অধিকার ও সত্যের পথে

সবুজ ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ

 জাহিদ হাসান:

দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। দেশ ও দেশের বাইরে বাকৃবি নামেই বেশি পরিচিত। শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে রয়েছে ১৩টি আবাসিক হল। সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে আচ্ছাদিত শহীদ নাজমুল আহসান হল তাদের অন্যতম। প্রায় সাড়ে তিন’শ আসন বিশিষ্ট হলে প্রতিবছর গ্রাজুয়েশন শেষ করা শিক্ষার্থীদের চলে যাওয়ায় একদিকে যেমন তৈরী হয় শূণ্যতা, একইসাথে নবীনদের আগমনে আবারো পূরণ হয়ে যায় সেটি। শুধু থেকে যায় স্মৃতি, রয়ে যায় পদচিহ্নগুলো।

হলের সেই প্রাক্তন আর অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মাঝে মিলবন্ধন গড়তেই এবছর আয়োজন করা হয় তিন দিনব্যাপী এক উৎসবের। ইংরেজিতে যাকে অভিহিত করা হয় ফিস্ট নামে। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের জন্য নির্ধারণ করা হয় সাদা-নীল রঙের পোশাক। এ যেন চির সবুজের ক্যাম্পাসে শুভ্রতার ভিন্নরকম উৎসব। বর্ণিল আলোকসজ্জ্বায় সাজানো হয় হলটিকে।

কেক কাটার মধ্যদিয়ে উদ্বোধন করা হয় উৎসবটির। তারপর সারারাত ধরে চলে আলপনা অঙ্কনের কাজ। রং-বেরঙের নকশায় রাঙিয়ে তোলা হয় হলটিকে। আগত নবীনদের কর্মস্পৃহা উৎসবে যেন নতুন মাত্রা যোগ করে। দূর-দুরান্ত থেকে আগত হলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও দিক নির্দেশনা দিতে থাকে বিভিন্ন ভাবে। দীর্ঘদিন পর হলে এসে যেন আবেগ ধরে রাখতে পারে না কেউ কেউ। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সময় কাটানোর রুমগুলো যেন বারবার হাত নেড়ে ডাকে তাদের। তাইতো বারবার ঘুরে দেখতে যায় সে রুমগুলো, পুরনো স্মৃতি খুজে পাবার আশায়।

উৎসবকে সাফল্যমন্ডিত করতে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন কমিটিতে ভাগ করে দেওয়া হয়। কেউ আলোকসজ্জ্বা কমিটি, কেউ খাবার সরবরাহ কমিটি, কেউ পোশাক সরবরাহ কমিটি, কেউ ক্রিড়া কমিটিতে ভাগ হয়ে যায়। আলপনা শেষেই সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। খাবার কমিটির দায়িত্বে থাকা সদস্যদের বাজার করা থেকে শুরু করে রান্নার তদারকির পুরো বিষয়টিই দেখতে হয়। আলোকসজ্জ্বা কমিটিতে হলকে বর্ণিল আলোয় সাজিয়ে তোলার দায়িত্ব গিয়ে পড়ে। সুদীপ, মাহাদী, রিজভী, নিরব, হাসান, আকাশ, পিয়াস, মুহিত, রিফাত, শাহাব, সঞ্জিত, ফারুকসহ সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় সাফল্যমন্ডিত হয়ে উঠে উৎসবটি। উৎসবের সেই পরিশ্রমগুলোকে সবসময়ই যেন আনন্দের অংশ বলেই মনে হয়।

রান্নার ফাঁকে গানবাজনা, ফুটবল খেলা, রং মাখামাখি, বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকে দলবেধে ঝাপিয়ে পড়া, উৎসবের মাত্রাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। ক্রিড়া কমিটির দায়িত্বে থাকা মোরগলড়াই, বিস্কুট দৌড়, ময়দা দৌড়, হাড়িভাঙা খেলাগুলো যেন ছোটবেলার পুরনো স্মৃতিগুলোকেই মনে করিয়ে দেয়।

একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া শেষে সবাই একই পোশাক পরিধানে বেড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাস ভ্রমণে। তারপর একসঙ্গে ব্রহ্মপুত্রের বুকে নৌকা ভ্রমণ আমেজকে আরো বাড়িয়ে দেয়। ঘুরাঘুরি শেষে চলে চোখ ধাধানো আঁতশবাজি। সারারাত ধরে চলে গল্প-আড্ডা-গান। এভাবেই কেটে যায় উৎসবের দিনগুলো। স্মৃতির পাতায় জমা পড়ে যায় নতুন আরেকটি অধ্যায়ের।

সারাদিন গলাবাজি, হৈ চৈ আর দুষ্টুমিতে জুড়ি নেই যাদের, খাবার-দাবার থেকে শুরু করে সবকিছুতে এসে ভাগ বসায় যারা, তারাই তো হলমেট। কোনো বিপদ-আপদ হলে সবার আগে ছায়ার মত পাশে পাওয়া যায় সেই তাদেরকেই। ক্যাম্পাস জীবনের অবিভাবক, সবচেয়ে আপনজন তো এরাই। তাদের নিয়েই সূচনা জীবনের নতুন এক অধ্যায়ের, পারস্পরিক সহযোগিতায় কেটে যায় কয়েকটি বছর। কিন্তু স্মৃতিগুলো রয়ে যায় আজীবন, বারবার পিছু ডাকে সে মুহূর্তগুলো। ভালোবাসায় কমতি আসে না কোনোভাবেই। দিনশেষে তাইতো বলতেই হয়- তোরাই তো ছিলি, তোরা আছিস, তোরা থাকবি।

একই ধরনের আরও সংবাদ