অধিকার ও সত্যের পথে

একজন শিক্ষিকার আকুতি

 নিজস্ব প্রতিনিধি

আমি একজন নারী শিক্ষক বলছি,,,,,আমার জীবন এখন চলছে প্রতি মূহুর্তে সময়ের সাথে যুদ্ধ করে। ভোর পাঁচ টা পঁয়তাল্লিশ থেকে এক সাথে দুই চুলায় রান্না শুরু করি প্রতিদিন। দুই হাত একই সাথে ব্যাস্ত থাকায় সকালে গরম চা ঠান্ডা হয়ে যায়,,অথচ প্রচন্ড শীতে গরম চায়ে চুমুক দিয়ে আরাম করা আর হয়না আমার। টার্গেট সাড়ে আট টা। এর মধ্যেই রান্না শেষ করে মেয়েকে খাইয়ে নিজে স্নান করে প্রস্তুত হয়ে সাড়ে আটটার মধ্যে ঘর থেকে বেরোতেই হবে, নইলে যে নয়টার মধ্যে বিদ্যালয়ে পৌছুতে পারব না। চুল আচড়াই মাথার সামনে থেকে,, পেছনের চুল আচড়ানোর যে সময় নেই। বাসে প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন যাত্রী অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে আমার অর্ধেক চুল আচড়ানো মুখের দিকে!! ছেলে কে মায়ের কাছে রেখে মেয়ে কে নিয়ে বিদ্যালয়ে পৌছাই প্রচন্ড কুয়াশার ভেতরে। সকালে ভাত খেয়ে যাবার সময় নেই,,,তাহলে যে নয়টার মধ্যে বিদ্যালয়ে পৌছাতে পারব না!! বিদ্যালয়ে গিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়ি সকল শিক্ষক এবং ছাত্র ছাত্রী মিলে বিদ্যালয় আর আঙিনা পরিষ্কার করার কাজে। সাড়ে নয় টায় ক্লাস শুরু। পেট এবং মন খিদেয় বিদ্রোহ শুরু করে। মন কে বলি,,,ধৈর্য ধর রে মন,, এখন যে অবশ্যই ক্লাসে যেতে হবে,,সাড়ে নয় টা যে বাজে। দুটো ক্লাস পরপর নিয়ে তারপর পাঁচ মিনিটে ভাত গলাধঃকরণ করি। সারা দিন কাটে বিদ্যালয়ে। নিজের সন্তান বাড়ি ফেলে এসে অন্যের সন্তানদের আদরে যত্নে শিক্ষা দানে ব্যাস্ত হয়ে থাকি সারাদিন,,,,,আমি যে শিক্ষক!!! সাড়ে চার টায় ছুটি। বাড়ি পৌছাই কমপক্ষে বিকাল পাঁচ টায়। আবার ব্যাস্ত হয়ে পড়ি সংসার আর সন্তানদের নিয়ে। রাত ১১ টার পর খাওয়া দাওয়া শেষে ল্যাপটপ নিয়ে বসি শিক্ষক বাতায়ন নিয়ে। এভাবেই ঘুম নষ্ট করে কন্টেন্ট তৈরি করে গতবছর সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা নির্বাচিত হয়েছি। আবার ভোর পাঁচ টায় শুরু হয় জীবনের দৌড়। বিদ্যালয়ের সময় ৯ টা থেকে শুরু না হয়ে ১০ টায় শুরু হলে একটু বোধ হয় স্বস্তি পেতাম সময়ের সাথে যুদ্ধ করে। মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রীর সাথে কোনদিন কথা বলার সুযোগ হলে এই প্রাণের আকুতি টুকুই জানাতাম”” আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সকাল ১০ টা থেকে হলে খুব ভালো হত”””। এতো যুদ্ধের মাঝে সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা হিসাবে a2i (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) থেকে পাওয়া এই অর্জন টুকু উৎসর্গ করলাম প্রতি মূহুর্তে সময়ের সাথে যুদ্ধ করা বাংলাদেশের সকল নারী শিক্ষকদের। শিক্ষিকার ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত।

সুবর্না রায় লিপা,সহকারী শিক্ষক,ত্রিপল্লী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। সৈয়দপুর, বোয়ালমারী, ফরিদপুর।

একই ধরনের আরও সংবাদ