অধিকার ও সত্যের পথে

শীতের দিনে উষ্ণতা ছড়িয়ে দিন

 আরাফাত শাহীনঃ
বেশ কিছুদিন ধরে দেশে প্রচুর শীতের প্রকোপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।উত্তরাঞ্চলসহ প্রায় সারাদেশে শৈতপ্রবাহের দরুণ শীতের মাত্রাটাও একটু বেশি।এরমাঝে একদিন দেশ এযাবৎ কালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও লক্ষ্য করেছে।শীতকালে শীত পড়বে এটা তো স্বাভাবিক একটা ব্যাপার।
তবে বিগত বছরগুলোতে শুধু বাংলাদেশেই নয়,বিশ্বের প্রায় সবগুলো দেশেই জলবায়ুর প্রভাবজনিত কারণে শীতের মাত্রা ও তীব্রতা অনেক বেশি।এটা আসলে আমাদের কর্মফল।আমরা আমাদের পরিবেশকে নিজেদের স্বার্থে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছি। নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য গাছপালা কেটে বনভূমি উজাড় করেছি।আমরা যেমন পরিবেশের সাথে বিরূপ আচরণ করেছি তেমনি পরিবেশও আজ আমাদের সাথে বিরূপ আচরণ করছে।
পরিবেশের এ বিরূপ আচরণের দরুণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে সমাজের নিম্ন আয়ের দরিদ্র মানুষগুলো।যাদের দিন এনে দিন খেতে হয় তারা এ তীব্র শীতে কর্মক্ষেত্রে বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছে।তীব্র শীতের রাতে রাস্তার পাশে ফুটপাতে বসে যারা ঠকঠক করে কাঁপতে থাকে,তাদের কষ্টের তীব্রতা আমরা আসলে কতটুকু অনুভব করতে পারি? সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষ -যাদের শীতের পোশাক কেনার মত সামর্থ্য নেই;এই শীতে তারা অবর্ণনীয় কষ্টের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।তাদের সেই কষ্টমাখা মুখগুলো কি আমাদের বিবেকবোধকে এতটুকু নাড়া দিতে পারেনা!ছোটছোট শিশু সন্তানেরা এই শীতের রাতগুলো কিভাবে অতিক্রম করছে আমাদের একটু অনুভব করা উচিত।

অপরদিকে আমাদের সমাজের বিত্তশালী মানুষদের জন্য শীত আসে আনন্দের বার্তা নিয়ে।শীতের নানারকম পিঠা-পুলি আর পায়েস খাওয়া নিয়ে তারা তাদের দিনগুলো পার করে দেয়।তাদের পাশেই যে কতশত অসহায় মানুষ শীতের তীব্রতা সহ্য করতে গিয়ে গলদঘর্ম হচ্ছে সেদিকে তাদের কোনো খেয়াল নেই। নিজেদের আনন্দের দিনে আমরা যদি সমাজের অসহায় মানুষগুলোর দিকে একটু না তাকাই তাহলে সমাজে সাম্য ও সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত হবে কিভাবে? গরম পোশাক পরে আমরা যখন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাই তখন রাস্তার ঠিক পাশেই খালি গায়ে পড়ে থাকা মানুষগুলোর দিকে আমাদের একবার তাকানো উচিত।তাদের আবদারকে উপেক্ষা করে আমরা যেতে পারিনা।

আসুন,আমরা সবাই একটু মানবিক হই।একজন শীতার্ত মানুষের গায়ে একটি গরম কাপড় তুলে দেওয়া আমাদের জন্য কঠিন কোনো ব্যাপার নয়।তার জন্য যে খুব বেশি সম্পদ ব্যয় করতে হয় তাও নয়।শুধুমাত্র আমাদের একটু আন্তরিক ইচ্ছা এই মহৎ কর্মটিকে বেগবান করতে পারে।একটু মমতা ও সহানুভূতির দৃষ্টি দিয়ে আপনার পাশের মানুষগুলোর দিকে তাকান।দেখবেন,প্রবল আশা নিয়ে তারা আপনার মুখের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। তাদের আশাহত করবেন না।

এটা তাদের প্রতি আমাদের দয়া নয়।এটা তাদের প্রাপ্য অধিকার।আসুন,এই শীতের দিনগুলোতে সমাজের প্রতিটি আনাচেকানাচে উষ্ণতা ছড়িয়ে দিই। সবাই মিলে ভালো থাকার আলাদা একটা আনন্দ আছে।সেই আনন্দ থেকে আমরা বঞ্চিত হবো কেন?
লেখক-শিক্ষার্থী,

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়,  রাজশাহী। 
একই ধরনের আরও সংবাদ