অধিকার ও সত্যের পক্ষে

শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে ইউনিক স্মার্টকার্ড

 নিউজ ডেস্কঃ

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে ইউনিক স্মার্টকার্ড। এর মাধ্যমে তৈরি হবে শিক্ষার্থীদের ই-ডেটাবেজ। ভবিষ্যতে এই ডেটাবেজের তথ্যানুযায়ী ভর্তি, উপবৃত্তি, ট্র্যাকিং করা যাবে। সংরক্ষণ হবে ব্যক্তিগত প্রোফাইল।

জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথক প্রকল্প নিয়েছে এই ইউনিক স্মার্টকার্ডের জন্য। প্রাথমিক পর্যায়ে অধ্যয়নরত প্রায় সোয়া ২ কোটি শিক্ষার্থীর একক আইডি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ১৭৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর বাস্তবায়ন করবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এই প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ইউনিক স্মার্ট আইডি কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডে শিক্ষার্থীর ছবি, পারিবারিক তথ্য, ঠিকানাসহ আনুষঙ্গিক অনেক তথ্য সংযোজন করা হবে। এই কার্ড দিয়ে পরবর্তী ক্লাসে অর্থাৎ ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে। এই ইউনিক পরিচিতি নম্বর দিয়ে সরকার প্রাথমিক শিক্ষা সম্পর্কিত অন্যান্য সেবা, যেমন বই সরবরাহ, ভর্তি, উপবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
এ ধরনের আরেকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২৯ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের একই ধরনের কার্ড দেওয়া হবে।

এই কার্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ট্র্যাকিং করা যাবে বলে জানা গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেস) এ প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে সমন্বিত শিক্ষা তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির আওতায় কেন্দ্রীয় ই-ডেটাবেজ তৈরি করা। ব্যানবেস হবে সব সংস্থার ও বোর্ডের তথ্য আদান-প্রদানের একক উৎস। এ দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সরকারের খরচ হবে ৫০৮ কোটি টাকা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস (সিআরভিএস) একটি একক আইডি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সব নাগরিকের জীবনপ্রবাহের উল্লেখযোগ্য ঘটনা তথ্য-উপাত্ত আকারে সংরক্ষণ এবং এর ভিত্তিতে সরকারের সব সেবা নিশ্চিত করার একটি উদ্যোগ।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির ২ কোটি ১৭ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য প্রোফাইল প্রস্তুত করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ইউনিক আইডি নম্বর দেওয়া হবে। এই একক পরিচিতি নম্বরের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষাসম্পর্কিত অন্যান্য সেবা যেমন (বই সরবরাহ, ভর্তি, উপবৃত্তি ইত্যাদি দেওয়া)। কোনো শিক্ষার্থী যেখানে ঝরে যাবে, তার তথ্য সেখানে থাকবে।

এ ছাড়াও দেশে নাগরিকদের বিভিন্ন ধরনের ডেটাবেজ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে ১০ কোটি নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্র, স্থানীয় সরকার ১২ কোটি নাগরিকের আরেকটি ডেটাবেজ, স্থাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ১০ কোটি নাগরিকের জন্য সময়ভিত্তিক স্থাস্থ্যশুমারি করেছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোতে ১৬ কোটি নাগরিকের জন্য একটি দারিদ্র্যভিত্তিক ডেটাবেজ তৈরির কাজ চলছে। এসব ডেটাবেজ পারস্পরিক সমন্বয়যোগ্য বা ক্রিয়াশীল না হওয়ার বিদ্যমান ডেটাবেজ থেকে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের কোনো ডেটা তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হচ্ছে না। এ ধরনের উপলব্ধি থেকেই সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একক সিআরভিসি তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয় শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়ের।

তবে শিক্ষার্থীদের স্মার্টকার্ডের প্রকল্প ব্যয় প্রস্তাবে কিছু বিষয়ে আপত্তি দিয়ে ফের প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। সেই অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ে সংশোধনী ডিপিপি তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর পরই প্রকল্প দুটি একনেকের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।সুত্র আমাদের সময়

একই ধরনের আরও সংবাদ