অধিকার ও সত্যের পক্ষে

স্বপ্ন পূরনের পথে এগিয়ে চলেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়

 শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ

পঞ্চম মেয়াদে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এ.এইচ.এম. মোস্তাফিজুর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রতিবন্ধকতাকে সম্ভাবনায় পরিণত করে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে উচ্চশিক্ষার রোল মডেলে পরিণত করতে যাত্রা শুরু করেছেন তিনি। জন্ম থেকেই বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে এ প্রতিষ্ঠান পথচলা শুরু করে। তবে সব সমস্যা পাশ কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি এক যুগে তার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলতে শুরু করেছে এমনটাই জানালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.এইচ.এম. মোস্তাফিজুর রহমান।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে শিক্ষাবার্তা ডট কম পত্রিকার ২য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংখ্যায় সাক্ষাৎকারে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে তার স্বপ্নের কথা বলেছেন তিনি। শিক্ষাবার্তা ডট কমের পক্ষে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মোঃ ওয়াহিদুল ইসলাম।

শিক্ষাবার্তা ডট কমঃ একযুগে পা রাখা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই?

উপাচার্য মহোদয়ঃ এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বয়সে নবীন, মাত্র এগারো বছরে পা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বলতে গেলে, মোটামুটি সন্তুসজনক অবস্থায় আছে তবে যতটুকু হওয়ার দরকার ছিল এতটুকু হয়নি আমার এখানে আসার পর মনে হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি নানা সমস্যায় ভুগছে। তুলনামূলকভাবে এর সমসাময়িক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এর চেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে। এ অবস্থায় প্রয়োজন একজন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন অভিভাবক, যিনি হবেন একই সঙ্গে একজন দক্ষ প্রশাসক এবং স্বপ্নদ্রষ্টা একাডেমিক। আমি জানি না, আমার মধ্যে তেমন গুণাবলী আছে কি না? তবে আমি যেদিন এখানে যোগদান করেছি আমার মায়ের দোয়া নিয়ে এই মহান দায়িত্বকে আমার মাথায় তুলে নিয়েছি আশা করি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলেই আমাকে সহায়তা করবেন আমি যেন এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটা সময়পোযোগী বিশ্বমানের আলোকিত পূর্নাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দিতে পারি।

শিক্ষাবার্তা ডট কমঃ ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ (স্নাতক) প্রথমবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আপনি কতটুকু সফল হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

উপাচার্য মহোদয়ঃ দেখুন আমি সদ্য যোগদানের কয়েকদিনের মধ্যেই প্রথম যে চ্যালেঞ্জটি আমার নিতে হয়েছিল সেটি হল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছ এবং সুষ্ঠু ভর্তি পরীক্ষার। আমাদের ভর্তি পরীক্ষায় এবারের নিয়ম ছিল যুগান্তকারী। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। অনেকে জালিয়াতি করার চেষ্টা করেছে, টাকাও নিয়েছে কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি। জালিয়াতির অভিযোগে যাদের আটক করা হয়েছিল, তারা আইনের মাধ্যমে সঠিক বিচারাধীন আছে। ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের ফাঁস রোধে চতুর ছিল এবারের প্রশাসন। এবারই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বাণিজ্য এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস কলঙ্ক ঘোচাতে সক্ষম হয়েছে। আমি মনে করি সফল ভর্তি পরীক্ষার ফসল হল এবার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষাবার্তা ডট কমঃ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন সমস্যাকে প্রধান সমস্যা বলে মনে করেন আপনি?

উপাচার্য মহোদয়ঃ আমি আগেও বলেছি এখনো বলছি সাধারণত সমস্যাকে সম্ভাবনায় পরিণত করতে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সমস্যা যেমন আছে তেমনি অনেক অনেক সম্ভাবনাও আছে। আমার কাছে যে সমস্যাটাকে প্রধান সমস্যা মনে হয়েছে সেটি হল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার প্ল্যানিং সঠিক পথে এগুচ্ছেনা।

শিক্ষাবার্তা ডট কমঃ আপনি বাংলাদেশের অন্যতম একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনাধন্য শিক্ষক। আপনার দৃষ্টিতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পিত সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং রূপরেখা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পেয়েছেন কিনা?

উপাচার্য মহোদয়ঃ আমি বলবো একটি পরিকল্পিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে ঢুকলেই আপনি বুঝতে পারবে যে তাঁর ভেতরটা কেমন হবে । প্রথমত আমার চোখে তেমন কিছু ধরা পড়েনি। আমার কাছে মনে হয়েছে কোথায় একটা অব্যবস্থাপনা ছিল তবে সকলের স্বদিচ্ছা আছে এই অবস্থার উত্তরণ হবে ইনশাআল্লাহ।  আমি স্বপ্ন দেখতে এবং দেখাতে ভালোবাসি। সমস্যাকে সমস্যা হিসেবে দেখি না, চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে পছন্দ করি।

শিক্ষাবার্তা ডট কমঃ ইতোমধ্যে নতুন বাজেটে পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি বা উন্নয়ে আপনি এই বাজেটে কী কী পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন?

উপাচার্য মহোদয়ঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ আমাদের সকলের প্রিয় আপা দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্বদিচ্ছার কারণেই আমরা মূলত এমন শক্তিশালী একটা বাজেট পেয়েছি। এই বাজেটে, মাস্টার প্ল্যান রিভাইস করে নতুন রূপে একটি পূর্নাংঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপরেখা বাস্তবায়ন করবো এবং তাঁর জন্য ট্রান্সপারেন্ট ওয়েতে আর্থিক বাজেটের মধ্যে প্রথমত, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবাসন সুনিশ্চিত করবো, নতুন পরিবহন যোগ হবে, আলাদা পরীক্ষার হল, ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জন্য ল্যাব, অডিটোরিয়াম, মসজিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের রাস্তাঘাট পীচ করা, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা, সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি, বনায়ন, শিক্ষকদের আলাদাভাবে পারিশ্রমিক দিয়ে হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট এক বছরের মধ্যে সহনীয় মাত্রায় নিয়ে আসা, বিভাগ বৃদ্ধি, নতুন প্রশাসনিক ভবন, টিএসসি নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

শিক্ষাবার্তা ডট কমঃ নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রযুক্তিগত দিক থেকে কতটুকু এগিয়েছে?

উপাচার্য মহোদয়ঃ নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় খুব অল্প সময়ে সম্পূর্ন অত্যাধুনিক এবং ডিজিটালাইজড একটি ক্যাম্পাসে পরিণত হবে। এখানে এটিএম ব্যুথ থাকবে, পোস্ট অফিস থাকবে এবং ওয়েব সাইটেই সমস্থ তথ্য তাৎক্ষণিক ভাবে পাওয়ার যাবে তাঁর জন্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে এবং সমস্ত ক্যাম্পাস সিসি টিভি নিরাপত্তার আওতায় আনা হবে।

শিক্ষাবার্তা ডট কমঃ আপনি তো শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। স্বাধীনতা মূল্যবোধ এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কী ধরনের কাজ করছে জাককানইবি?

উপাচার্য মহোদয়ঃ স্বাধীনতা মূল্যবোধ এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে আমরা বিজয় দিবস এবং স্বাধীনতা দিবসে ১০জন মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মানিত করার পদক্ষেপ ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছি। এবং মুক্তিযুদ্ধকে জানার জন্য প্রত্যেক বিভাগে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস পাঠ্যতালিকায় সংযুক্ত করা হবে, বিভিন্ন সেমিনার, পাঠচক্র আয়োজন করা হবে।

শিক্ষাবার্তা ডট কমঃ নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয় কে নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

উপাচার্য মহোদয়ঃ আমি আশাবাদী খুব অল্পসময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় চমৎকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হবে।  নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় এখন একটা বাস্তবতা, স্বপ্ন নয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার তীর্থস্থানে পরিণত হবে। এর পাশাপাশি গবেষণা ও মুক্ত সাংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্রে পরিণত করতে চাই এ প্রতিষ্ঠানকে। এশিয়ান পার্সপেক্টিভে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম স্থানে উন্নীত হবে ইনশাআল্লাহ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতির লক্ষ্যে কাজ করে যেতে চাই। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষের শিক্ষা, সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে শুরু করেছে। আমি স্বপ্ন  দেখতে পছন্দ করি আমি আগেই বলেছি সকলের সহযোগীতা পেলে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় খুব অল্প সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি নাম্বার ওয়ান বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপ দিতে পারবো।

শিক্ষাবার্তা ডট কমঃ স্যার আপনাকে ধন্যবাদ।

উপাচার্য মহোদয়ঃ শিক্ষাবার্তা ডট কম পত্রিকাকেও  ধন্যবাদ।

একই ধরনের আরও সংবাদ