অধিকার ও সত্যের পক্ষে

শিশুদের জন্য লিখতে অন্যরকম তৃপ্তি বোধ করি: দীপু মাহমুদ

 অনলাইন ডেস্ক:
সময়ের জনপ্রিয় লেখক দীপু মাহমুদ। সায়েন্স ফিকশন, কিশোর গল্প-উপন্যাসের পাশাপাশি নানান ধরনের লেখায় সিদ্ধহস্ত এই লেখক ক্রমাগত সমৃদ্ধ করে চলেছেন বাংলা সাহিত্য ভাণ্ডার। ছোটদের সাথে সাথে মন ভরাচ্ছেন বড়দেরও। এবার বইমেলায় আসছে তার বেশ কয়েকটি বই। এসব বই ও বইমেলা ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইনের সাথে।
প্রশ্ন: এবার মেলায় আপনার কয়টি বই আসছে?
দীপু মাহমুদ: সবচেয়ে সাধারণ প্রশ্ন এটা। তবু আমার জন্য জটিল। সহজ করে বুঝিয়ে বলি। এবার বইমেলায় আমার লেখা একদম আনকোরা নতুন বই আসছে চারটি। যা আগে কেউ কখনো পড়েনি। এ ছাড়া আছে গল্প সংকলন। গল্পগুলো বিভিন্ন সময়ে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। আছে ওরকম বেশকিছু শিশুতোষ বই। আবার মেলার মুখে মানে এই অক্টোবর-ডিসেম্বরেও প্রকাশিত হয়েছে আমার লেখা বই। সেও তো এবার মেলারই বই। আবার আগে প্রকাশিত হয়েছে এমন বই নতুন করে অন্য কোনো প্রকাশনী প্রকাশ করছে। কোনো বইয়ের ইংরেজি অনুবাদও আসছে। সবমিলিয়ে কুড়িখানা বই আসার কথা। সবগুলো বই প্রকাশিত হওয়ার পর বলতে পারব এবার মেলায় আমার লেখা কয়টি বই এসেছে।
প্রশ্ন: কি কি ধরনের বই বেশি আসছে এবার?
দীপু মাহমুদ: সবগুলো না। কয়েকটা বইয়ের কথা বলি। উপন্যাস- ভূমিরেখা ও বরপুত্র। কিশোর উপন্যাস- সমুদ্রে ভয়ংকর। সায়েন্স ফিকশন- ভবঘুরে মহাকাশচারী আর ভূ। গল্প সংকলন- গহিনে যাই। কিশোর গল্প সংকলন- নির্বাচিত কিশোর গল্প, মুক্তিযুদ্ধের কিশোর গল্প, নীলার রোবট বন্ধু। শিশুতোষ বই- সাদা পাথর, ইশকুলে পল্টু রাজা, তুতুনের কালো ঘোড়া ইত্যাদি।
প্রশ্ন: কোন প্রকাশনী থেকে বইগুলো প্রকাশিত হচ্ছে?
দীপু মাহমুদ: এখানেও কয়েকটা বইয়ের কথা বলি। ভূমিরেখা ও সাদা পাথর- পার্ল, বরপুত্র- সময়, সমুদ্রে ভয়ংকর- ডাংগুলি, ভবঘুরে মহাকাশচারী- অনিন্দ্য, ভূ- বাংলাপ্রকাশ, গহিনে যাই, গ্রন্থকুটির, নির্বাচিত কিশোর গল্প- ঘাসফড়িং, মুক্তিযুদ্ধের কিশোর গল্প- বাঙালি, নীলার রোবট বন্ধু- জয়তী, ইশকুলে পল্টু রাজা- বাবুই, তুতুনের কালো ঘোড়া- সাত ভাই চম্পা। এ ছাড়া পঙ্খিরাজ প্রকাশ করছে তিনটি আলাদা চিরায়ত গল্পের বই- ঈশপের গল্প, তলস্তয়ের গল্প আর ভিঞ্চির গল্প।
আপনার বড় পাঠকশ্রেণি শিশুরা। তাদের উদ্দেশে কিছু বলুন…
দীপু মাহমুদ: এটা সত্য শিশুদের জন্য লিখে আমি আনন্দ পাই। শিশুদের জন্য লিখতে অন্যরকম তৃপ্তি বোধ করি। তাদের জন্য তাই লেখা হয় বেশি। আমার শিশু পাঠকরা বেশ ভালো সমালোচক। তারা যেমন উচ্ছ্বসিত হয়ে তাদের ভালোলাগার কথা বলে, তেমনি কোনোকিছু পছন্দ না হলে কড়াভাবে জানিয়ে দেয়। আমি আমার শিশু পাঠকদের বলব পাঠ্যপুস্তকের বাইরে আরও অনেক বই পড়তে। আনন্দ নিয়ে পড়তে। ভিডিও গেমস, কার্টুনে একটু সময় কমিয়ে দিয়ে পড়ার পাশাপাশি লিখতে। যা লিখতে ইচ্ছে হয়। যাকে ইচ্ছে সেই লেখা পড়ানো যেতে পারে। ইচ্ছে হলে আমাকেও পাঠিয়ে দিতে পারে। ইমেইল অ্যাড্রেস দিচ্ছি। [email protected] তারপর আমরা সেই লেখা নিয়ে নিজেরা কথা বলব। পড়তে বলছি এইজন্য যে, পড়লে নিজের ওপর বিশ্বাস অনেক বেড়ে যায়।
ভালো-মন্দ বোঝা যায়। সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হয়। জীবনে খুব কম সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। সেটা আয়ত্ব করার জন্য অনেক বেশি-বেশি পড়া দরকার।
একই ধরনের আরও সংবাদ