অধিকার ও সত্যের পথে

সবসময় সুস্থ বিনোদন কাম্য

 আরাফাত শাহীনঃ

বর্তমান সময়ে বিনোদনের বহুমুখী মাধ্যমের সৃষ্টি হয়েছে। হাত বাড়ালেই বিনোদনের জন্য যে সমস্ত উপকরণ প্রয়োজন তার সবই পাওয়া যাচ্ছে। পূর্বের তুলনায় বিনোদনের মাধ্যম যেমন সহজলভ্য হয়েছে তেমনি বিনোদনের ক্ষেত্রে এসেছে নানামুখী বৈচিত্র। আমাদের সমাজ ব্যবস্থার সাথে বিনোদন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কোনো মানুষের সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের যেমন প্রয়োজন রয়েছে তেমনি বিনোদনের অপরিহার্যতাকেও অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। সুস্থ, সুন্দর ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ের বিনোদন যেমন জাতি গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে তেমনি অসুস্থ বিনোদন জাতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে পারে।

বাবার কাছ থেকে শুনেছি, ছোটবেলায় তাঁরা বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে শুধুমাত্র রেডিও ব্যবহার করতেন। তাঁরা যেখানে যেতেন পরম যত্নে এই যন্ত্রটিকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন। কারণ তখনকার দিনে বিনোদনের মাধ্যম বলতে শুধুমাত্র রেডিওকেই বুঝাতো। আমরা আমাদের ছোটবেলায় সাদাকালো টেলিভিশন দেখেছি। তারপর ধীরে ধীরে আমাদের সামনে এলো রঙিন টেলিভিশন। এতে ছবি যেমন ছিলো ঝকঝকে তেমনি বাস্তব রঙের সাথে এর সামঞ্জস্য থাকার দারুণ আমাদের আনন্দের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিলো।

এর পরবর্তী সময়ে বিনোদন জগতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। সেই পরিবর্তনে বিনোদনের সকল উপায় উপকরণে বিরাট ওলটপালট সাধিত হয়েছে। রেডিও, টেলিভিশন এখনও আছে। তবে রেডিও এখন আর তেমন একটা ব্যবহৃত হয়না। স্যাটেলাইট টেলিভিশন এবং সেইসাথে নতুন যুক্ত হওয়া ইন্টারনেট এখন আমাদের বিনোদনের প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউটিউবের মাধ্যমের যেকোনো বিষয়ের ভিডিও সহজেই দেখা যায়। এছাড়া ফেসবুকের মত জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আজকাল বিনোদনের উপকরণ সহজেই মিলছে।

তবে বিনোদনের এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ফলে বিনোদনের সহজলভ্যতার পাশাপাশি বেশকিছু সমস্যারও সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি জিনিসেরই ভালো-মন্দ দু’টি দিক থাকে। এক্ষেত্রেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। আকাশ সংস্কৃতির ব্যাপক প্রসারের ফলে অসুস্থ বিনোদনও সহজে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে বিপদগামী হয়ে পড়ছে আমাদের আগামী প্রজন্ম। এসব বিনোদন সাইটকে ব্যবহার করে নানা ধরণের বিধ্বংসী কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। আমরা যদি বিনোদনের এসব উপকরণ ব্যবহার করে সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করতে পারি তাহলে নিঃসন্দেহে সেটা আমাদের মনের খোরাক জোগাতে সক্ষম হবে। তবে বিনোদন সবসময় সুস্থ হওয়া বাঞ্ছনীয়।

লেখক: শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

একই ধরনের আরও সংবাদ