাহরন মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। তিনি এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে দেওয়া বক্তব্যের আংশিক তুলে ধরলাম। তাঁর নিজের জীবনী সম্পর্কে তিনি কয়েকটি কথা বলেন, যা হুবাহুব লিখা হলো। তিনি বলেন আমার নিজের কাছে অবাক লাগে, কারন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর। ১৯৬১ সালে আমি ম্যাট্রিক পাস করেছি। এবং ম্যাট্রিক থ্রার্ড ডিভিশন।
আর আই. এ পাস করছি এইডা তো এক সাবজেক্ট অর্থাৎ লজিকে রেফার্ড। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন আসলাম ভর্তি হওয়ার জন্য । তখন ভর্তি তো দূরের কথা ভর্তির ফরমটাও পর্যন্ত আমাকে দেওয়া হলো না । তখন বাধ্য হয়ে নিজ জেলায় গুরুদয়াল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়ে গেলাম । আমার অব্শ্য ইতিহাস সবই অন্য রকম ১৯৬১ সালে ম্যাট্রিক পাস করে ১৯৬৫ সালে বি.এ পাস করার কথা ছিল সেই বি.এ পাস করলাম ১৯৬৮ সালে, ৬৯ সালে। অর্থাৎ চার বছরের জায়গায় প্রায় ৮ বছর লাইগা গেল। কিন্তু আল্লাহর কি লিলা খেলা বুঝলাম না, যে ইউনির্ভাসিটিতে আমি ভর্তি হতে পারলাম না সেই ইউনির্ভসিটির আমি চ্যান্সেলর হয়ে আসছি। শুধু ঢাকা ইউনির্ভাসিটি নয় বাংলাদেশের যত গুলো পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আছে সবগুলোর চ্যান্সেলর আমি।
উল্লেখ্য বর্তমানে বাংলাদেশে ৪২ টি পাবলিক ও ৯০ টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আছে। কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে ফেল করলেই সবকিছু শেষ হয়ে যায় বিষয়টি এমন নয়। বরং অন্য কোন বিষয়ে তার আগ্রহ আছে ধরে নিতে হবে। শেষকথা হলো কোন নির্দিষ্ট পরীক্ষায় ফেল বা কম নম্বর পেলেই জীবনের সবকিছু শেষ হয়ে যায় বিষয়টি এমন নয় । জীবনের সাফল্য বা ব্যর্থতা উভই নির্ভর করে মনুষ্যত্ব, আর্দশ ও সৎ চরিত্র অর্জনের উপর । শুধু মাত্র ভালো ফলাফলের উপর কখনো সফলতা নির্ভর করে না। এটি চিরন্তন সত্য, আর তাই যারা পরীক্ষায় ফেল করেছে বা আশানুরূপ ফল করতে পারে নি তারা যেন সব শেষ হয়ে গেছে এমনটা মনে করা মোটেও ঠিক হবে না। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সঙ্গ দিতে পারে সন্তানের অভিভাবক, শিক্ষক মহদোয়েরা, গুরুজন, জ্ঞানী ব্যাক্তিবর্গ ও লেখক-কলামিষ্ট গন। আজকের আলোচনার ইতি টানতে চাই একটি গল্প বলে। একটি ঘরে চারটি মোমবাতি জ্বলছিল। প্রথম মোমবাতি বলে আমি ” শান্তি ” বেশিক্ষন থাকি না এই বলে মোমবাতিটি নিভে গেল। তখন দ্বিতীয় মোমবাতি বলল আমি ” বিশ্বাস ” যেখানে শান্তি নেই আমিও সেখানে থাকতে পারি না। এই বলে দ্বিতীয় মোমবাতিটিও নিভে গেল। এবার তৃতীয় মোমবাতি বলল, আমি ” ভালোবাসা ” যেখানে ‘ শান্তি আর বিশ্বাস ‘ নেই সেখানে আমার থাকা অসম্ভব। এ বলে তৃতীয় মোমবাতি নিভে গেল।
এবার একটি বাচ্চা ছেলে ঘরটিতে প্রবেশ করলো। চারটি মোমবাতির মধ্যে তিনটি মোমবাতি নিভে গেল। শুধু একটি মোমবাতি মিট মিট করে জ্বলছে! তখন বাচ্চা ছেলেটি কাঁদতে কাঁদতে চতুর্থ মোমবাতি জিজ্ঞাসা করল,” তুমি জ্বলছে কেন? ” তুমিও তো নিভে যেতে পারতে? চতুর্থ মোমবাতিটি বলল আমি ” আশা ” আমি সব সময়ই থাকি। এখন তুমি চাইলে আমাকে দিয়ে এই তিনটি কে ও জ্বলিয়ে তুলতে পার। তাই বলা চলে আশাই মানুষ কে বাঁচিয়ে রাখে।
লেখকঃ মুহাম্মদ হাসান ভূইয়া
বি বি এস (সম্মান) এম বি এস ( হি: বি:) এল,এল,বি ( শেষ পর্ব)
প্রভাষক
কুমিল্লা মডেল কলেজ।
জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা
দৈনিক শিক্ষা বার্তা ডট কম ।
একই ধরনের আরও সংবাদ