অধিকার ও সত্যের পক্ষে

নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে

 এ এইচ এম সায়েদুজ্জামানঃ

সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের বিস্ময়কর সাফল্যের পেছনে নারীর অগ্রগতি বড় ভূমিকা রাখলেও নারীর অবস্থা তেমন বদলায়নি। ঘরেবাইরে নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে। এক হিসাবে দেখা গেছে, দেশের ৬৫ শতাংশ বিবাহিত নারী নিজগৃহেই শারীরিক নির্যাতন ভোগ করেছেন, ৩৫ শতাংশ অন্য কারো দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশের একটি বেসরকারি সংস্থার পরিচালিত গবেষণায় বলা হয়েছে, গত তিন বছরে ১৫ বছরের কম বয়সী কিশোরীরা বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসময়ে আক্রান্ত কিশোরীদের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ৪৩ শতাংশের ওপর ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে। ২৭ শতাংশ নারী স্বামী, শ্বশুরবাড়ির লোকদের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন। যারা উচ্চবিত্ত, সমাজের ওপরতলার মানুষ, এই জাতীয় বিপদ তাদের ছুঁতে পারে কম। এদেশে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে নিম্নবিত্ত আর মধ্যবিত্তরাই বেশি। অন্যায় করে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলেই দেশে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ বেড়ে গেছে।

নারীর প্রতি অবিচার, নির্যাতন, যৌন-ব্যভিচার সর্বযুগে, সর্বধর্মমতে নিন্দনীয় নিকৃষ্ট পাপাচার। ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যার চূড়ান্ত শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু আমাদের দেশে এ যাবত্ যতগুলো ধর্ষণ ও ধর্ষণজনিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তার যথাযথ বিচার সম্পন্ন হয়েছে এরূপ নজির কমই আছে। আলোচিত নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলো চাপা পড়ে যায় এক সময়। হয় চূড়ান্ত রিপোর্টে ঘাপলা নয়তো সাক্ষ্যপ্রমাণে প্রভাবিত করে অপরাধী পার পেয়ে যাচ্ছে ঠিকই। উপরন্তু এর বিচার চাইতে গিয়ে বিচারপ্রার্থীরা নির্বিচারে পাল্টা হত্যার হুমকি— কখনো কখনো হত্যার শিকার ও হয়রানির শিকার হন। এ অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হলে প্রয়োজন জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা। আর এটা করতে হলে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ যার যার অবস্থানে থেকে স্কুল-কলেজ-মাদরাসা-মক্তব-মসজিদ-মন্দির-গির্জা-প্যাগোডার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সোচ্চার হতে হবে। সর্বপরি নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে।

লেখকঃ এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান

প্রধান সম্পাদক,শিক্ষাবার্তা ডট কম ।

একই ধরনের আরও সংবাদ