অধিকার ও সত্যের পথে

প্রহসনের শিকার যেন না হয় বিবিজানেরা

 প্রকৌশলী সাব্বির হোসেন:
মানবতা! মানবতা! এই মানবতাকে নিয়ে কাজ করতে রাষ্ট্র তৈরি করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। কেন্দ্রিয় সরকার সবক্ষেত্রে যেতে সময় সাপেক্ষ বিষয় তাই গড়ে উঠেছে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় এসে জেলা পরিষদ পূনরায় চালু করেন যেন স্থানীয় সরকার আরো শক্তিশালী হয়, মানুষ যেন দ্রুত সময়ে সেবা পায়। যখন এই স্থানীয় সরকার কাঠামোর মূল্যায়ন করার সময় আসবে তখন আমরা জানতে পারব বাস্তবে স্থানীয় সরকার কতটা সফল।
সময়ের আলোচিত কয়েকটি ঘটনা সরকারী সুযোগ প্রত্যাশীদের আহত করেছে যা আমরা প্রত্যাশা করিনা। রহিমন, পিতা মৃত গাদু মিয়া, গ্রাম আক্তাপাড়া, শ্রীপুর, গাজীপুর, ৯০ বছরেও পায়নি বয়স্কভাতা কার্ড। ওয়ার্ড মেম্বারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি পাত্তা দেননি ভুক্তভোগীকে। একই ঘটনা ঘটেছে শহরবানু, গ্রাম সিংগারদিঘী, থাকছে ভাঙ্গা, চটের বেড়ার ঘরে, হয়নি তার কোন ভাগ্যের উন্নয়ন।
গত একুশে সেপ্টেম্বর ২০১৭ কয়েকটি অনলাইন নিউজ সহ জাতীয় কয়েকটি দৈনিকে ৮৭ বছর বয়স্ক বিবিজানের ছবি যুক্ত সংবাদ প্রচার হয়, তিনি বয়স্ক কার্ড পেয়েছেন। সেই ছবিতে ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, গাজীপুর জেলা সমাজসেবা উপপরিচালক শংকর শাহা ও ডজন খানিক সাংবাদিক সহ, শিক্ষক, ওয়ার্ড মেম্বার, শিক্ষার্থী এমনকি পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারি বৃন্দ। বাস্তবতা এতোটাই নিষ্ঠুর যে সেই বিবিজান আজও পায়নি সেই কার্ড। জীবনের বাতী নিভে যাওয়ার পর কি বিবিজান পাবে সরকারী সহযোগিতা? প্রশ্নটি বিবিজানের প্রতিবেশিদের।
রাষ্ট্রের সিনিয়র এই নাগরিকদের পাশে যদি স্থানীয় সরকারের একটু সহযোগিতা পৌঁছে দেয়া যেত ভাল থাকতো অসহায় মানুষগুলি। সমাজের পরতে পরতে এমন না জানি কত শত বিবিজান, রহিমন কিংবা শহরবানুদের বাস। স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে একটা সার্চ টিম তৈরি করা যেতে পারে যাদের তত্তাবধানে থাকবে স্থানীয় কলেজের প্রিন্সিপাল। এই টিমের কাজ থাকবে প্রতিটি এলাকায় অসহায় মানুষের তালিকা তৈরি এবং সহযোগিতার জন্য স্থানীয় সরকার কিংবা সমাজসেবা অধিদপ্তরে সুপারিশ পাঠানো। এবং প্রেরণকৃত সুপারিশ অনুযায়ী সেই সকল অসহায় মানুষ সহযোগিতা পেল কিনা তার রিপোর্ট প্রকাশ করা। সম্প্রতি হোসেন আলী ও সাহারা দম্পতির পানির সংকট নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিন সহ কয়েকটি অনলাইন ও জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রচার হয়েছে। পানিসংকটের ঘটনা ২০১৮ সালে কি ভাবা যায়? মধ্যম আয়ের দেশে যখন আমরা প্রবেশ করছি তখন এমন ঘটনা আমাদের আহত করে। প্রশ্ন উঠে স্থানীয় সরকার বা সমাজসেবা অধিদপ্তর কি কাজ করে যে অসহায় দম্পতি পানির জন্য হাহাকার করে? মোঃ আরফান মন্ডল, গ্রাম লোহাগাছ, শ্রীপুর, গাজীপুর কিডনি ও লিভার অসুখে আক্রান্ত হয়ে সে হারিয়েছে কর্মক্ষমতা আর ধারে ধারে ঘুরে পায়নি কোন সেবা, আবেদন পত্র জমা নিয়েই শেষ।
এতো সরকারী চিকিৎসক, সরকারী হাসপাতাল, সরকারী ওষুদের জন্য ব্যয় হচ্ছে কোটি কোটি টাকা এর পরও নূন্যতম সহযোগিতা নেই আরফানের মত অসহায়দের জন্য। আবার এই অসহায়দের খোজে বের করছে কিছু সমাজসেবক যারা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করে কিংবা কিছু সেচ্ছাসেবী সংগঠন যারা অসহায়দের নিয়ে কাজ করে। অথচ এই কাজ স্থানীয় সরকার ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের। রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের প্রত্যাশা সমাজসেবা অধিদপ্তর সমাজসেবায় মনোযোগী হবে। স্থানীয় সরকার হবে আরো জনবান্ধব।
লেখক : প্রকৌশলী সাব্বির হোসেন
              শ্রীপুর, গাজীপুর
একই ধরনের আরও সংবাদ