অধিকার ও সত্যের পথে

পরীক্ষায় কৃষি শিক্ষা বিষয়ে ভালো করতে হলে করণীয়

 মোহাম্মদ শাহজামান শুভঃ

সুপ্রিয় এস.এস.সি. পরীক্ষার্থীবৃন্দ, শুভেচ্ছা নিও। আশাকরি তোমরা তোমাদের প্রস্তুতির শুরুর পর্যায়ে রয়েছ। সামনে যে কয়েকটি দিন পাওয়া যায় তা সঠিকভাবে কাজে লাগাবে। বর্তমান রুটিন অনুযায়ী প্রিটেষ্ট পরীক্ষার আগেই দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচী এবং ব্যবহারিক পাঠ্যসূচী সম্পূর্ণ করলে তোমাদের কৃষি শিক্ষা পরীক্ষা ভাল হওয়ার কথা। কৃষি শিক্ষা যদিও চতুর্থ বিষয় তথাপি এটি মূল বিষয় থেকে কোনোভাবেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ বর্তমানে প্রচলিত গ্রেডিং পদ্ধতিতে কোনো বিষয়ই গুরুত্বহীন নয়। বরং ৪র্থ বিষয়ে ভালো করতে পারলে সামগ্রিক ফলাফল ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এসএসসি পরীক্ষার মতো গত বছর থেকে জেএসসি পরীক্ষায়ও ৪র্থ বিষয়ের এ বাড়তি সুবিধাটা পাওয়া যাচ্ছে অর্থাৎ মোট ৫ পয়েন্ট থেকে ২ পয়েন্ট বাদ দিয়ে অতিরিক্ত ৩ পয়েন্ট সর্বমোট পয়েন্টের সঙ্গে যোগ হবে এবং সর্বমোট পয়েন্টকে মোট বিষয় দিয়ে ভাগ করার ক্ষেত্রে কৃষি শিক্ষা অর্থাৎ ৪র্থ বিষয়, বিষয় হিসেবে গণ্য হবে না। আবার এ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও ফলাফলে কোনো প্রভাব না পড়লেও এ বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করলে ফেল হিসেবে গণ্য হবে।

কৃষি শিক্ষা নবম-দশম শ্রেণির জন্য ব্যবহারিক বিষয়সহ মোট পূর্ণমান ১০০-এর মধ্যে সৃজনশীলে ৫০ এবং নৈর্ব্যক্তিকে ২৫ নম্বর। সৃজনশীল অংশে মোট ৮টি প্রশ্ন থাকবে এবং যে কোনো ৫টি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১০। প্রতিটি প্রশ্নের মধ্যে অন্যসব সৃজনশীল বিষয়ের মতো চারটি ভাগ থাকবে। ক. জ্ঞানমূলক মান-১, খ. অনুধাবনমূলক মান-২, গ. প্রয়োগমূলক মান-৩ এবং ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক মান-৪। বহুনির্বাচনী অংশে ২৫টি প্রশ্ন থাকবে, প্রতিটি প্রশ্নেরই উত্তর করতে হবে এবং প্রত্যেক প্রশ্নের মান হবে ১। সময় মোট ৩ ঘণ্টা, সৃজনশীল অংশের জন্য ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট এবং বহুনির্বাচনী অংশের জন্য ২৫ মিনিট। কৃষি শিক্ষার বিষয় কোড-১৩৪।

এ বিষয়টিতে মোট অধ্যায় রয়েছে সাতটি। ১ম অধ্যায়- কৃষি প্রযুক্তি, ২য় অধ্যায়-কৃষি উপকরণ, ৩য় অধ্যায়-কৃষি উপকরণ, ৪র্থ অধ্যায়-কৃষি ও জলবায়ু, ৫ম অধ্যায়-কৃষিজ উৎপাদন, ৬ষ্ঠ অধ্যায়-বনায়ন, ৬ষ্ট অধ্যা-কৃষি সমবায়, ৭ম অধ্যায়-পারিবারিক খামার। যেহেতু ৮টি সৃজনশীল প্রশ্ন থাকবে ফলে প্রতিটি অধ্যায় থেকেই প্রশ্ন পাওয়া যাবে তবে ১ম ও ২য়, ৪র্থ ও ৬ষ্ঠ অধ্যায় থেকে একাধিক প্রশ্ন পাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। আর নৈর্ব্যক্তিক উত্তরের জন্য তো সব অধ্যায় অবশ্যই ভালোভাবে পড়তে হবে। উদ্দীপকগুলো মনোযোগ সহকারে পড়ে, ভালোভাবে বুঝে সঠিকভাবে খাতায় উপস্থাপন করতে পারলে অবশ্যই পরীক্ষায় ভালো করা সম্ভব।
এক্ষেত্রে খাতায় যতটা সম্ভব ঘষামাজা, কাটাছেঁড়া কম করবে এবং হাতের লেখাগুলো সুন্দর ও স্পষ্ট করার চেষ্টা করবে। প্রশ্ন হাতে পেয়ে তা প্রথমে ভালোভাবে পড়ে নিবে, প্রশ্ন নংগুলো সঠিকভাবে খাতায় লিখবে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১০ মিনিট আগে পুরো খাতা ভালোভাবে দেখে নিবে। আল্লাহ তোমাদের সহায় হোক।
ব্যবহারিক কাজ তথা বিভিন্ন পরীক্ষা ও অনুসন্ধানসমূহকে পাঠ্যপুস্তকে তত্ত্বীয় বিষয়বস্তুর সঙ্গে সংগতি রেখে প্রতিটি অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য নিম্নলিখিত বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে;
(১) প্রতিটি অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত ব্যবহারিক কাজটি সে সংশ্লিষ্ট তত্ত্বীয় বিষয়বস্তু পাঠদানের সঙ্গেই সম্পন্ন করতে হবে।
(২) ব্যবহারিক কাজ সমাপ্ত করে খাতা/শিটে প্রতিবেদন তৈরি করে পরবর্তী সপ্তাহে শিক্ষকের কাছে অবশ্যই জমা দিতে হবে এবং তা শিক্ষার্থীদের নিজের কাছে সংরক্ষণ করতে হবে।
(৩) এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষার সময় এই খাতা/শিটসমূহ অবশ্যই উপস্থাপন করতে হবে।
(৪) ব্যবহারিক খাতা/শিটের জন্য নম্বর বরাদ্দ নেই।
(৫) এসএসসি পরীক্ষায় নিম্নে প্রদত্ত বিষয়ভিত্তিক ব্যবহারিক পরীক্ষাসমূহ মূল্যায়ন করতে হবে।
(৬) এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীকে বিষয়ভিত্তিক ১টি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
(৭) লটারির সাহায্যে নির্বাচিত পরীক্ষাটি শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার দিন প্রদর্শন করতে হবে।
(৮) শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য পরীক্ষা/অনুসন্ধানসমূহ শ্রেণিতে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।

মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
সহকারি শিক্ষক (কৃষি)
বাতাকান্দি সরকার সাহেব আলি আবুল হোসেন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়
তিতাস, কুমিল্লা

একই ধরনের আরও সংবাদ