অধিকার ও সত্যের পক্ষে

প্রাইভেট নিয়ে প্রাইভেট কথা

 বদলুল আলম জাদুঃ

‘কবি’ এর সাথে ‘রাজী’ কথাটি যোগ করলে হয় কবিরাজী অর্থাত কবি মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়, বই এর সাথে রাগী কথাটি যোগ করলে বই এর মর্যাদা থাকে না হযে যায় বৈরাগী , পড়াশুনার বই হয় না। ছোটবেলায় সেই বৈরাগী মন দোতারাডাঙ্গা পালা গান শুনতে পাগল হয়ে পডেছিল ।

স্কুল কামাই দিযে যেতাম পালাগান (কবি যুদ্ধ) শুনতে । মা’ বড় না বাবা বড় ? যখন মা পক্ষের গায়ক যুক্ত দিযে গাইত তখন মনে হতো মা’ ই বড় যখন বাবার যুক্তি শুনতাম তখন বাবাকেই সেরা মনে হতো । শুনতে শুনতে মাথাটা বিগরে যেত।

তবে বর্তমান যুগের শিল্পীরা পুথির গান রচনা করলে হয় তো বিষয় হতো প্রাইভেট ট্রেন ভাল না পাবলিক ট্রেন? প্রাইভেট বিশ্ব বিদ্যালয় ভাল না পাবলিক ? ক্লাস করা ভাল না প্রাইভেট পড়া ভাল? আমার এবারের আলোচনার বিষয়টি প্রাইভেট হওয়ার, প্রাইভেট কোচিং নিয়ে যে বিতর্কের অবতারণা ঘটেছে তা নিয়ে কিছু বাক্য বিলাপের প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।

আউল বাউল লালনের দেশে মাইকেল জ্যাকসন এলো রে/আরে সবার মাথা খাইলরে/আমার প্রাণের দোতারা কান্দে রে/ আমার সাধের সারিন্দা কান্দে রে । ঢাকা- ৮৬ ছবিতে রাজ্জাকের লিপচিং এ গানটি আজও মনে গেথে আছে এই ভেবে যে আমার ও পড়াশুনা করেছি, আমার বাবা এবং তার বাবাও পড়াশুনা করেছে কিন্ত এত জটিলতা ছিল না। এই যুগে কি যে এক মাইকেলি শিক্ষা ব্যবস্থা এলো শিক্ষক পড়াশুনা করে না শুধু কাট-কপি-পেস্ট করে নাম বদলিয়ে ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করে খালাস ।

তবে প্রাইভেট কোচিং এ মনোযোগ ষোল আনা। শহরের নামকরা স্কুলগুলিতে ও নাকি প্রাইভেট না পড়লে ঐ বিষয়ে; ঐ শিক্ষক যথাপোযুক্ত নম্বর দেন না। পরিতাপের বিষয়টি হচ্ছে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষায় নাকি সুকৌশলে অনৈতিক কাজ করেন শিক্ষা গুরু । এই বিষয়ে ও প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করেন এমন অভিযোগ অভিভাবক মহল থেকে এসেছে ।

স্থুলকথা হচ্ছে, শিক্ষকগণ প্রাইভেট পড়াবেন কেন?যতদিন শিক্ষার্থী বনাম শিক্ষকের অনুপাত যথাপোযুক্ত হবে না ততোদিন পিছেপড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমবে না, তখন ব্যাক্তিগত উদ্বেগের শিক্ষা গ্রহন করার প্রবনতা ও প্রযোজন কোনটাও কমবে না। তবে উচ্চবিত্ত কিছু অতি উৎসূক অভিভাবক এর সন্তান কে প্রতিযোগীতার মধ্যেদিযে প্রথম /দ্বিতীয়/তৃতীয় করার মনোবাসনা প্রাইভেট ব্যাবসায়ীদের উস্কে দেয়। তারা জানে গরীব মেধাবীদের প্রাইভেট পড়তে পারবে না, এমনিতেই তখন পিছিয়ে যাবে।

বেতন/ভাতা কম? এ অযুহাতের কথা থাকবেই । বেতন বাড়ালে আবার দ্রব্যমূল্য হু-হু করে বেড়ে যায় । তবে, বেতন ভাতা কম এটি যেমন সত্য , তেমন সত্য, প্রাইভেটটা যে শিক্ষকের কাছে নেশা এবং পেশা তার একলক্ষ টাকা বেতন হলেও প্রাইভেট ব্যবসা বন্ধ করবেন না।

পাসপোর্ট অফিসে যেমন বহি:র্গমনেচ্ছুক মানুষ জিম্মি , কিছু শিক্ষকের কাছে ও শিক্ষার্থীরা জিম্মি।

অনেকটা ডাক্তারদের প্রাইভেট চেম্বার যেমন বন্ধ করা কঠিন তেমনি শিক্ষকগণের প্রাইভেট ব্যবসা বন্ধ করাও অনেক সুদূর পরাহত।

কারন এই মুহূর্তে সরকারের পক্ষে অবকাঠামো সমস্যা, শিক্ষক সমস্যা, বেতন সমস্যা এবং দ্রব্যমূল্যের লাঘাম টেনে ধরা সম্ভব নয় ।

একই ধরনের আরও সংবাদ