অধিকার ও সত্যের পক্ষে

পারিবারিক সহিংসতা বন্ধ হোক

 আরাফাত শাহীনঃ

গ্রামে বাস করার দরুন সেই ছোটবেলা থেকেই যৌথ পরিবার দেখে আসছি। আমাদের দেশে বর্তমান সময়ে যৌথ পরিবার প্রথা বিলুপ্তির পথে হলেও গ্রামে এখনও যৌথ পরিবার প্রথা বিদ্যমান রয়েছে। আমি নিজেও যৌথ পরিবারের একজন সদস্য। আমার দাদা-দাদী বেঁচে থাকাকালীন আমাদের পরিবারে একসাথে বাস করতেন।

ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, আমাদের পরিবার একটি সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করে আসছে। আমাদের পরিবারে কখনও ঝগড়াঝাটি কিংবা সহিংসতার কোনো ঘটনা কখনও দেখিনি। বাবা-মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের আমরা যেভাবে চলাফেরা করতে দেখেছি বড় হয়ে আমরাও সেভাবে চলাফেরা করতে শিখেছি। আমাদের পাশের বাড়িতে অনেক সময় এমন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ফলে সেখানে কোনো স্থিতিশীলতা আসেনি। এমনকি এখনও সেসব পরিবারে পারিবারিক সহিংসতার মত ঘটনা ঘটে চলেছে।

পরিবার হল একটি শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান। একটি শিশু সর্বপ্রথম তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। তারপর সে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছ থেকে জীবন পরিচালনার শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। এখানে একটা বিষয় লক্ষণীয় যে, যেসব পরিবারে স্থিতিশীলতা বিরাজ করে সেসব পরিবারের শিশুরা নিজেদের মননশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হয়। একটা শিশুর মানসিক বিকাশে তার চারিপাশের পরিবেশ ও পরিস্থিতি ব্যাপক ভূমিকা পালন করে থাকে। আমরা যদি একটু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি তাহলে দেখতে পাবো, সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশে ঘটে যাওয়া জঙ্গী হামলাকারী সন্ত্রাসীদের পরিবারে কোনো দৃঢ় পারিবারিক  বন্ধন ও স্থিতিশীলতা ছিলনা। পারিবারিক নানা সমস্যা তাদের এসমস্ত সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের দিকে ঠেলে দিয়েছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্যও পারিবারিক সহিংসতা ভূমিকা পালন করে থাকে।

আমাদের দেশে যে সমস্ত পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ঘটে বেশিরভাগ সময় তার শিকার হয় নারী এবং শিশুরা। যৌতুকের জন্য নারী নির্যাতনের ঘটনা আমাদের সবার কমবেশি জানা আছে। মাদকাসক্ত স্বামী তার স্ত্রীকে বিনা কারণে প্রহার করে। এভাবে কতশত ঘটনা যে প্রতিনিয়ত আমাদের সমাজে ঘটে চলেছে তার হিসাব আমাদের জানা নেই। যেসমস্ত সংবাদগুলো মিডিয়ার আলোচিত হয় আমরা শুধু সেসবের খবরই জানতে পারি। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা চেপে যাওয়া হয়। আমরা এসব ঘটনা কোনোদিনও জানতে পারিনা।

আমাদের পরিবার যদি সহিংসতা ও গোলোযোগে আক্রান্ত হয় তাহলে আমাদের সমাজও এটা থেকে কিছুতেই রেহায় পাবেনা। কারণ পরিবার ও সমাজ একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একটি ছাড়া অপরটির অস্তিত্বও কল্পনা করা যায়না। আমাদের শিশুরা আগামী দিনের পৃথিবীর মূল্যবান সম্পদ। আগামীতে তারা রাষ্ট্র ও বিশ্ব পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পরিবার থেকে শিশু যদি সঠিক শিক্ষা লাভ করতে না পারে তাহলে পৃথিবীতে ভয়াবহ গোলোযোগ দেখা দেবে। সুতরাং আমাদের শিশুদের কথা চিন্তা করে হলেও পারিবারিক সহিংসতা বন্ধ করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা একান্ত অপরিহার্য।

লেখক: শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

একই ধরনের আরও সংবাদ