অধিকার ও সত্যের পক্ষে

শীতের ছুটি শেষে প্রাণবন্ত আড্ডা

 আরাফাত শাহীনঃ

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আড্ডা, গল্প আর গান ছাড়া জীবনটা আসলে পরিপূর্ণ হয়না।ক্যাম্পাস জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা সুখ আর দুঃখের অনুভূতিগুলো কাছের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে না পারলে জীবনে আর স্বার্থকতা কোথায়!এই তো জীবন; এখানেই তো জীবনের সত্যিকারের পূর্ণতা।ক্যাম্পাসের আড্ডাস্থলগুলো এতদিন এক নিদারুণ শূণ্যতায় হাহাকার করেছে আসলে।কারণ শীতের ছুটিতে ক্যাম্পাসে তেমন প্রাণের স্পন্দন টের পাওয়া যায়নি।যাবে কী করে! ক্যাম্পাসের যারা প্রাণ সেই শিক্ষার্থীরা শীতের ছুটিতে সকলে বাড়িতে চলে গিয়েছিলো।সেখানেও তৈরি হয়েছে নতুন গল্প যা নিয়ে আড্ডা হয়েছে পরবর্তীতে।গল্প হয়েছে প্রত্যেকের অর্জিত অভিজ্ঞতা আর পাওয়া না পাওয়া নিয়ে।

শীতের ছুটি বেশ কিছুদিন আগে শেষ হলেও আড্ডাগুলো যেন ঠিক পূর্বের মত জমছিলো না।কোথায় যেন রয়ে গিয়েছিলো একটু শূণ্যতা।ঠিক তো!কোথায় সেই শূণ্যতা? ক্যাম্পাসে একটা অঘোষিত নিয়ম চালু আছে।কবে কখন কোথায় এ নিয়মটি চালু হয়েছিলো তা অবশ্য কারো জানা নেই। যেকোনো ছুটি শুরু হবার এক সপ্তাহ আগে থেকেই ক্যাম্পাস ফাঁকা হতে শুরু করে।আবার ছুটি শেষ হবার এক সপ্তাহ পরেও হয়ত অনেকের দেখা পাওয়া কঠিন।বাবা-মায়ের স্নেহের বন্ধন ছেড়ে এসে বহুদিন পর আবার তাদের বাহুডোরে ফিরে যাবার পর কারই বা ভালো লাগে এত তাড়াহুড়ো করে ফিরে আসতে! তাইতো একটু ঢিলেমি করা, একটু কম ব্যস্ততা দেখানো।

আড্ডাটা তাই আগের মত জমছিলো না।এদিকে আবার বন্ধুদের ছেড়ে বেশিদিন বাড়িতে থাকতেও মন টানেনা।কী অদ্ভূত দোটানা! সবাই যখন আবার পূর্বের মত এক জায়গায় জড় হয় তখন আবার জমে ওঠে আড্ডা,গল্প আর গান।নতুন করে শুরু হয় খুঁনসুটি।কেউ হয়ত কারো বার্গারে গিয়ে ভাগ বসায়; কেউ হয়ত পুরোটাই কেড়ে নেয় হাত থেকে।কিছুক্ষণ হাতাহাতির পর ভূক্তভোগী হয়ত হাল ছেড়ে দেয়।সেও জানে,এরই নাম বন্ধুত্ব।এভাবেই তৈরি হয় নতুন কোনো গল্প।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণত আড্ডাস্থল হিসেবে পরিচিত টুকিটাকি চত্বর, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি চত্বর, শহীদ মিনার চত্বর,শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বর কিংবা প্যারিস রোডের পাশে শুরু হয়ে যায় নিয়মিত আড্ডা। হাসিহাসি মুখ করে বসে থাকা বোকা বন্ধুটিও আর চুপ করে বসে থাকতে পারেনা।সেও যোগ দেয় প্রাণবন্ত আড্ডায়।শুধু কী আড্ডা আর গানই! না।এর সাথে সমানতালে চলে চা এবং সেইসাথে বাদাম ভাজা।একে একে বাদাম মুখে পুরতে থাকে আর চলতে থাকে গল্প। বাদাম শেষ হয়ে যেতে চায় কিন্তু গল্প ফুরোতে চায়না সহজে।

শীতের ছুটি শেষে আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে মতিহারের সবুজ চত্বর। চারিপাশে প্রাণের স্পন্দন স্পন্দিত করে প্রতিটি মানুষের হৃদয়।কোনো আড্ডার পাশ দিয়ে হেঁটে যাবার সময় সম্মিলিত হাসি কিংবা গানের কলতান যদি আপনাকে মুগ্ধ না করতে পারে তাহলে আর কিসে আপনাকে মুগ্ধ করতে পারবে! কখনো ছোট,কখনও বড় দলে ভাগ হয়ে সারা ক্যাম্পাসে যে আড্ডাগুলো চলে তা তুলনাহীন। কখনও ফাঁকা মাঠের রোদের মাঝে,কখনও চায়ের দোকানে কথার যে হিল্লোল ওঠে তার কোনো তুলনা হয় কি!

ক্যাম্পাস জীবনে প্রতিটি দিনে একজনের জন্য তৈরি হয় নতুন নতুন গল্প। বুকের ভেতর জমে থাকা সে গল্পগুলো বন্ধুদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে কেউ যেমন আনন্দ পায় তেমনি গল্পগুলো শুনেও অনেকে সীমাহীন আনন্দে উদ্বেলিত হয়।এভাবে পালাক্রমে চলে প্রত্যেকের গল্প। ক্লাসের ফাঁকে গল্প করতে করতে কখন যে পরবর্তী ক্লাসের সময় চলে আসে তা কখনও টেরও পাওয়া যায়না!গল্প আর আড্ডার উন্মত্বতায় অনেক সময় হয়ত ক্লাসে ঢুকতে দেরি হয়ে যায়।তারপর ক্লাসে খেতে হয় স্যারের বকুনি।তাতে কী এসে যায়! হয়ত স্যারের এ বকুনি দেওয়া নিয়েও তৈরি হয়ে যায় নতুন কোনো গল্প। এভাবে আড্ডা চলতে থাকে দিনের পর দিন।

একই ধরনের আরও সংবাদ