অধিকার ও সত্যের পথে

কারিগরি বোর্ডের পদোন্নতি নিয়ে তোলপাড়

 নিউজ ডেস্কঃ

বিতর্কিত পদোন্নতি নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড ঘটে গেছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে।  বোর্ডের সচিব নায়েব আলী মণ্ডলের শেষ কর্মদিবসে ৪২ জনের পদোন্নতিতে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তা আটকে দেয় পদোন্নতি কমিটি। দুর্নীতির   অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন এমন কর্মকর্তাদের, পদোন্নতির তালিকায় রাখা হয়। গত কয়েক দিন ধরে এটি নিয়ে কারিগরি বোর্ডের তোলপাড় চলছিল। তবে গতকাল বিকাল ৩টায় রুদ্ধদ্বার পদোন্নতি বৈঠক সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়। বৈঠকে ২৬ জনের ব্যাপারে কোনো আপত্তি না থাকায় তাদের পদোন্নতি দেয়ার বিষয়টি সিদ্ধান্ত হয়। বাকিদের এসিআরসহ আরো অন্যান্য বিষয় দেখে পরবর্তী বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। তবে বৈঠকে বোর্ড চেয়ারম্যান ও সচিব তাদের পদোন্নতি দেয়ার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।
সূত্র মতে, দুই মাস আগে বোর্ডের সচিবকে বদলি করা হলেও নানা অজুহাত দেখিয়ে বোর্ডে থেকে যান। এরমধ্যে শেষ কর্মদিবসে পদোন্নতির ফাইলটি পাস করতে বোর্ড সভায় উত্থাপন করেন। তবে বৈঠকে অন্যদের ভেটোর মধ্যে তা স্থগিত হয়। এ ব্যাপারে বোর্ডের উপ-সচিব নূরে এলাহী মানবজমিনকে বলেন, পদোন্নতির কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়েছে। পরবর্তী বৈঠকে এটি চূড়ান্ত হবে।
কর্মকর্তারা জানান, কারিগরি শিক্ষাকে শিক্ষাখাতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার নানা কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে। কিন্তু সব উদ্যোগই ভেস্তে যেতে বসেছে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিবের অনিয়ম-দুর্নীতি, লুটপাট ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে। গতকাল রোববার সচিবের শেষ কর্মদিবসে অন্তত ৪০ জন দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাকে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি দিতে বোর্ড সভা ডাকা হয়। বোর্ড চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যোগদানের ছয় বছর আগের বিল ও সম্মানীর ভুয়া ভাউচার নেয়া, জালিয়াতি করে শিক্ষার্থী পাস করানোর প্রমাণ পেয়েছে মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি। তবে রহস্যজনক কারণে সতর্ক করা ছাড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এতে করে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন তিনি। গতকাল সকালে বোর্ডের চেয়ারম্যানের রুমে গিয়ে দেখা যায়, দুদকের তদন্তের জালে আটকে পড়া দুইজন পদোন্নতি পেতে তদবির করছেন। তারা বোর্ড সচিবের রেফারেন্স দিয়ে বলেন, সচিব স্যারের শেষ কর্মদিবস আজ। আমাদের পদোন্নতি না হলে জীবনে এ সুযোগ আর আসবে না। তাই বিষয়টি সদয় দৃষ্টিতে দেখার জন্য চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করেন।
এ ব্যাপারে বোর্ড চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পদোন্নতি কমিটিতে মন্ত্রণালয় ও মাউশি’র মহাপরিচালকসহ আরো অনেকেই থাকেন। সবার সম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত হবে। আমি ও সচিব চাইলেই পদোন্নতি দিতে পারবো না। দুর্র্নীতিবাজদের পদোন্নতি তালিকায় রাখার ব্যাপারে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী তারা তালিকায় থাকবে। কিন্তু চূড়ান্ত হবে পূর্ণাঙ্গ কমিটির বৈঠকে। সেখানে তারা বাদও পড়তে পারেন। সচিবের শেষ কর্মদিবসে কেন এ মিটিং এমন প্রশ্নে চেয়ারম্যান বলেন, নতুন সচিব আসলে এটা বুঝতে কয়েক মাস  লেগে যাবে। সচিব এই পদোন্নতির প্রস্তাব উপস্থাপন করে তাই তিনি উপস্থাপন করবেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরেও হতে পারে। পুরো অভিযোগের ব্যাপারে বোর্ড সচিবের রুমে গিয়ে পাওয়া যায়নি। পরে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি।
বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, বোর্ডের বর্তমান সচিব নায়েব আলী মণ্ডলকে দুই মাস আগে বদলি করা হয়। নানা অজুহাত দেখিয়ে তিনি গতকাল পর্যন্ত বোর্ডে কর্মরত থাকে। দুই মাসে বোর্ডের বড় একটি পদোন্নতির ব্যবস্থা করেন তিনি। প্রায় ৪০ জনকে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণির পদে পদোন্নতির এই আয়োজনে নয়ছয় করেছেন এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে বোর্ডের শীর্ষ দুইজন জড়িত বলে চাউর হয়েছে। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, পদোন্নতি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। এখানে আর্থিক লেনদেন কেন হবে। তাছাড়া সবাই বোর্ডের অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা।সুত্র মানব জমিন

একই ধরনের আরও সংবাদ