অধিকার ও সত্যের পক্ষে

কুয়াশায় বিপর্যস্ত দেশ

 শিক্ষাবার্তা ডেস্ক:

ঘন কুয়াশায় দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় গতকাল রবিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় অর্ধ শতাধিক ফ্লাইটের আগমন ও যাত্রা বিলম্বিত হয়। ভোর চারটা থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ৮ ঘণ্টা পর দুপুর ১১টা ৪০ মিনিটে দৃষ্টিসীমা স্বাভাবিক হওয়ার পর আবার বিমান চলাচল শুরু হলে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল হাজার হাজার যাত্রীর ভিড়ে রীতিমতো বাজারে পরিণত হয়। এদিকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ার মধ্যে ফেরি চলাচল ভোর পাঁচটা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টা বন্ধ ছিল। মাওয়া ঘাটে ফেরি চলাচল রাত তিনটা থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টা একেবারে বন্ধ ছিল। আটটার পর দুই-একটি ফেরি ঝুঁকি নিয়ে চলা শুরু করে। বেলা ১১টার দিকে এই ঘাটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আবহওয়া অধিদপ্তরের কর্তব্যরত পূর্বাভাস কর্মকর্তা গত রাতে বলেন, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে; কিন্তু ঘন কুয়াশায় সূর্যের তাপ ভূ-ভাগে পৌঁছতে না পারায় দিনের তাপমাত্রা (সর্বোচ্চ তাপমাত্রা) বাড়ছে না। দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাচ্ছে। সে জন্যই মানুষ বেশি শীত অনুভব করছে। বাতাস পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাজশাহীর তাড়াশে গতকাল সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি ও ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ব্যবধান মাত্র ৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় গতকাল সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি ও ১৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ব্যবধান মাত্র ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই পরিস্থিতিতে মানুষের ঠান্ডার অনুভূতি অনেক বেড়ে যায়। সাধারণত শীতের দিনে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকে। তিনি আরো জানান, ঘন কুয়াশার কারণে গতকাল কোনো কোনো স্থানে দৃষ্টিসীমা ১ কিলোমিটারের নীচে নেমে আসে।

বিমানবন্দরে অবস্থিত মেইন মেট্রোলজিক্যাল অফিসে (এমএমও) কর্তব্যরত কর্মকর্তা জানান, শনিবার দিবাগত রাত ৪টা পর্যন্ত বিমানবন্দরের রানওয়ের দৃষ্টিসীমা ছিল ১৩২০ ফুট। এই দৃষ্টিসীমায় বড় বিমানের ওঠা-নামায় অসুবিধা হয় না; কিন্তু এরপর রবিবার ভোর ৫টায় দৃষ্টিসীমা নেমে আসে ৬৬০ ফুটে। সকাল ৭টায় ৩৩০ ফুটে নেমে আসে। সকাল ৮টায় দৃষ্টিসীমা আরো কমে ১৬৫ ফুটে নেমে যায়। বেলা ১১টা পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বিরাজমান ছিল। তারপর আবার দৃষ্টিসীমা বেড়ে ১১টার দিকে ৯৯০ ফুটে পৌঁছায়। বেলা ১২টায় সেটা ১৬৫০ ফুটে পৌঁছে যায়।

সিভিল অ্যাভিয়েশনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইকাও নিয়ম অনুযায়ী যত প্রকার ইন্সট্রুমেন্টই থাকুক না কেন দৃষ্টিসীমা ৩০০ ফুটের নীচে নেমে আসলে বিমান ওঠা-নামা বন্ধ করে দিতে হয়। দৃষ্টিসীমা ৩০০ ফুটের বেশি থাকলে বড় বিমানগুলো সাধারণত ওঠা-নামা করতে পারে; কিন্তু অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী ছোট আকারের বিমানের ওঠা-নামার জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ১৫০০ ফুট দৃষ্টিসীমা (সব বিমানের জন্য নয়) প্রয়োজন হয়। গতকাল যে সময়ে দৃষ্টিসীমা সবেচেয়ে কমে গিয়েছিল তখন ছিল ব্যস্ত সময়। অভ্যন্তরীণ রুটের বিমানগুলোর বিভিন্ন রুটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার সময় ছিল সেটি। সেকারণে গতকাল আন্তর্জাতিক টার্মিনালের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ টার্মিনালেও যাত্রী চাপ ছিল অস্বাভাবিক রকম বেশি। বহির্গমন ও আগমন লাউঞ্জে রীতিমতো বাজারের পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে।

গতকাল আবহাওয়া বিভাগের দাপ্তরিক পূর্বভাসে বলা হয়েছে, টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বিরাজমান শৈত্যপ্রবাহ পরিস্থিতি দেশের আরো কিছু এলাকা থেকে প্রশমিত হতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা কোথাও কোথাও দিনের বেলা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী জানান, ঘন কুয়াশার কারণে রাজশাহী অঞ্চলের তাপমাত্রা বাড়ছে না। দুপুরের দিকে সামান্য সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও তা তেমন উত্তাপ ছড়াচ্ছে না। ফলে কমছে না শীতের দাপট। টানা শীত এ অঞ্চলের মানুষকে প্রায় বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বেশি কষ্ট পাচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। ছিন্নমূল ও কর্মজীবী মানুষও পড়েছে বিপাকে। শীত থেকে রক্ষা পেতে মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শরীর গরম করছে।

রংপুর প্রতিনিধি জানান, রংপুরে গত দুই সপ্তাহের একটানা শৈত্যপ্রবাহ আর কনকনে হিমেল হাওয়ায় মানুষ জবুথবু হয়ে পড়েছে। গতকাল রবিবার রংপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।।

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি ও শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সকালে দীর্ঘ সময় ফেরি বন্ধ থাকায় যানজট দেখা দেয়। তবে দুপুরের পর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

একই ধরনের আরও সংবাদ