অধিকার ও সত্যের পথে

শিক্ষকদের অনশনে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো ফুলে ফেপে উঠেছে প্রেসক্লাব অঙ্গন

 এ এইচ এম সায়েদুজ্জামানঃ

গতকাল শিক্ষকদের আমরন অনশন থেকে বাসায় ফিরে যখন চেয়ার-টেবিলে বসি হঠাৎ ঘড়ির দিকে নজর গেল তখন রাত ১১ টা। বাসায় আসতে একটু বেশি রাত্র হলো কার আমার পরম শুভাকাক্ষী কুমিল্লার হোমনা আদর্শ বিদ্যালয়ের মোঃ আমিনুল ইসলাম স্যার অনশনে অবস্থান করছেন ।

আমরন অনশনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করলাম। অনশনের দৃশ্য এতটায় করুন তা বর্ণনা করার মতো নয়। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় জাতীর বিবেক ঘুমায়। কেউ ঘুমায় আবার কেউ শীতে ঠান্ডায় কাপছে। তখন মনে হলো এ তো কোন শিক্ষক কাপছে না গোটা জাতী কাপতেছে। শীত নিবারনের জন্য লেপের পরিবতে ব্যবহার করছে পলিথিন।ফেসবুকে ঢুকতেই চোখে পড়ল হ্নদয়গ্রাহী কমেন্টস এ। মোহাম্মদ শাহজামান শুভ নামের একজন লিখেছেন-আমার সহকর্মীরা খোলা আকাশের নীচে, কুয়াশা ঘেরা প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়করণের (দেশের বৃহত্তর সার্থ) আন্দোলনের আমরণ অনশনে আছে আর আমি লেপ তোশকে শুয়ে আছি। আমায় ক্ষমা কর প্রভু।

কাজী আমজাদ নামের একজন লিখেছেন-

জাতীয়করণের আন্দোলনে প্রেসক্লাবে খোলা আকাশের নিচে শুয়ে আছি আমরা বাতাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বৃন্দসহ অন্যান্য শিক্ষক মণ্ডলী। জাতির বিবেককে জাগ্রত করুন এবং আপনিও জেগে উঠুন।

 বগুড়া থেকে আগত নুরুল হক নামের এক শিক্ষক লিখেছেন-

জাতীয়করন চাই,দিতে হবে
রাবিশ-খবিশ নিপাত যাক,
বেশিক সমাজ মুক্তি পাক।।
ভয় করিনা বুলেট-বোমা,
জেগেছি মোরা বেশিক সেনা।।
একাধিক”দফা”র নেতার কপালে,
ঝাড়ু মারেন তালে তালে।।
চারিদিকে শুধুই শুনি,
জাতীয়করনের জয়ের ধ্বনি।।
করুনা নয় মোদের অধিকার,
শিক্ষাবান্ধব ডিজিটাল সরকার।।
শুনবো না আর বাহানা,
মাননীয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।।
জয় হোক মানবতার—-

হোমনার শিক্ষক আমিনুল ইসলাম লিখেছে–

পীর মুর্শিদ আওলীয়ার দেশ

শিক্ষক হইয়া হইলাম শেষ।

সিলেটের এক শিক্ষক লিখেছন-

হয় গুলি কর, নতুবা জাতীয়করণ কর। এই রকম অসংখ্য কমেন্ট এখন ফেসবুকে।

নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার প্রধান শিক্ষক জনাব বাছেত আলী স্যার সহ অসংখ্য শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন।দিন দিন অসুস্থতার পাল্লা যেমন ভারী হচ্ছে অন্যদিকে  সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো ফুলে ফেপে উঠেছে  শিক্ষকদের পদচান ায় প্রেসক্লাব অঙ্গন। জাতীর বিবেক

 খোলা আকাশের নিচে আর কতদিন এই প্রশ্ন সবার।

একই ধরনের আরও সংবাদ