অধিকার ও সত্যের পক্ষে

কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

 নিউজ ডেস্কঃ

পটুয়াখালীর সদর উপজেলার মৌকরন বিএলপি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এইচ এম গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বেআইনীভাবে কলেজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কলেজের ৪৭ জন শিক্ষক বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ততের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রভাব ও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একাধিক তৃতীয় বিভাগধারী এইচ এম গোলাম মোস্তফা ২০১৫ সালের ২০ জুন কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান। ১ আগষ্ট কলেজে যোগদানের পর থেকেই তিনি কলেজের অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন বেআইনী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন। যোগদানের পর এ পর্যন্ত দুই বছর পাঁচ মাসে তিনি (অধ্যক্ষ) কলেজের বিভিন্ন আয়ের খাত যেমন, এইচএসসি ও ডিগ্রির বিভিন্ন শেসনে ভর্তির টাকা, শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকা, পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা, পরীক্ষার প্রবেশ পত্র বিতরণের টাকা, প্রশংসা পত্রের টাকা, মূল সনদ পত্র বিতরণের টাকা, উন্নয়ন তহবিলের টাকা, সর্বপরি সরকার কর্তৃক শিক্ষকদের প্রাপ্য টিউশন ফি বাবদ প্রাপ্ত টাকাসহ মোট ৩৬ লাখ টাকা আয় হয়। নিয়ম অনুযায়ী এই সমস্ত টাকা সোনালী ব্যাক মৌকরন বাজার শাখায় কলেজের সাধারন তহবিল নং ১৮৪ নম্বর হিসেবে জমা হওয়ার কথা। কিন্তু টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা বিভিন্ন ভাউচার দেখিয়ে ও নগদ হাতে হাতে কলেজের হিসাব রক্ষকের নিকট থেকে ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।

অভিযোগে আরো বলা হয়, অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা বিভিন্ন সময়ে জেলা শিক্ষা অফিস, বরিশাল শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের বিভিন্ন ভূঁয়া ভাউচার দেখিয়ে হাজার হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। নিয়ম রয়েছে পাঁচ হাজার টাকার উপরে খরচ করতে হলে কলেজের ক্রয় কমিটির সুপারিশ দরকার এবং পরবর্তীতে পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থাপন ও অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভায় আয়-ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপন বা অনুমোদন করা হয়নি। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিজ মুঠোফোনের খরচ বাবদ প্রতি মাসে দুই হ্জার টাকা করে খরচ দেখানো হয়েছে।

কলেজের শিক্ষকরা লিখিত অভিযোগে জানান, তাদের দীর্ঘ দিনের চাকরি জীবনে কলেজের আয় থেকে প্রাপ্য একটি টাকাও তারা পাননি। কলেজের সমস্ত আয়ই অধ্যক্ষ হাতিয়ে নিয়েছেন। এজন্য তারা সরকারি অর্থ আত্মসাৎকারী অধ্যক্ষ এইচ এম গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তের মাধ্যমে  বিচার দাবি করেছেন।

কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. জসিম উদ্দিন বাংলা.রিপোর্টকে বলেন, তাদের কলেজে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ ৪৮ জন শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪৭ জন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ করেছেন। আমরা চাই বিষয়টি একটি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করা হউক।

এ ব্যাপারে শুক্রবার সকালে মুঠোফোনে কলেজের অধ্যক্ষ এইচ এম গোলাম মোস্তফার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উল্লেখ করে বলেন, আসলে এই কলেজের অধ্যক্ষের পদে ১০ জন প্রার্থী ছিলেন। আমি নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই অন্যরা আমাকে সরানোর জন্য নানা ফন্দি শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় তারা আমার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ দায়ের করেছে। ৪৭ জন শিক্ষকের দেওয়া অভিযোগ  প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, আসলে কলেজের উপাধ্যক্ষ শিক্ষকদের নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার কথা বলে শিক্ষকদের কাছ থেকে এই স্বাক্ষর নিয়েছেন বলে মনে করেন তিনি।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) মো. নুরুল হাফিজ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসবে।সুত্র বাংলা

একই ধরনের আরও সংবাদ