অধিকার ও সত্যের পক্ষে

পাহাড়ের নৈর্সগিক সৌন্দর্যে ‘শেরপুর’

 জয় বর্মন

নদী-খাল বিল আর পাহাড়-জঙ্গলে ঘেরা অপূর্ব সৌন্দর্যের নগরী শেরপুর জেলা। শহর থেকে বের হয়ে উত্তরে অগ্রসর হতে থাকলে আকাশে গাঢ় নীল আবছায়া দেখা যায়। এর নামই গারো গারো পাহাড়।

শেরপুর জেলা পূর্ব পশ্চিমে ৮৯০- ৫০ পূর্ব দ্রাঘিমা হতে ৯০০- ১৫ পূর্ব দ্রাঘিমা পর্যন্ত। উত্তর দক্ষিণে ২৪০- ৫৫ উত্তর অক্ষাংশ হতে ২৫০- ১৬ উত্তর অক্ষাংশ পর্যন্ত। অধিবাসীদের মধ্যে মুসলমান এবং হিন্দুই প্রধান। তাছাড়া পাহাড়ী জনপদে আদিবাসী কোচ, গারো, হাজং, রাজবংশি, হদি, বানাই, বর্মনদের বাস। খ্রিস্ট্রীয় চতুর্দশ শতাব্দিতে শেরপুরের উত্তর ও উত্তর পূর্বাঞ্চলে আদিবাসী সামন্তর পৃথক রাজত্ব কায়েম করেছিলো। গড়জড়িপা ছিলো তার অন্যতম। পঞ্চদশ শতাব্দির শেষভাগে সেসব সামন্তরাজের অবসান ঘটে।

শেরপুরের পূর্ব কথার কিছু উল্লেখ না করলে অনেক জানার বিষয় অজানাই থেকে যাবে। অতি সংক্ষেপে তার বর্ণনা দেয়া হল। প্রাচীন কামরুপ রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলের আদি নাম পাওয়া যায় না। তবে এ অঞ্চলের হিন্দু শাসক দলিপ সামন্তের রাজ্যের রাজধানী গড় জরিপার উল্লেখ আছে। সম্রাট আকবরের সময় এ অঞ্চলের নাম দশ কাহনীয়া বাজু বলে ইতিহাসে পাওয়া যায়।

বাংলার নবাবী আমলে গাজী বংশের শেষ জমিদার শের আলী গাজী দশ কাহনিয়া অঞ্চল দখল করে স্বাধীনভাবে রাজত্ব করেন। এই শেরআলী গাজীর নামে দশ কাহনিয়ার নাম হয় শেরপুর। তখনও শেরপুর রাজ্যের রাজধানী ছিল গড়জরিপা।বৃটিশ আমলে এবং পাকিস্তান আমলে নাম হয় শেরপুর সার্কেল। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শেরপুরকে ৬১ তম জেলা ঘোষণা করেন। কিন্তু রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে তা স্থগিত হয়ে যায়। ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শেরপুরকে মহকুমা, ১৯৮৪ সালে রাষ্ট্রপতি এরশাদ শেরপুরকে জেলায় উন্নীত করে জেলার ৫ টি থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করেন। জমিদারী আমলে ১৮৬৯ সালে শেরপুর পৌরসভা স্থাপিত হয়।

অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধ হতে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ পর্যন্ত শেরপুরবাসীর একটানা দীর্ঘ একশত বৎসরের সংগ্রামের ইতিহাস। এ সংগ্রাম প্রত্যক্ষভাবে পরিচালিত হয়েছিল প্রজাদের উপর জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে এবং পরোক্ষভাবে অনেক ক্ষেত্রে ইংরেজ শাসনের উচ্ছেদ কল্পে। একসময় পাগল পন্থী নেতা টিপু পাগল শেরপুরের ইংরেজ শাসনের অবসান ঘটিয়ে একটা স্বাধীন রাষ্ট্রই স্থাপন করেছিলেন। কংশ নদীর তীরবর্তী লেটির কান্দা গ্রামে এখন তাঁর বংশধররা পাগল বাড়িতে বসবাস করছে। জমিদারদের অত্যাচারের বিরূদ্ধে প্রজারা প্রায় সময়ই আন্দোলনে লিপ্ত থাকত। আন্দোলনগুলোর মধ্যে ছিল বক্সারী বিদ্রোহ, প্রজা আন্দোলন , কৃষক আন্দোলন , ক্ষএিয় আন্দোলন।

ফকির বিদ্রোহঃ
এতদঞ্চলে ফকির বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সোনাবানু ফকির। তার বংশধররা বর্তমানে গাজীরখামার গিদ্দাপাড়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। শের আলী গাজী এদের আশ্রয়েই মৃত্যুর পূর্বক্ষণ পর্যন্ত আধ্যাত্মিক জীবন কাটিয়েছেন।

টঙ্ক আন্দোলনঃ
জমিদাররা প্রজাদের নিকট হতে একর প্রতি পাঁচ মণ ধান এবং নগদ ১৫ টাকা খাজনা আদায় করত। নির্দিষ্ট পরিমাণ ধান উৎপাদিত না হলেও তা দিতে হতো। এ বিধান রহিত করার জন্য প্রজারা আন্দোলন করেছিল।

নানকার আন্দোলনঃ
দরিদ্র প্রজারা জমিদারদের বাড়িতে শারীরিক পরিশ্রম করার পরিবর্তে নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি ভোগদখল করত। পরিশ্রম করতে অক্ষম হলে জমিও ছেড়ে দিতে হত। জমিদারদের বিরুদ্ধে উক্ত টঙ্ক ও নানকার আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেন বাবু রবি নিয়োগী, খন্দকার মজিবর রহমান, জনাব আব্দুর রশিদ, ছফিল উদ্দীন প্রমুখ।

আদিস্থান আন্দোলনঃ
শেরপুরের আদিবাসীদের উদ্যোগে ব্রহ্মপুত্র নদের উত্তরাংশে গারো পাহাড় পর্যন্ত একটি স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলের দাবীতে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। আদিবাসী নেতা জলধর পাল এবং তৎকালীন কমিউনিস্ট পার্টির কয়েকজন সদস্য এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এ সমস্ত আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল অর্থনৈতিক সমস্যার বৈষম্য দূরীকরণ ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা।

স্বাধীনতা আন্দোলনঃ
১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্ববানে সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলন তৎসঙ্গে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। শেরপুরেও একটি সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয় এবং পরিষদের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আহ্ববানে যুদ্ধ প্রস্তুতি প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য সর্ব প্রথম ১২ জন নির্ভীক বালক স্থানীয় আড়াই আনীন বাড়ীতে (বর্তমানে মহিলা কলেজ ) সুবেদার আব্দুল হাকিমের কাছে অস্ত্র ধারণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। শেরপুর অঞ্চলের সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন জাতীয় পরিষদ সদস্য জনাব এড. আনিসুর রহমান(শেরপুর – শ্রীবরদী), জাতীয় পরিষদ সদস্য জনাব আব্দুল হাকিম (নকলা-নালিতাবাড়ী), প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য জনাব নিজাম উদ্দীন আহমদ (শেরপুর), প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য জনাব আব্দুল হালিম (শ্রীবরদী)। মুক্তিযুদ্ধ সংগঠকদের মধ্যে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জনাব এড. আব্দুস সামাদ, জনাব মুহসীন আলী মাস্টার , বাবু রবি নিয়োগী, জনাব আব্দুর রশিদ , জনাব আমজাদ আলী মাস্টার, জনাব এমদাদুল হক হীরা মিয়া, জনাব অধ্যাপক আবু তাহের, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জনাব আমজাদ হোসেন, জনাব আবুল কাসেম, মোঃ হাবিবুর রহমান, নকলার অধ্যাপক মিজানুর রহমান, মোজাম্মেল হক মাস্টার এবং ডাঃ নাদেরুজ্জামান।

ভাষা সৈনিক আবুল কাশেম
অধ্যক্ষ আবুল কাশেম বাংলাদেশের সর্বস্তরে বাংলা ভাষাকে অধিষ্ঠিত করার জন্য সারা জীবন চেষ্টা করেছেন । এ লক্ষ্যে তিনি জীবনভর পরিশ্রম করেছেন। ১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭, ইসলামিক সংস্কৃতি ও চেতনাকে সামনে রেখে সমমনা শিক্ষাবিদ, লেখক ও সাংবাদিকদের সমন্বয়ে “তমুদ্দিন মজলিস” প্রতিষ্ঠা করেন ।১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭, তমুদ্দিন মজলিস “পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা:বাংলা না উর্দু?” শিরোনামে একটি বুকলেট বের করে। যার গ্রন্থকার কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল মনসুর আহমেদ ।এই বুকলেট সকলের হাতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়েছিল । অধ্যাপক আবুল কাশেম বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের অফিস- আদালতে একমাত্র ভাষা হিসেবে ব্যবহারের উপর জোর দেন। পাশাপাশি বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে প্রচারণা চালান ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি ক্লাসে তিনিই প্রথম বাংলায় পাঠদান করেন ।

মুক্তিযুদ্ধে অবদান:
স্বাধীনতা যুদ্ধে অনন্য অবদানের জন্য এ জেলার ১ জন বীর বীরবিক্রম, ২ জন বীর প্রতীক উপাধি পেয়েছেন। এরা হলেন, ‘শহীদ শাহ মোতাসীম বিল¬াহ খুররম বীর বিক্রম’, ‘কমান্ডার জহুরুল হক মুন্সি বীর প্রতীক’ ও ডাঃ মাহমুদুর রহমান বীর প্রতীক।

প্রাকতিক সম্পদ:
শেরপুর জেলা বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধশালী। দেশে যেসব খনিজ সম্পদ রয়েছে তার মধ্যে সিরামিক বা সাদামাটি অন্যতম। জেলার ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদীর পাহাড়ী অঞ্চলে পাওয়া যায় অত্যন্ত মূল্যবান খনিজ পাথর, সাদা মাটি , নুড়ি ও সিলিকা বালি।

নদ-নদী:
ভারতের তুরা পাহাড়ে বিভিন্ন ঝর্ণার সম্মিলনে কংশ নদীর উৎপত্তি। শেরপুরের হাতিবাগার এলাকা দিয়ে কংশ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

ভারতের তুরা পাহাড়ে বিভিন্ন ঝর্ণার সম্মিলনে কংশ নদীর উৎপত্তি। শেরপুরের হাতিবাগার এলাকা দিয়ে কংশ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। উৎপত্তিস্থল থেকে শেরপুরের নালিতাবাড়ী পর্যন্ত এ নদীটির নাম ভোগাই। নালিতাবাড়ীর ৫ মাইল ভাটিতে এসে দিংঘানা, চেল্লাখালী, দেওদিয়া মারিসি, মালিঝি নামে উপনদীগুলো ভোগাইয়ের সাথে মিলিত হয়েছে। ভোগাই সে স্থানে বেশ খরস্রোতা বলে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে ফুলপুরের কাছাকাছি এসে খড়িয়া নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
এছাড়াও শেরপুর জেলার মধ্যে রয়েছে মালিঝি, সোমেশ্বরী, নিতাই, মহারশি প্রভৃতি।

দর্শনীয় স্থান:
গজনী অবকাশ কেন্দ্র
শেরপুর থেকে আনুমানিক দূরত্ব ৩০ কি:মি: বাসভাড়া ৫০ টাকা, সিএনজি ভাড়া ২৫০ টাকা। এখানে আসার জন্য সড়ক পথে যাতায়ত খুব সহজ। গজনী অবকাশ পর্যন্ত রয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মসৃণ পিচঢালা পথ। রাজধানী ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ হয়ে যাতায়াতই সবচেয়ে উত্তম। উত্তরবঙ্গ থেকে টাঙ্গাইল-জামালপুর হয়েও আসতে পারেন সড়ক পথে। শেরপুর শহর থেকে গজনীর দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে সরাসরি মাইক্রোবাস অথবা প্রাইভেট কারে গজনী অবকাশ যেতে পারেন। ঢাকা থেকে নিজস্ব বাহনে মাত্র সাড়ে তিন থেকে চার ঘন্টায় ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশে আসা যায়। এ ছাড়া ঢাকার মহাখালি থেকে ড্রিমল্যান্ড বাসে শেরপুর আসা যায়। ভাড়া ২৫০টাকা। মহাখালী থেকে দুপুর ২টায় ছাড়ে এসিবাস। ভাড়া ৩৫০টাকা। এছাড়া ঢাকা বঙ্গবন্ধু জাতীয় ষ্টেডিয়াম ৪ নং গেইট থেকে সরাসরি বিকাল ৩-৪টায় শিল্প ও বণিক সমিতির গাড়ী ঝিনাইগাতীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। ভাড়া ৩০০টাকা । যারা ড্রিমল্যান্ডে আসবেন, তারা শেরপুর নেমে নিউমার্কেট থেকে মাইক্রোবাস ৫০০ টাকায় সোজা গজনী যেতে পারবেন। শেরপুর থেকে লোকাল বাস,টেম্পু, সিএনজি অথবা রিক্সায় গজনী অবকাশ কেন্দ্রে যাওয়া যায়।

মধুটিলা
ঢাকা থেকে মধুটিলা ইকোপার্কের দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহ হয়ে শেরপুরে আসতে হবে। শেরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী বাজার পর্যন্ত লোকাল বাস সার্ভিস রয়েছে। নন্নী বাজার থেকে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ভাড়ায় পাওয়া যায়। শেরপুর থেকে ভাড়ায় মাইক্রোবাস, অটোরিকশা অথবা মোটরসাইকেলে মধুটিলা ইকোপার্কে আসা যাবে। অথবা ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে সরাসরি নালিতাবাড়ী পর্যন্ত গেটলক সার্ভিস রয়েছে। জনপ্রতি ভাড়া ৩০০ টাকা। নালিতাবাড়ী থেকে অটোরিকশা, মোটরসাইকেলে ২০-২৫ মিনিটে মধুটিলায় যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে দিনে এসে দিনেই ফিরে যাওয়া যায়।

মন্দির-মসজিদ:
ঘাগড়া খান বাড়ি মসজি, মাই সাহেবা মসজিদ, লোকনাথ মন্দির ও রঘুনাথ জিওর মন্দির, বারোমারি গীর্জা ও মরিয়ম নগর গীর্জা, গোপী নাথ ও অন্ন পূর্ন্না,গড়জরিপা বার দুয়ারী মসজিদ।

প্রকাশিত পত্র-পত্রিকা:
দৈনিক তথ্যধারা, সাপ্তাহিক দশকাহনীয়, সাপ্তাহিক শেরপুর, সাপ্তাহিক চলতি খবর, শেরপুর টাইমস (অনলাইন নিউজ পোর্টাল), শেরপুর নিউজ ২৪. কম (অনলাইন নিউজ পোর্টাল), সাপ্তাহিক কালের ডাক|
শেরপুর-৩ (শ্রীর্বদী- ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য এ,কে,এম, ফজলুল হক চাঁন জানান, গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য বর্ধনে রাস্তা-ঘাট, ঘরবাড়ি নির্মাণসহ অনেক কাজ করেছি। অতীতে পাহাড়ে গাছ কাটা হলেও তা এখন প্রশাসনের মাধ্যমে বন্ধ করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা যেন গারো পাহাড়ের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয় সেজন্য আরো কাজ করে যাবো।

একই ধরনের আরও সংবাদ